ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে গিয়েছে বলে রবিবার সকালে জানান আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁরা দেশে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান। এর পরই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB টেলিগ্রামে বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলাকালীন ইরানের প্রতিনিধিরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। ইরানের তরফে সবরকম চেষ্টা হলেও, আমেরিকার অন্যায্য দাবিদাওয়ার জেরে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও , আমেরিকা - ইরান শান্তি-বৈঠক ব্যার্থ, ফিরে গেল ভ্যান্স
12 Apr 2026
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা। তার পরও হল না সমাধান। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি-বৈঠক ভেস্তে গেল। আমেরিকার দাবি, তাদের শর্তাবলী মানতে একেবারেই নারাজ ইরান। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, আমেরিকা ‘অন্যায্য দাবিদাওয়া’ করছিল। এই মুহূর্তে দু'সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি চলছে দুই দেশের মধ্যে। বৈটক ভেস্তে যাওয়ায় ফের যুদ্ধ শুরু হবে কি না, সেই নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। (US-Iran Peace Talks)
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে গিয়েছে বলে রবিবার সকালে জানান আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁরা দেশে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান। এর পরই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB টেলিগ্রামে বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলাকালীন ইরানের প্রতিনিধিরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। ইরানের তরফে সবরকম চেষ্টা হলেও, আমেরিকার অন্যায্য দাবিদাওয়ার জেরে সমঝোতা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই ভেস্তে গিয়েছে আলোচনা’। (US-Iran Ceasefire)
ইরানের Fars News Agency জানিয়েছে, বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার দায় আমেরিকারই। তারাই অন্যায্য দাবিদাওয়া তুলে ঘরে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সমাধানসূত্র বের করা যায়নি। পাকিস্তানের তরফেও চেষ্টা চালানো হয় বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের প্রতিনিধিদলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, যুদ্ধে যা জয় করতে পারেনি, বৈঠকে সেই কিছুই দাবি করে আমেরিকা। হরমুজ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্প এবং আরও একাধিক বিষয়ে নিজেদের ইচ্ছে মতো শর্ত বসায়, যা মানা সম্ভব হয়নি।
Continues below advertisement
Fars আরও জানায় যে, বৈঠক থেকে বেরনোর রাস্তা খুঁজছিল আমেরিকা। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, 'আন্তর্জাতিক মহলের সামনে হারের লজ্জা ঢাকতে আলোচনায় বসতে হয়েছিল আমেরিকাকে। কিন্তু পরাজয় সত্ত্বেও নিজেদের প্রত্যাশা কম করতে নারাজ ওরা। পুনরায় বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয় ইরান'।
যদিও ভ্যান্স দাবি করেন, তাঁদের তরফে ‘সেরা প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছিল ইরানকে। চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। এখন কী করণীয়, তা ইরানই ঠিক করবে। তাঁরা আমেরিকা ফিরে যাচ্ছেন। সমঝোতা না হওয়া ইরানের জন্য শুভ নয় বলেও মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তাঁর দাবি, সমঝোতা না হওয়া আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় সীমা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের উপর।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হল। ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্য়ে বৈঠক চলাকালীন একাধিক বার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলেন ভ্যান্স। শীর্ষ আধিকারিকদের পরামর্শও নেন বারংবার। আমেরিকার তরফে বৈঠকে প্রতিনিধি হিসেবে হাজির ছিলেন ভ্যান্স, বিশেষ রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্য দিকে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকে গালিবাফ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
We hate spam as much as you do