Tranding

08:43 AM - 22 Mar 2026

Home / Sports / ধোনিকে টপকে IPLএ KKR স্টার রিঙ্কু সিং ছিল দরিদ্র, বাবা বাড়ি বাড়ি গ‍্যাস সিলিন্ডার দেন

ধোনিকে টপকে IPLএ KKR স্টার রিঙ্কু সিং ছিল দরিদ্র, বাবা বাড়ি বাড়ি গ‍্যাস সিলিন্ডার দেন

রিঙ্কু খুব একটা আর্থিক স্বচ্ছ্বল পরিবারে বড় হয়নি। তাঁর বাবা আজও বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আসেন। রিঙ্কু পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার আগে তাঁর পরিবার দেনার দায়ে কার্যত ডুবেছিল। কিন্তু, বর্তমানে সেই কঠিন দিনগুলো অনেকটাই সহজ হয়েছে।

ধোনিকে টপকে IPLএ KKR স্টার রিঙ্কু সিং ছিল দরিদ্র, বাবা বাড়ি বাড়ি গ‍্যাস সিলিন্ডার দেন

ধোনিকে টপকে IPLএ KKR স্টার রিঙ্কু সিং ছিল দরিদ্র, বাবা বাড়ি বাড়ি গ‍্যাস সিলিন্ডার দেন 

12 Apr 2023, 


২০২৩ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এখনও পর্যন্ত সেরা প্রাপ্তি হলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের ব্যাটার রিঙ্কু সিং। গতবারের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে তিনি শেষ পাঁচ বলে পাঁচটা ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। এমন একটি বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখার পর গোটা ক্রিকেট বিশ্বই কার্যত উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিল। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও এই ম্যাচটি একটি স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে। রান তাড়া করে ম্যাচ জেতানোর খাতায় রিঙ্কুর নাম যে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই হয়ে গেল, তা নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ইন্টারভিউয়ে রিঙ্কু একাধিক বিষয়ে মুখ খুলছেন। অতীতে তাঁর পরিবারকে যে কতটা আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, তাও উল্লেখ করলেন।


সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের দৌলতে একথা আজ আর কারোর জানতে বাকী নেই যে রিঙ্কু খুব একটা আর্থিক স্বচ্ছ্বল পরিবারে বড় হয়নি। তাঁর বাবা আজও বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আসেন। রিঙ্কু পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার আগে তাঁর পরিবার দেনার দায়ে কার্যত ডুবেছিল। কিন্তু, বর্তমানে সেই কঠিন দিনগুলো অনেকটাই সহজ হয়েছে।

ওই ইন্টারভিউয়ে রিঙ্কু বললেন, 'আমি পরিবারের জন্য সবকিছু করেছি। আজ সেই কঠিন সময় অনেকটাই কেটে গিয়েছে। বাবাকে বলেছি যে ওই কাজ যেন ছেড়ে দেয়। গত ৩০ বছর ধরে ওই একই কাজ উনি করে যাচ্ছেন। আজ যখন কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বললাম, তিনি বললেন যে ছাড়তে পারবেন না। এটা চালিয়েই যাবেন। আমি এবং আমার ভাইয়েরাও লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিলিন্ডার দিয়ে এসেছি। কেরিয়ারের শুরুর দিকে আমার বাবা চাইতেন না যে আমি ক্রিকেট খেলি। উনি চাইতেন ওঁর সঙ্গেই যেন কাজ করি এবং সংসারের আর্থিক কষ্টে কিছুটা হলেও সাহায্য করি। তবে মা সবসময় আমার পাশে ছিলেন।' আজ রিঙ্কুর পরিবার আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। তবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করার পর তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালান্স কতটা বেড়েছে, সেই ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাতে চাননি।

