ঘটনার সূত্রপাত ৫৫ বছরের এক মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় ৫০০০ হাজার উন্মত্ত জনতা হামলা চালায় ওড়িশার মালকানগিরি জেলার মারিওড়া পঞ্চায়েতের এক গ্রামে। হামলাকারীদের হাতে ছিল কুড়ুল, তরোয়াল, তীর-ধনুক। জেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামে অস্ত্রধারী জনতা ঢুকে জ্বালিয়ে দেয় একের পর এক বাড়ি, ঘরের জিনিসপত্র, পশু, যানবাহন।
মহিলা মৃত্যু! ওড়িশায় ফের বাঙালি আক্রান্ত, একশ বাঙালির বাড়ি পুড়িয়ে দিল
Mon, 08 Dec 2025
বাংলায় কথা বলাকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ বিজেপি শাসিত রাজ্যে আক্রান্ত বাঙালিরা। দিল্লি, জয়পুর, লখনউ, ছত্তীসগঢ়, মুম্বই, ওড়িশায় আক্রান্ত বাঙালিরা। বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি খাতুনকে তো বাংলা বলার জন্য বাংলাদেশেই পাঠিয়ে দিয়েছিল দিল্লি পুলিস। এবার ওড়িশার মালকানগিরি জেলায় বাঙালিদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল অস্ত্রধারী জনতা।
ঘটনার সূত্রপাত ৫৫ বছরের এক মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় ৫০০০ হাজার উন্মত্ত জনতা হামলা চালায় ওড়িশার মালকানগিরি জেলার মারিওড়া পঞ্চায়েতের এক গ্রামে। হামলাকারীদের হাতে ছিল কুড়ুল, তরোয়াল, তীর-ধনুক। জেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামে অস্ত্রধারী জনতা ঢুকে জ্বালিয়ে দেয় একের পর এক বাড়ি, ঘরের জিনিসপত্র, পশু, যানবাহন।
এখনওপর্য়ন্ত জানা যাচ্ছে এমভি বস্তির কমপক্ষে ১০০ বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিস বলেছে ঠিক কত বাড়িতে আগুনি দেওয়া হয়েছে তার হিসেবে এখনওপর্যন্ত পাওয়া য়ায়নি। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মালকানগিরির পুলিস সুপার বিনোদ পাটিল ও জেলাশাসক সোমেশকুমার উপাধ্যায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিএসএফকে।
কী থেকে এতবড় ঘটনা? পুসিস সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় পতেরু নদীতে ৫৫ বছরের লাকে পদিয়ামি নামে এক মহিলার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। তিনি ছিলেন কোয়া জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা চড়তে থাকে। তার পরই আচমকা ওই আক্রমণ। মহিলার মাথাটি এখনও পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শুভরঞ্জন মণ্ডল(৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই শুভরঞ্জন বাঙালি।
পদিয়ামি নামে এক মহিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ছেলে রবি পোডিয়ামি নিখোঁজ ডায়রি করেন। তার পরই তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার, দুদামাতলার কাছে বালিঘাটের বাসিন্দারা নদীতে একটি মাথাবিহীন দেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে দেহটি পোদিয়ামির বলে শনাক্ত করেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বাঙালিদের উপরে হামলা করা হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এতবড় ঘটনা। ঠিক কতগুলি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এমভি ২৬ বস্তির বাসিন্দা মহানন্দ বৈরাগী সংবাদমাধ্যমে বলেন, খুনের পর আমাদের আশঙ্কা ছিল হয়তো একটা হামলা হতে পারে। এখন আর এখানে নিরাপদ বলে মনে করছি না। আমরা তো সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।
এলাকায় এখনও তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। মৃত মহিলার পোস্টমর্টেম করতে দিতে রাজি নয় উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকজন। তার ফলে ওই মৃতদেহ এখনও পড়ে রয়েছে জেলা সদরে। গ্রাম পাহারা দিচ্ছে পুলিস ও বিএসএফ। এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
We hate spam as much as you do