সোনালী গুহর কান্না থেকে আরাবুলের নিজের পার্টি অফিস নিজেই ভাঙা , আমডাঙায় পথ অবরোধ ।
সংযুক্ত মোর্চা ও তৃনমুল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা। তারপর ?? বিধানসভা ভোটের প্রার্থী ঘোষনার পর কি হল ?
বিভিন্ন মতের নানা দলের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ সংযুক্ত মোর্চার যথাসাধ্য ঐক্যমত আর এক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষনার পরই অসন্তুষ্টদের বিশৃঙ্খলা ।
সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তালিকায় শুধু বামফ্রন্ট প্রার্থীদের নাম ঘোষণা
কংগ্রেস , আইএসএফ (ISF)-কে পাশে বসিয়ে সংযুক্ত মোর্চা তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু শুক্রবার প্রার্থী ঘোষণা করলেন ।
বিমান বসু নিজেই অবশ্য সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর সময় বলে দিলেন, “আজ যে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করছি তা কোনও কোনও ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বোঝাপড়া হয়নি।” বিমানবাবুর প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে গেলো। আই এস এফের সাথে বোঝাপড়ায় আর একটু সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন।
এদিন এগরা, পিংলা ও নন্দীগ্রামের প্রার্থীর নাম জানান নি। এদিকে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য সরাসরি বলেন, “আমাদের প্রার্থীর নাম সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি থেকে ঘোষণা হয়। তাই আমরা আজ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারলাম না। তবে রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি যে নাটক শুরু করেছে তাতে এই শক্তিকে সরাতেই হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা এক হয়েছি। আমাদের সঙ্গে আইএসএফ এসেছে। তবে এখনও কিছুটা সমস্যা আছে , সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।”
আইএসএফ নেতা বলেন, “আমরা আজ প্রার্থী ঘোষণা করছি না। তবে আমরা কলকাতা থেকেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবো দু’তিন দিনের মধ্যে। আমাদের প্রতীক আমরা পেয়ে যাবো।”
সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে একটা বক্তব্য থাকবে সেখানে সব শরিকের সই থাকবে। বামফ্রন্টের তরফে একটা ম্যানিফেস্টো প্রকাশিত হবে। তবে বক্তব্যকে অনুসরণ করেই বামফ্রন্টের আলাদা ম্যানিফেস্টো হবে। বামপন্থী তালিকায় নতুন আছে এবং ৪০ এর কম বয়সী প্রার্থী আছে।
অপর দিকে আজ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস । ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল ঘাসফুল শিবির। কালীঘাটে এদিন সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়।
নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ের তিনটি আসন ছেড়ে ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা তৃণমূলের। উল্লেখ্য, এবারের সবথেকে বড় চর্চা নন্দীগ্রাম আসন নিয়ে। নন্দীগ্রাম থেকে এবার ভোটে লড়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মমতা।তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন এবার একাধিক তারকা মুখ। এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে মমতা বলেন, 'খেলা হবে, দেখা হবে।' এদিন তৃণমূলনেত্রী বলেন, 'এটা স্মাইলি নির্বাচন।' ৯ মার্চ ইস্তেহার প্রকাশ করা হবে বলে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে তৃনমুল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষনার সাথে সাথে প্রত্যাশা মত টিকিট না পাওয়াদের বিক্ষোভ শুরু হয়। সোনালী গুহর কান্না থেকে আরাবুলের নিজের পার্টি অফিস নিজেই ভাঙা , আমডাঙায় পথ অবরোধ । একেবারে ধুন্ধুমার কান্ড। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেস আর কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ দল নয়। এমনকি একটা সাধারণ মঞ্চ নয়। টিকিট না পেয়ে মইনুদ্দিন শামস দল ছাড়ছেন। দিপেন্দু বিশ্বাস ক্ষুব্ধ । শতাব্দী রায় বললেন সাংসদরা সম্মান পাচ্ছে না। শম্পা দরিপা যিনি ছিলেন তৃনমুল ২০১৬ টিকিট না পেয়ে হলেন কংগ্রেস । জিতেই আবার তৃনমুল । এবার আবার টিকিট হল না। তবে এত সিনেমা অভিনেতা অভিনেত্রী খেলোয়াড় টিকিট পাওয়ায় পুরোনো তৃনমুল কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন তৃনমুলের পোড় খাওয়া নেতারা দলে দলে দল ছাড়ছেন। তাই নেতার বদলে অভিনেতারা দাঁড়াচ্ছেন। তবে যা হচ্ছে তাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ঐতিহ্য ধুলায় লুণ্ঠিত হচ্ছে একথা অনস্বীকার্য বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। আর নির্বাচনের আসল কারন মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা তা ক্রমশ পিছনে পড়ে যাচ্ছে । নির্বাচন শুধু কি নেতাদের ঝগড়া ? নাকি মানুষের উন্নয়নের এজেন্ডা নিয়ে প্রতিযোগিতা ? সেই প্রশ্নই উঠছে ।
We hate spam as much as you do