Tranding

02:25 AM - 14 May 2026

Home / Politics / ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল আক্রান্ত হলে সংঘ পাশে দাঁড়াবে RSS এর বার্তা 

ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল আক্রান্ত হলে সংঘ পাশে দাঁড়াবে RSS এর বার্তা 

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যখন রাজ্যজুড়ে প্রতিহিংসার রাজনীতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাল হয়ে দাঁড়াল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, পার্টি অফিস দখল বা তোলাবাজির মতো ঘটনা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরা।

ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল আক্রান্ত হলে সংঘ পাশে দাঁড়াবে RSS এর বার্তা 

ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল আক্রান্ত হলে সংঘ পাশে দাঁড়াবে RSS এর বার্তা 

13 মে 2026 

একসময় মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন  আরএসএস ভালো বিজেপি খারাপ। এমনকি আরএসএস এর পত্রিকায় মমতা ব্যানার্জিকে মা দুর্গা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল সেসব অনেক দিন আগেকার কথা। তারপর পনেরো বছর কেটে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গত কয়েকদিন হল বিজেপির অধীনে এসেছে


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সঙ্ঘের একাধিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের ওপর হামলা, পার্টি অফিস দখল, লুটপাট বা তোলাবাজির মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য আরএসএস কর্মীরা নীরবে মাঠে নেমে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন।

 

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যখন রাজ্যজুড়ে প্রতিহিংসার রাজনীতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাল হয়ে দাঁড়াল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, পার্টি অফিস দখল বা তোলাবাজির মতো ঘটনা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরা।
আরএসএস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় আইনের শাসন বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ রুখতেই সংগঠনটি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে হিংসা বা দখলদারির অভিযোগ এলে আরএসএস কর্মীরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংঘের পূর্ব ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা সক্রিয়ভাবে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের কাছে ফোন আসছে। আমাদের স্বয়ংসেবকেরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হল বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং হিংসা ও তোলাবাজির রাজনীতি বন্ধ করা।'


তিনি আরও জানান, তৃণমূল নেতারাও যদি রাজনৈতিক হিংসার শিকার হন, তাহলে তাঁদের আইনি সহায়তা দিতেও আরএসএস প্রস্তুত। তাঁর কথায়, 'আমরা চাই না বাংলায় আবার নতুন করে হিংসা ও দখলদারির সংস্কৃতি শুরু হোক।'

জিষ্ণু বসুর দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সল্টলেকে একটি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ক্লাব দখলের চেষ্টা হয়েছিল। সেখানে বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। তিনি বলেন, 'আমি নিজে সেখানে গিয়ে পতাকা সরিয়ে ক্লাবটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনি।'

 

আরএসএস সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু কলকাতাই নয়, বিভিন্ন জেলাতেও সংঘের কর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন যাতে কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা না ঘটে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এক তৃণমূল নেতা হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।

বিজেপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পর বাংলায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের বার্তা দেওয়াই এখন তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। বিজেপির বক্তব্য, ক্ষমতা পরিবর্তনের সুযোগে কেউ যাতে প্রতিহিংসার রাজনীতি না করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তবে বিজেপির অভিযোগ, বহু জায়গায় তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে ভাঙচুর বা দখলদারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য নেতারাও একই অভিযোগ তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, 'আমরা যদি আমাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে না রাখতাম, তাহলে আরও বড় হিংসা হতে পারত। অতীতে আমাদের ৩০০-র বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও আমরা শান্তির পথই বেছে নিয়েছি।'

Your Opinion

We hate spam as much as you do