যারা আমাদের দেশটাকে সুচতুরভাবে নিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে..তাদের তৈরি করা অমানবিক, অগণতান্ত্রিক নিয়ম এর বিরুদ্ধে আমাদের এই গান- ‘নিজেদের মতে নিজেদের গান’ – আমাদের সুর ভাবনা ছড়িয়ে পড়ুক পথ থেকে পথে, বুক থেকে বুকে”।
একটা সাহসী গান। ফ্যাসিস্ট বিরোধী। রাষ্ট্রশক্তির মুখের ওপর গেয়ে যাওয়া ।পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন । এক গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্ত মোর্চা থাকা সত্ত্বেও খবরের চ্যানেলগুলো মোটামুটি দ্বিমুখী লড়াই প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চালাচ্ছে । সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ প্রতিষ্ঠার , রুজি রোজগার . প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের ছবি উঠে আসে এই গানে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড যখন দলবদলের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে, তখন সিনেদুনিয়ার শিল্পীদের একাংশ গানটি বেঁধেছেন। যে গানের প্রতিটি ছত্রে উঠে এসেছে কৃষক আন্দোলনের কথা। নারীর ওপর মধ্যযুগীয় অত্যাচারের কথা।
বৃহস্পতিবার সন্ধেতেও ইউটিউবে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার পাঁচ হাজারও পেরোয়নি। বুধবার সেখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে মাত্র একটি গান। একদিনের মধ্যেই ওই একটি গানের ভিউজ এক লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। পরিচালক অনুভব সিনহা উচ্ছ্বসিত। গানের লিঙ্ক ফেসবুকে শেয়ার করে তাঁর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গকে ভালবাসি। ভাবুন তো অন্যও কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে এরকম একটি গান তৈরি হচ্ছে… কিন্তু না তা হয়নি।”
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিনেতা অভিনেত্রীরা যখন দলবদলের রাজনীতিতে মেতে উঠে ভোট চাইতে মত্ত , তখন সিনেমার শিল্পীদের একদল সমস্বরে গানটি বেঁধেছেন। যে গানের প্রতিটি ছত্রে উঠে এসেছে কৃষক আন্দোলনের কথা। উঠে এসেছে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, নারী সুরক্ষা ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ। না না এনআরসি - সিএএ নয় , নারীদের সুরক্ষা বিঘ্নিত। মুলত কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত এক নিয়ম ভাঙা গান। এ এক ‘তাসের দেশ'। কাদের তৈরি নিয়ম? ঘাড় বাঁকাতে নিষেধ করছে কারা? উত্তরও ওঁরা দিয়েছেন ইউটিউবের ডেসক্রিপশন বক্সে। সেখানে লেখা হয়েছে, “যারা আমাদের দেশটাকে সুচতুরভাবে নিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে..তাদের তৈরি করা অমানবিক, অগণতান্ত্রিক নিয়ম এর বিরুদ্ধে আমাদের এই গান- ‘নিজেদের মতে নিজেদের গান’ – আমাদের সুর ভাবনা ছড়িয়ে পড়ুক পথ থেকে পথে, বুক থেকে বুকে”।
গানটি লিখেছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সুর দিয়েছেন শুভদীপ গুহ। ভিডিয়োটির পরিচালনায় রয়েছেন ঋদ্ধি সেন এবং ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। গানটি গেয়েছেন অর্ক মুখোপাধ্যায়, শুভদীপ গুহ, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, অনুপম রায়, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকেই। পরিকল্পনা করেছেন । “মাথায় যা ছিল সব লিখে ফেলেছি।” অন্য দিকে, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই গান। খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই স্বৈরাচারের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হচ্ছে। শুধুমাত্র আজকের সময়ের জন্য নয়, যারাই ক্ষমতার শীর্ষে থেকে দম্ভ প্রদর্শন করবে, তাদের বিরুদ্ধেই এই গান।” সোশ্যাল মিডিয়াতেও আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি সমর্থনে থাকার কারনে গানটির সমালোচনা করেন। আবার নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সাহসী প্রত্যয়ী এই গান পছন্দ করেছেন হাজার হাজার।
গানটা আজই শুনুন।
বক্তব্য লেখকের নিজস্ব
We hate spam as much as you do