দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৪৯ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। ১৭৯ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও অনেকে আহত হয়েছেন। এক নারীর আঙুল কাটা গেছে। তিনি আরও বলেছেন, অতি-বামপন্থিরা এই সহিংসতার পেছনে ছিল। তারা সরকারকে ফেলতে চাইছে। পুলিশকে মারতে চাইছে।
৮ লক্ষ সরকারি কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
২৫ মার্চ ২০২৩
সরকারি চাকরিতে পেনশনের জন্য বয়স সীমা ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করায় কর্মী বিক্ষোভ উত্তাল গোটা ফ্রান্স। পার্লামেন্টের তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থ প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পরেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো জানিয়েছে, এই বছরের শেষ থেকেই এই নতুন পেনশন স্কিম কার্যকর করা হবে। সরকারি কর্মীদের পাল্টা প্রশ্ন : সরকার কি পেনশন দেওয়ার নামে মরার দিন পর্যন্ত কাজ করাতে চায় ? ৮ লাখ সরকারি কর্মী রাস্তায় নেমেছে। প্যারিসের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছে। জ্বলছে আগুন।
সরকারি কর্মীদের প্রবল বিক্ষোভের ফলে শুধু সুন্দরী প্যারিস এবং অন্যান্য শহরে জঞ্জাল সাফাই বন্ধ , রাস্তায় জঞ্জালের স্তূপ জমছে, দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে, তাই নয়, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের এয়ারপোর্ট প্রবেশের গেটের রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখতে থাকেন। এমনকি লন্ডন যাওয়ার টিউব রেলের স্ট্রেশনের রাস্তাও। ফলে বহু যাত্রীকে লাগেজ নিয়ে রাস্তায় হেঁটে এয়ারপোর্ট যেতে হয়। পায়ে হেঁটে ধরতে হয় অন্য শহরে এমনকি লন্ডন যাওয়ার ট্রেন।
মাক্রোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল ফার রাইট এবং ফার লেফট দুই পক্ষই। অর্থাৎ সমস্ত বিরোধীরা।তবু তিনি অনাস্থা জিতেছেন। যদিও খুব কম ব্যবধানে। ফলে ম্যাক্রো তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট পালন করেছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি। অধিকাংশ বড় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু প্যারিস-সহ বেশ কিছু শহরে প্রতিবাদ সহিংস হয়ে ওঠে। প্যারিসে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রতিবাদকারীরা পাথর ছোড়ে। পুলিশও লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
বোর্ডোতে বিক্ষোভকারীরা সিটি হলের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে ঐতিহাসিক হেরিটেজ ভবনের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে, জল কামান ব্যবহার করেছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৪৯ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। ১৭৯ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও অনেকে আহত হয়েছেন। এক নারীর আঙুল কাটা গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, অতি-বামপন্থিরা এই সহিংসতার পেছনে ছিল। তারা সরকারকে ফেলতে চাইছে। পুলিশকে মারতে চাইছে। নৈরাজ্যবাদীরা এই বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
We hate spam as much as you do