ইয়েচুরি এবং দেবরাজন তাঁদের ভাষণে সাম্প্রদায়িক সরকার, জঙ্গলরাজ, বন্য আইন এবং মুসলিম শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে আপত্তি তোলে আকাশবাণী ও দূরদর্শন। ইয়েচুরি বলেন, এটা আশ্চর্যের যে হিন্দি ভাষণে ওরা কোনও খুঁত খুঁজে পেল না। আর ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রেই আপত্তি তুলল। দেবরাজনের দাবি, তাঁর লেখার মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে একটি বিষয় ছিল। যেখানে অবধারিতভাবে মুসলিম শব্দটি এসে যায়। আমি অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওরা আমার দাবি মানতে অস্বীকার করে।
আকাশবাণী ও দূরদর্শন মোদী ও বিজেপি বিরোধী বক্তব্য বাদ দিচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সরকার, মুসলিম শব্দ ছেঁটে দিচ্ছে
17th May 2024
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক ভাষণে কোন কোন শব্দ বলা যাবে না, তাও নির্দিষ্ট করে দিল সরকারি প্রচারমাধ্যমগুলি। মোদীর 'গরিমা' ক্ষুণ্নকারী শব্দে কাঁচি চালানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে আকাশবাণী ও দূরদর্শন। সেই মাপকাঠিতেই 'মুসলিম' এবং 'সাম্প্রদায়িক কর্তৃত্ববাদী শাসন'এর মতো শব্দ ছাঁটাই করল আকাশবাণী ও দূরদর্শন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই শব্দবাছাইয়ে হাড়িকাঠে পড়েছেন দুই বিরোধী নেতা সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের ডি দেবরাজন।
শুধু এই দুটি নয়, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দূরদর্শন ও আকাশবাণী থেকে প্রচারের আগে তাঁদের লিখিত ভাষণ থেকে আরও কিছু শব্দ বাদ দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলে ইন্ডিয়া জোট শরিকরা একে বর্ণনা করেছে।
কেন্দ্রের কঠোর আইন প্রণয়ন, মুসলিম এসব শব্দ বাদ দেওয়ার জন্য দুই নেতাকে জানানো হয়েছে। ইয়েচুরির লিখিত ভাষণ থেকে প্রশাসনের দেউলিয়াপনা এবং ব্যর্থতার কথাও ছেঁটে ফেলতে হয়েছে নির্দেশানুসারে। বিরোধী দলগুলি সরকারি প্রচারমাধ্যমের মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে বলতে পারবে না যে এটা একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শাসন চলছে।
এ প্রসঙ্গে ইয়েচুরি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, হিন্দি ভাষণে কোনও অভিধান বহির্ভূত শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে তিনি মনে করেন না। এর মধ্যে ভুল কোথাও নেই। কলকাতা কেন্দ্রে রেকর্ড করা দেবরাজনের ভাষণেও মুসলিম শব্দটি ছেঁটে ফেলতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
ইয়েচুরি এবং দেবরাজন তাঁদের ভাষণে সাম্প্রদায়িক সরকার, জঙ্গলরাজ, বন্য আইন এবং মুসলিম শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে আপত্তি তোলে আকাশবাণী ও দূরদর্শন। ইয়েচুরি বলেন, এটা আশ্চর্যের যে হিন্দি ভাষণে ওরা কোনও খুঁত খুঁজে পেল না। আর ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রেই আপত্তি তুলল। দেবরাজনের দাবি, তাঁর লেখার মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে একটি বিষয় ছিল। যেখানে অবধারিতভাবে মুসলিম শব্দটি এসে যায়। আমি অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওরা আমার দাবি মানতে অস্বীকার করে।
প্রসার ভারতীর তরফে বলা হয়েছে, দূরদর্শন এবং আকাশবাণী নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত বিধি অনুসরণ করে। এটাই প্রথম নয় যে, এই দুই নেতার বক্তব্যে কাটছাঁট করা হয়েছে। এর আগে কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ থেকেও শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে অথবা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছিল। কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনও নেতা সরকারি প্রচারমাধ্যমের ভাষণে অন্য দেশের নিন্দা করতে পারবেন না। কোনও সম্প্রদায় বা ধর্মের প্রতি আক্রমণ করতে পারবেন না। আদালত অবমাননাসূচক কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য বলতে পারবেন না।
We hate spam as much as you do