কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ২০১৬-র ৮ নভেম্বর নোট বাতিলেক সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে আরবিআই আইনের ১৯৩৪-এর ২৬(২) ধারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর থেকে কমও কিছু নয়, আবার বেশিও কিছু নয়। এছাড়াও একজন বিচারপতির সংসদকে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে যে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন রমেশ।
নোটবন্দি! সুপ্রিম কোর্ট বলেছে বেআইনি নয় কিন্তু পক্ষে বলেনি- মিডিয়ার বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের যুক্তি
Monday, January 2, 2023,
নোটবন্দি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় যখন নিয়ে চারিদিকে মিডিয়া বলছে সুপ্রীম কোর্ট পক্ষে বলে সরকারকে স্বস্তি দিয়েছে বলে প্রচার চলছে সেই সময় কংগ্রেস দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্ট নোটবন্দিকে বহাল রেখেছে বলে, যে খবর সম্প্রচার করা হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর এবং ভুল। কংগ্রেসের তরফে পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের এক বিচারপতির ভিন্নমতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গত বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি নাগারথানা বলেছেন, সংসদকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি।
কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ২০১৬-র ৮ নভেম্বর নোট বাতিলেক সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে আরবিআই আইনের ১৯৩৪-এর ২৬(২) ধারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর থেকে কমও কিছু নয়, আবার বেশিও কিছু নয়। এছাড়াও একজন বিচারপতির সংসদকে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে যে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন রমেশ।
এদিকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা, নোট বাতিলের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনকারীদের আইনজীবী পি চিদাম্বরম সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে বলেছেন, এটি মেনে নিতে বাধ্য। তবে সেখানে কয়েকটি জিনিস রয়েছে, তা উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। চিদাম্বরম বলেছেন, এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠরা নোটবন্দির উদ্দেশ্যগুলি আদৌ অর্জিত হয়েছিল কিনা, তা পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, এই রায় বিরোধিতা পূর্ণ। যা সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ ভিন্নমতের মধ্যে স্থান পাবে।
পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে একমাত্র বিচারপতি নাগারথনাই কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি ২০১৬-র ৮ নভেম্বরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, আইন অনুসারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরই স্বাধীনভাবে নোটবন্দির সুপারিশ করা উচিত ছিল। সরকারের পরামর্শ তা করা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিন নোটবাতিল নিয়ে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে ৫৮ টি আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানকার সবকটি আবেদনই ছিল ২০১৬-র ৮ নভেম্বর ৫০০ ও হাজার টাকার নোট বাতিলের বিরোধিতা করে। সুপ্রিমকোর্টের তরফে এদিন বলা হয়েছে, নোট বাতিলের সেই সিদ্ধান্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল না। বিচারপতি গাভাই বলেছেন, আরবিআই আইনের ২৬(২) ধারায় ব্যাঙ্কনোটের পুরো সিরিজকে ডিমানিটাউজ করার কথা বলা হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট সিরিজকে নয়।
We hate spam as much as you do