IPL-এর দ্বিতীয় সফল দল চেন্নাই সুপার কিংস। চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এরপ্রধান কারণ অবশ্যই দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০০৮ সাল থেকে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মাঝে কয়েকটা ম্যাচে তিনি না খেললেও তাঁকে সামনে রেখেই এগিয়েছে CSK। আর তিনি দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। এরউপর ভর করে চেন্নাই সুপার কিংসের মোট ভ্যালু গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬০০ কোটি টাকা। CSK-র মালিকানাধীন সংস্থা ইন্ডিয়া সিমেন্টসের মোট ভ্যালু ৬৮৬৯ কোটি টাকা। CSK-র মোট আয়ের বেশিরভাগ আগে মিডিয়া স্বত্ত্ব থেকে। BCCI IPL-এর সম্প্রচার স্বত্ত্ব বিক্রি করে যেই টাকা পায় তার ৪০-৫০ শতাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ভাগ করে দেয়। ২০২২ সাল থেক সম্প্রচার স্বত্ত্ব থেকে চেন্নাই পেয়েছে ২০১ কোটি টাকা। চলতি বছর এটা ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

স্পনসরশিপ ফ্র্যাঞ্চাইজির আয়ের অন্য়তম বড় উৎস। ব্র্যান্ডগুলো তাদের নাম জার্সিতে ব্যবহারের জন্য টাকা দিয়ে থাকে। গত বছর CSK স্পনসরশিপ থেকে ৬৫০ মিলিয়ন আয় করেছে বলে খবর। 

মার্চেন্ডাইজ
প্রতিটা দল তাদের জার্সি, কিট বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ আয় করে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২২ সালে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল CSK। ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই টাকাটা গিয়ে পৌঁছবে ৪০.৬ বিলিয়ন ডলার। CSK অফলাইন ও অনলাইনে মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে থাকে। এছাড়া একাধিক সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে থাকে। 

পুরস্কারমূল্য
পয়েন্ট টেবিলে একটা দল কোন স্থানে আছে তারউপর নির্ভর করে কত টাকা পাবে। এই পুরস্কারমূল্য থেকে কম পরিমাণে টাকা এলেও তা অন্যতম উৎস। গতবার জয়ী দল পেয়েছিল ২০ কোটি টাকা আর প্রথম রানার্স আপ পেয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। কোয়ালিফায়ার ২-তে পরাজিত দল পেয়েছিল ৭ কোটি টাকা। এলিমিনেটর থেকে ছিটকে যাওয়া দয় পেয়েছিল ৬.৫ কোটি টাকা। এবার এই পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। 


স্টেডিয়াম টিকিট
প্রতিটা দল তাদের হোম স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের জন্য টিকিট বিক্রির টাকা পেয়ে থাকে। ফ্র্যাঞ্চাইজির আয়ের ১৫ শতাংশ টাকা আসে এই স্টেডিয়াম টিকিট বিক্রি করে। 


এটাই কি তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করায় রিঙ্কু বললেন যে এটা এখনও পর্যন্ত তাঁর জীবনের সেরা ইনিংস, তা চোখ বন্ধ করেই বলতে পারবেন।


ভারতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে রিঙ্কু সিং বললেন, 'আপাতত আমি জাতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে ভাবছি না। এবারের আইপিএল টুর্নামেন্টে আমি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি, সেটাই আপাতত আমার প্রাথমিক লক্ষ্য।'


ছোটবেলার ভাইদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে হাত পাকিয়েছেন রিঙ্কু। গোটা পরিবারের মধ্যে রিঙ্কুই একমাত্র সদস্য যিনি নিজের প্যাশনকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পেরেছেন। তাঁর আর এক অবশ্য দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।


বললেন, 'আমার এক ছোট ভাই আছে। ও ক্রিকেট খেলা শুরু করেছে। ক্রিকেটের প্রতি ওর যথেষ্ট ঝোঁক রয়েছে। তবে আইপিএল চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ক্রিকেটার কতটা পরিশ্রম করছেন এবং নিজের দক্ষতা কতটা শানিত করতে পারছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।'

সবশেষে রিঙ্কু বললেন, 'আইপিএল টুর্নামেন্টে পা রাখাটা খুবই কঠিন। প্রথমে তো ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনাকে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬-৭ বছর ধরে আমি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে গিয়েছি। পাশাপাশি দলের সাপোর্ট থাকাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'

Your Opinion

We hate spam as much as you do