তিন দিন ধরে সিপিএম এবং সিটু কর্মীরা দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং রাত পাহারা দিয়েও দমদম স্টেশনের বাইরে ক্যারেজ ওয়েতে হকারদের স্টল গুড়িয়ে দেওয়া আটকাতে পারল না। ভেঙে দেওয়া হল ভিতরের স্টলও। শনিবার রাত ১২ টা নাগাদ বুলডোজার নীতি প্রয়োগ হল।
লালঝান্ডার বাধা ছিল, মধ্যরাতে দমদম স্টেশনে গুঁড়িয়ে দিল হকারদের স্টল; হাহাকারে গরীব মানুষ
31 May 2026,
সম্পূর্ণ অমানবিক এক কথায় রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের দৃষ্টিতে রাতের অন্ধকারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল দমদম স্টেশন এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলের হকারদের স্টল। রাতেই মালগাড়িতে চাপিয়ে বুলডোজার এনে নামিয়ে দেওয়া হয় দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। গভীর রাত পর্যন্ত সিআইটিইউ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যান হকাররা। যদিও বিরাট পুলিশ বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, বুলডোজারের সামনে তাঁদের কোনও প্রতিরোধই টেকেনি। কয়েকশো হকার এবং তারপর তাদের পরিবার জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাতের বেলা স্টেশনে আসে কিন্তু তাদের হাহাকারের কথা রেল কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করল না।
তিন দিন ধরে সিপিএম এবং সিটু কর্মীরা দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং রাত পাহারা দিয়েও দমদম স্টেশনের বাইরে ক্যারেজ ওয়েতে হকারদের স্টল গুড়িয়ে দেওয়া আটকাতে পারল না। ভেঙে দেওয়া হল ভিতরের স্টলও। শনিবার রাত ১২ টা নাগাদ বুলডোজার নীতি প্রয়োগ হল। সিটু নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য , গার্গী চ্যাটার্জীরা রেলকে অনুরোধ করেছিলেন, হকারদের উঠে যাওয়ার জন্য এক মাস সময় দেওয়া হোক। হয়নি। খবর পেয়ে বেশি রাতে ৮৬ বছর বয়সের ৫ বারের প্রাক্তন সিপিএমের সাংসদ তড়িৎ তোপদার ব্যারাকপুর থেকে ছুটে আসেন। তিনি হাত জোর করে বলেন, একটা দিন সময় দিন। আমি রেল মন্ত্রীর সঙ্গে কাল কথা বলব। কিন্তু তাঁর অনুরোধে কোনও কাজ হয়নি।
শনিবার বিকেলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব কিন্তু হঠাৎ করেই রেলের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিল, আপাতত কিছু হবে না। ভিডিও বার্তাও দেওয়া হয়। নাকি দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এই ভাবে গরিবদের পেটে হঠাৎ লাথি মারা হবে না। সময় দেওয়া হবে। কিছু ব্যবস্থা হবে। ফলে রাতে অধিকাংশ হকার নিশ্চিত মনে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। এরপরে রাত সাড়ে ১১ টায় একসঙ্গে রেল পুলিশ, বেঙ্গল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ হকার উচ্ছেদে নামে।
আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে হকারদের স্টল ভাঙা হবে। গতকাল সন্ধ্যের পর থেকেই হকারদের সঙ্গে স্টেশনে ছিলেন দমদম অঞ্চলের সিপিএম সহ অন্য বাম কর্মী নেতৃত্ব সহ বহু হকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বহু বাম কর্মী সমর্থক।
রাতেই হকার উচ্ছেদ হতে পারে এই আশঙ্কায় শনিবার রাতেই রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদার। তাঁরা একমাস অতিরিক্ত সময় দাবি করেন। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে সিপিআইএম নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রেলের মনোভাব সবথেকে আগ্রাসী। তারা যে কোনও মূল্যে উচ্ছেদ চাইছে। এই উচ্ছেদ অমানবিক ও নজিরবিহীন। এঁদের অনেকেই কদিন আগে রাজ্যে বিজেপিকে সরকারে আনার জন্য ভোট দিয়েছিলেন। আর আজ তাঁদেরই রুটি রুজিতে লাথি মারলো এই সরকার। মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, এভাবে গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই সরকার নিজেদের কর্পোরেট বান্ধব চরিত্র আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি এই কর্পোরেটের দালালদের কাছে সংবাদমাধ্যম বিক্রি হয়ে গেছে। এই জায়গাগুলো বিক্রি করে দেওয়া হবে কর্পোরেটের কাছে।
তিনি আরও বলেন, এই জায়গা থেকে যারা তোলা তুলতো তারা আজ কোথায়? তিনি বলেন, কতটা অমানবিক হতে পারে এই বিজেপি সরকার আজ তার প্রমাণ হয়ে গেছে। রাজ্যে এখনও মন্ত্রীসভা গঠন করতে পারেনি যারা তারা হকার উচ্ছেদ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারের কোনও মানবিকতা নেই। অমানবিক সরকার। জনগণ এদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, জনগণই এদের টেনে নামাবে।
গতকাল রাতেই দমদম ছাড়াও উত্তরপাড়ার রেল স্টেশন সংলগ্ন মাছ বাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় রেল পুলিশ। সেখানেও সিআইটিইউ-র নেতৃত্বে প্রতিরোধে নামে হকাররা। যদিও হকারদের প্রতিরোধ উড়িয়ে সেখানেও ভেঙে দেওয়া হয় সব দোকান।
We hate spam as much as you do