বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহুতল এই কারখানা ভবনটিতে আগুন লেগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২ জন মানুষ মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শ্রমিক বলে জানা যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: হাহাকারে শ্রমিক পরিবার, জুস কারখানার মালিক সহ আটজন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের যে কারখানায় আগুন লেগে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটির মালিকসহ আট জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকের এ তথ্য দেন।
তাদেরকে মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আটকদের মধ্যে হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ নামক কারখানাটির স্বত্বাধিকারী এমএ হাশেমও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহুতল এই কারখানা ভবনটিতে আগুন লেগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২ জন মানুষ মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শ্রমিক বলে জানা যাচ্ছে।
দমকল বাহিনী প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার বেশিরভাগ ফ্লোরের দরজা বন্ধ থাকায় মানুষ বের হতে না পেরে নিহতের এত ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জীবিত বা মৃত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা কম, তবে যদি পাওয়া যায় এই আশায় এখনো উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে যারা নিহত হয়েছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শনিবার মৃতদেহগুলোর ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।
নিখোঁজদের অনেক স্বজনকেই শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা গেছে।
কারখানাটির ভবনের চারতলায় তালাবদ্ধ থাকায় এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র না থাকার যে অভিযোগ করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসন, সে ব্যাপারে সজীব গ্রুপের মালিক এম. এ. হাসেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মালিকের পক্ষ থেকে ঐ গ্রুপের একজন ম্যানেজার কাজী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনার ক্ষেত্রে বড় অভিযোগ এসেছে যে, ভবনে তালাবদ্ধ ছিল, সেকারণে শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস এই অভিযোগ করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কারখানাটির মালিক পক্ষের কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "এটি মিথ্যা কথা, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
কিন্তু ফায়ার সার্ভিস বলেছে, আগুন নেভানোর পর তারা চারতলায় তালাবদ্ধ থাকায় একটি জায়গায় ৪৯ জনে মৃতদেহ পেয়েছেন। তাহলে সেটাকে কীভাবে মিথ্যা কথা বলছেন?
এই প্রশ্ন করা হলে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "যখন নীচ তলায় আগুনটা ধরেছে, তখন সবাই আতঙ্কে উপরে চলে গেছে।"
এখন এই যে এত মানুষের মৃত্যু হলো-এর দায়িত্বটা কে নেবে?
এই প্রশ্নে ইসলামের বক্তব্য হচ্ছে, "ডিসি মহোদয় এবং ডিআইজির সাথে কথা বলা হয়েছে। এটা আমাদের মালিক পক্ষ দেখবে। এদের ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ ম্যানেজমেন্ট দেবে।"
রূপগঞ্জের কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা উদ্বেগ জানিয়েছে: সংস্থাটি এক বিবৃতিতে নিহত ও আহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানা মালিক ও কতৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে আনছে।
We hate spam as much as you do