Tranding

01:17 AM - 07 May 2026

Home / National / পহেলগামের পর "জাতীয় সুরক্ষা"র অজুহাতে গুজরাটের ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হল

পহেলগামের পর "জাতীয় সুরক্ষা"র অজুহাতে গুজরাটের ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হল

প্রশাসন জানিয়েছে চান্দোলা লেকের প্রথম পর্বে ১.৫ লক্ষ বর্গমিটার ফাঁকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে ২.৫ লক্ষ বর্গ মিটার ফাঁকা করা হয়েছে ২০ মে। এই ঘটনার পর থেকেই অন্তত ৬,৫০০ মানুষকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আটক করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক, যাদের কাছে বৈধ নথি যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি রয়েছে।ন

পহেলগামের পর "জাতীয় সুরক্ষা"র অজুহাতে গুজরাটের ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হল

পহেলগামের পর "জাতীয় সুরক্ষা"র অজুহাতে গুজরাটের ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হল 
 

 27 May 2025  


ভোটের কার্ড, আধার কার্ড রয়েছে সবই। তবু উচ্ছেদের মুখে পড়তে হয়েছে ৮ হাজার পরিবারকে। গুজরাটের চান্দোলা লেকে আরও বড় মাপের উচ্ছেদ অভিযানে নামছে প্রশাসন।
সোমবার গুজরাটের ভুজ এবং দাহোদে জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যেও সরকার বিজেপি’র। মোদী একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। 
রাজস্থানের পর গুজরাটেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ছিল সেনা অভিযানের প্রচার। রাজনীতির বিভিন্ন অংশেরই বক্তব্য, রাজনীতির ফয়দা তুলতে সেনা অভিযানকে ব্যবহার করেই চলেছেন মোদী।
কিন্তু আমেদাবাদের চান্দোলা লেক এলাকায় উচ্ছেদের পক্ষে প্রশাসনের প্রচার নজর টেনেছে বিভিন্ন অংশের। গত ২৯ এপ্রিল গুজরাট হাইকোর্ট প্রশাসন বলে যে ‘জাতীয় সুরক্ষা’র জন্য এই উচ্ছেদ জরুরি। এখানে দখলদারি করে যারা বসবাস করছে তাদের সম্পর্কে পহেলগাম সংক্রান্ত ‘স্পর্শকাতর তথ্য’ মিলছে। 
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়। ২৫ জন পর্যটককে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন স্থানীয় টাট্টুচালকও। স্থানীয়রাই আহতদের হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দেশময় শুরু হয় মুসলিম এবং কাশ্মীরী বিরোধী প্রচার।
সেই আবহেই হাইকোর্টে এই বসতি এলাকার বাসিন্দাদের ‘বহিরাগত’, ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশী’ তো বটেই, প্রচার চলে ‘রোহিঙ্গা’ উচ্ছেদের পক্ষেও। 
প্রশাসন জানিয়েছে চান্দোলা লেকের প্রথম পর্বে ১.৫ লক্ষ বর্গমিটার ফাঁকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে ২.৫ লক্ষ বর্গ মিটার ফাঁকা করা হয়েছে ২০ মে। 

এই ঘটনার পর থেকেই অন্তত ৬,৫০০ মানুষকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আটক করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক, যাদের কাছে বৈধ নথি যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি রয়েছে।

গুজরাট হাইকোর্ট ২৯ এপ্রিল এই উচ্ছেদ অভিযানকে বৈধ ঘোষণা করে জানায়, চাঁন্দুলা লেকের জমিতে থাকা বসতিগুলো অননুমোদিত। আদালতের এই রায়ের পর প্রশাসন পুনরায় অভিযান শুরু করে। এর আগেই ২৮ এপ্রিল সিয়াসতনগর ও বাঙালি বাস এলাকায় ৪ হাজারের বেশি ঝুপড়ি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই উচ্ছেদেও হাজারো দরিদ্র পরিবার গৃহহীন হয়, যাদের অনেকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা দিনমজুর ও র‍্যাগপিকার।

এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বহু মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।বর্তমানে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অথচ, প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত পুনর্বাসন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

প্রশাসন যদিও দাবি করেছে যে বৈধ কাগজপত্র থাকলে আবাসন দেওয়া হবে। বাসিন্দারা নিশ্চিত, কোনও কাগজপত্রকেই বৈধ বলা হবে না।

 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do