সর্বোচ্চ আদালত তার আদেশে আরও উল্লেখ করেছে যে ১৬১ ধারার অধীনে কোনও অনুশীলনের অবর্ণনীয় বিলম্ব হতে পারে না এবং এটি বিচারিক পর্যালোচনার অধীন হতে পারে। এর আগে, তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যপালকে ভারতীয় সংবিধানের ১৬১ অনুচ্ছেদের অধীনে ক্ষমতা ব্যবহার করতে এবং রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় পেরারিভালান এবং অন্যান্য দোষীদের ক্ষমা করার জন্য বলেছিল।
রাজীব হত্যাকারীর মুক্তি ঘোষনা সুপ্রিম কোর্টের, পরিবারের ক্ষমার চার বছর পর
১৯৯১ সালের ২১ মে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে হত্যা করা হয়েছিল ভারতের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কে । সেই হত্যা হত্যা মামলায় দোষী এ জি পেরারিভালানকে আগেই জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার অপরাধে ৩১ বছর জেলে ছিলেন। তামিলনাড়ু সরকারের আবেদনের পর অবশেষে তাঁকে মুক্তি দিল শীর্ষ আদালত।
চলতি বছরের ৯ মার্চ, সর্বোচ্চ আদালত পেরারিভালানকে জামিন দেয় যখন তার ৩০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ কারাবাস হয়েছে এবং প্যারোলে বের হওয়ার সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও ইতিহাস ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট আগেই বলেছিল যে তামিলনাড়ুর গভর্নর পেরারিভালানের মুক্তির বিষয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে পেরারিভালানের ক্ষমার আবেদনটি উল্লেখ করা তামিলনাড়ুর গভর্নর সাংবিধানিকভাবে সঠিক ছিল কিনা তার রায় হিসাবে এই সিদ্ধান্তটি সামনে এসেছে।
সর্বোচ্চ আদালত তার আদেশে আরও উল্লেখ করেছে যে ১৬১ ধারার অধীনে কোনও অনুশীলনের অবর্ণনীয় বিলম্ব হতে পারে না এবং এটি বিচারিক পর্যালোচনার অধীন হতে পারে। এর আগে, তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যপালকে ভারতীয় সংবিধানের ১৬১ অনুচ্ছেদের অধীনে ক্ষমতা ব্যবহার করতে এবং রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় পেরারিভালান এবং অন্যান্য দোষীদের ক্ষমা করার জন্য বলেছিল। গভর্নর অবশ্য বিষয়টি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে উল্লেখ করেছেন। দোষীদের ক্ষমা করা নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে যে তামিলনাড়ুর রাজ্য মন্ত্রিসভা প্রাসঙ্গিক বিবেচনার ভিত্তিতে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত আরও জানিয়েছে যে ১৪২ ধারার অনুশীলনে, দোষীকে মুক্তি দেওয়া আদালতের পক্ষে উপযুক্ত।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পেরারিভালানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর হত্যায় ব্যবহৃত বেল্ট বোমায় ব্যবহারের জন্য একটি ৯ ভোল্টের ব্যাটারি কেনার। ১৯ বছর বয়সে গ্রেফতার হওয়ার পর পেরারিভালানের ১৯৯৯ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৪ সালে সাজা বদলে অন্য দুই অভিযুক্ত সান্থান এবং মুরুগানের সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
২০১৮তে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীর হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা ঘোষনা করেন তার ছেলে ও তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছিলেন তার পিতার এভাবেই মৃত্যু লিখেছিলেন সৃষ্টিকর্তা। রাজিব গান্ধীকে হত্যার প্রায় ২৭ বছর পরে এমন মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি বলেছিলেন, যে কারণেই মারা হোক না কেন, আমি ও বোন প্রিয়াংকা ভদ্র গান্ধী বাবার খুনিদের একেবারে মাফ করে দিয়েছি। আমি কোনো প্রকার হিংসাকে পছন্দ করি না। তিনি আরো স্বীকার করেন, আমরা জানতাম একদিন বাবাকে হত্যা করা হতে পারে।
আমরা জানতাম বাবাকে মরতে হবে। আমরা জানতাম দাদীকে মারা হতে পারে। রাজনীতিতে যখন আপনি ভুল শক্তির সঙ্গে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলবেন, এবং আপনি কোনো বিষয়ের পক্ষে অবস্থান নেবেন, তখন আপনাকে মরতে হবে। এটা একেবারে পরিষ্কার। রাহুল গান্ধী বলেন, আমার দাদী আমাকে বলেছিলেন তাকে হত্যা করা হতে পারে। আর বাবা! আমি তাকে বলেছিলাম, তাকে হত্যা করা হতে পারে। রাহুল গান্ধী বলেন, রাজনীতিতে আমাদেরকে কাজ করতে হয় শক্তির সঙ্গে, বড় বড় শক্তির সঙ্গে, যা কখনো স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় না। আপনাকে লড়াই করতে হয় এমন একটি ‘স্ট্রাকচারের’ সঙ্গে যা শক্তিশালী। তাদেরকে দেখা যায় না। কিন্তু তারা আপনাকে আঘাত করতে পারে। পিতা ও দাদির হত্যাকান্ড নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে হতাশ ছিলাম। আহত ছিলাম। আমাদের মধ্যে ভীষণ ক্ষোভ ছিল। কিন্তু যে করেই হোক, পুরোপুরি ক্ষমা করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে তামিলনাড়–তে এক নির্বাচনী র্যালিতে ২১ শে মে হত্যা করা হয় রাহুল গান্ধীর পিতা তখনকার প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে। এলটিটিইর এক আত্মঘাতী নারী তাকে হত্যা করে। এর আগে ১৯৮৪ সালে রাহুল গান্ধীর পিতামহী ইন্দিরা গান্ধীকে দেহরক্ষীরা হত্যা করে অক্টোবর মাসে। ওই ঘাতকদের সঙ্গে খেলা করতেন তখন রাহুল গান্ধী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাদিকে যখন হত্যা করা হলো তখন আমার বয়স মাত্র ১৪ বছর। তার খুনিদের সঙ্গে আমি ব্যাডমিন্টন খেলতাম। এরপর হত্যা করা হলো আমার বাবাকে। এটা করা হলো এমন একটি পরিবেশে যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একজন মানুষকে ১৫ জন নিরাপত্তারক্ষী বেষ্টন করে রাখেন।
We hate spam as much as you do