বিজ্ঞানীরা বলছেন নির্বিচারে অরণ্য নিধন করছি আমরা, আগ্রাসী মনোভাবে কৃষিক্ষেত্রের সম্প্রসারণ করছি আমরা, জমির ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছি, পশুপাখিদের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ছে, বিলুপ্ত হচ্ছে প্রজাতি, ধ্বংস হচ্ছে জৈব বৈচিত্র, মানুষ এবং প্রাণীদের সংস্পর্শ বাড়ছে। বাড়ছে পশু পাখিদের শরীরে বাসা বেঁধে থাকে রোগজীবাণু বা ভাইরাসের মানুষকে সংক্রমিত করার হার।
আমরাই কোভিডকে ডেকে এনেছি
সৌরভ চক্রবর্তী
newscopes.in 18th july 2021
যে পরিবেশের অংশ আমরা, যে পরিবেশের সবকিছুর মধ্যে প্রাণ আছে, এমন বিশ্বাস ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের, পরিবেশ মানুষ সমাজ একীভূত বলে একদিন ভেবেছিল মানুষ । আজ সেই আমরাই প্রকৃতি থেকে পরিবেশ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করলাম। নিজেদের অবিমৃষ্যকারিতার জন্য আজ বিপর্যস্ত করে তুললাম প্রকৃতিকে,আর এ কাজের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেরাই আহবান করলাম কোভিড ১৯ সহ অন্যান্য অতিমারীগুলিকে।
গতবছর আন্তঃসরকার সংস্থা IPBES বা ইন্টারগভর্ণমেন্টাল সায়েন্স পলিসি প্লাটফর্ম অন বায়ো ডাইভারসিটি এ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস, একটি কর্মশালা সংগঠিত করে। সেই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডক্টর পিটার ডাসজাক। তিনি বলেন, কোভিড ১৯ অতিমারী বা কোনও আধুনিক অতিমারীর বিষয়ে অবাক হওয়ার কোনও ব্যাপারই নেই। এ সেই মানুষেরই কাজ যার জন্য আজকের আবহাওয়া পরিবর্তন, নির্বিচারে অরণ্য নিধন , জৈব বৈচিত্রের ক্ষয় ক্ষতি এবং এ কাজের পরিবেশগত অভিঘাতেই আজকের এই অতিমারী। যেভাবে আমরা জমির ব্যবহারে পরিবর্তন এনেছি কৃষিকে প্রসারিত করেছি, নিবিড় করেছি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যথেচ্ছ উৎপাদন ও ভোগ করেছি, তাতে প্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এর ফলস্বরূপ বন্যপ্রাণী, প্রাণিজ সম্পদ, রোগজীবাণু এবং মানুষের মধ্যে সংস্পর্শ বেড়েছে।
এই পথেই আমরা অতিমারীতে পৌঁছে গেলাম।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসেই IPBES তার প্যান্ডেমিক প্রতিবেদনে বলে যে, উদ্ভূত রোগ গুলির দুই-তৃতীয়াংশ যেমন ইবোলা জিকা নিপা এনসেফ্যালাইটিস এবং প্রায় সবকটি অতিমারি ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচআইভি কোভিড ১৯ এর উৎস হল প্রাণীদেহে বাসা বেঁধে থাকা রোগজীবাণু বা ভাইরাস। মানুষ যখন প্রাণীদের সংস্পর্শে আসে এই রোগজীবাণু বা ভাইরাস প্রাণীর দেহ থেকে টপকে সরাসরি মানব শরীরকে সংক্রমিত করে। এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত ৭০ লক্ষ ভাইরাস যারা স্তন্যপায়ী এবং পাখিদের শরীরে বাসা বেঁধে আছে তার মধ্যে ৫ লক্ষ ৪0 হাজার থেকে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।
অতিমারী ঘটাতে সক্ষম রোগ-জীবাণুর জানা ভান্ডার হলো স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখিরা, যাদের মধ্যে রয়েছে শুয়োর,উট এবং হাঁস মুরগিরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন নির্বিচারে অরণ্য নিধন করছি আমরা, আগ্রাসী মনোভাবে কৃষিক্ষেত্রের সম্প্রসারণ করছি আমরা, জমির ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছি, পশুপাখিদের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ছে, বিলুপ্ত হচ্ছে প্রজাতি, ধ্বংস হচ্ছে জৈব বৈচিত্র, মানুষ এবং প্রাণীদের সংস্পর্শ বাড়ছে। বাড়ছে পশু পাখিদের শরীরে বাসা বেঁধে থাকে রোগজীবাণু বা ভাইরাসের মানুষকে সংক্রমিত করার হার।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লু এইচ ও র জরুরী কার্যক্রমের প্রধান ইব্রাহিম সোস ফল, একজন মহামারীবিদ। তিনি বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন,নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস, যথেচ্ছভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করে আমরা অতিমারি কে ডেকে এনেছি।
প্রয়োজন হল পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের বোঝাপড়া নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনা রচনা করা এবং তাকে কার্যকর করা, না হলে শেষের সেদিন ভয়ংকর।
We hate spam as much as you do