আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমার মা মারা গিয়েছেন। আগামিকাল সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সকলে। এখানেই তিনি থাকতেন। কাল বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।” মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানান, একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে আশা ভোসলের।
সঙ্গীত নক্ষত্র আশা ভোঁসলের জীবনাবসান, যুগের পরিসমাপ্তি
12 April 2026
প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে রবিবার মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি গায়িকা। শনিবার তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে।
চিকিৎসক প্রতীত সামদানী জানিয়েছেন, একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বহু অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ফলেই মৃত্যু হয় শিল্পীর। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী আশিস শেলার হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
সোমবার বিকেল ৪ টেয় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। এর আগে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন অনুরাগীরা। জানান তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে।
শনিবার তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে আসে বেলা গড়ালে। নাতনি জনাই ভোঁসলে জানিয়েছিলেন, প্রবল ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে দিদিমাকে। তখনও পরিবার আশাবাদী ছিল, চিকিৎসায় সাড়া দেবেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য অমর গান উপহার দিয়েছেন। চল্লিশের দশকে মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু। তারপর হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় তাঁর কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় তাঁকে কেবল চটুল গানের গায়িকা বলে ভাবা হলেও, পরে গজল থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত—সব ক্ষেত্রেই নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন তিনি। তবু সঙ্গীতকে জীবনভর আঁকড়ে রেখেছিলেন। তাঁর নিজের কথায়, সঙ্গীতই শ্বাসপ্রশ্বাস।
শনিবার সন্ধ্যা থেকেই উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছিলেন আশা ভোসলের অনুরাগীরা। আচমকাই আসে তাঁর অসুস্থতার খবর।
শনিবার সন্ধ্যাবেলা আচমকাই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অস্বস্তির কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এমনটাই খবর ছড়ায় হাসপাতাল সূত্রে।
শিল্পীর পরিবার ও অনুরাগীরা আশা করেছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রার্থনা করেছিলেন অনুপম খের, সঞ্জয় কপূর, অশোক পণ্ডিত-সহ অনেকেই। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। আশা ভোসলের মৃত্যুতে সঙ্গীতদুনিয়ার এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমার মা মারা গিয়েছেন। আগামিকাল সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সকলে। এখানেই তিনি থাকতেন। কাল বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।” মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানান, একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে আশা ভোসলের।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন এবং বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে অন্যতম, ‘পিয়া তু অব তো আ জা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুম নে জো দিল কো’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘ইন আঁখো কী মস্তি’, ‘তুমসে মিলকে’, ‘জওয়ানী জানে মন’, ‘আগে ভী জানে না তু’ ইত্যাদি।
দু'বার জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে সম্মান এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পদ্ম বিভূষণে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। বয়স ৯০ পেরিয়েও মঞ্চে গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করার নজির গড়েছেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান—চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের মনে।
We hate spam as much as you do