Tranding

10:48 AM - 21 Jul 2026

Home / Sports / বিশ্বকাপ স্পেনের, ৩০০ বছরের উপনিবেশে ফের আধিপত্য আর্জেন্টিনা পারেনি

বিশ্বকাপ স্পেনের, ৩০০ বছরের উপনিবেশে ফের আধিপত্য আর্জেন্টিনা পারেনি

প্রথম ৯০ মিনিটের খেলায় কোনও গোল হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এক্সট্রা টাইমের খেলা চলাকালীন ১০৬ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন স্পেনের ফেরান তোরেস। ওটা শুধু গোল ছিলনা, ওটাই ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মুহুর্ত।

বিশ্বকাপ স্পেনের, ৩০০ বছরের উপনিবেশে ফের আধিপত্য আর্জেন্টিনা পারেনি

বিশ্বকাপ স্পেনের, ৩০০ বছরের উপনিবেশে ফের আধিপত্য আর্জেন্টিনা পারেনি

20 Jul 2026 


লাতিন আমেরিকায় যে দেশগুলোয় স্পেনের উপনিবেশ ছিল তার মধ্যে আর্জেন্টিনাই  প্রধান। ১৫১৬ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্পেনের অধীনে ছিল আর্জেন্টিনার অধিবাসীদের মূল ভাষা স্প্যানিশ। সুতরাং ইউরোপের যে দেশের সাথে গত প্রায় পাঁচশ বছর ধরে আর্জেন্টিনার সম্পর্ক তাহলে স্পেন সেই স্পেন যেন মাঠ জুড়ে আবার আধিপত্য বিস্তার করল আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য বিস্তার করল স্পেন (Spain Football Team)। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে (Argentina vs Spain) ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের সম্মান ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নিলেন স্পেনের মিডফিল্ড তারকা রদ্রি (Rodri)। একই সঙ্গে অসাধারণ গোলরক্ষণের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কার পেলেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন (Unai Simon)।

সোনার বল উঠল রদ্রির হাতে
স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি গোটা বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন দলের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই অসাধারণ ভারসাম্য এনে দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচের প্রতিটিতেই প্রথম একাদশে ছিলেন রদ্রি এবং মোট ৭২৯ মিনিট মাঠে কাটান। তাঁর ধারাবাহিকতা, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণই তাঁকে এনে দিয়েছে FIFA World Cup 2026-এর গোল্ডেন বল।


প্রথম ৯০ মিনিটের খেলায় কোনও গোল হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এক্সট্রা টাইমের খেলা চলাকালীন ১০৬ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন স্পেনের ফেরান তোরেস। ওটা শুধু গোল ছিলনা, ওটাই ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মুহুর্ত।

১০ জনে খেলা আর্জেন্টিনা লড়াই কম দেয়নি। কিন্তু ১ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ ফাইনালে কম, এটা হয়তো কোথাও একটা ধাক্কার কারণ হল আর্জেন্টিনার জন্য।

নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম এদিন ছিল কানায় কানায় ভর্তি। খেলা শুরুর পর থেকে কিন্তু স্পেন দাপট দেখাতে শুরু করে। স্পেনের তারুণ্যের সামনে কিছুটা ধীর মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে।

তবে এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে খেলার শেষের দিকে পৌঁছে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। তাই আর্জেন্টিনার ভক্তরা অপেক্ষা করছিলেন কখন আর্জেন্টিনা জ্বলে উঠবে। মেসি জ্বলে উঠবেন।

কিন্তু খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্ডেজের লাল কার্ড দেখাটা বড় সমস্যার কারণ হয়। ফাইনালের মঞ্চে বাকি ম্যাচটা ১০ জনে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

এদিন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১১টি গোলমুখী বল রুখে দেন। প্রায় পাঁচিলের মত গোলমুখ আগলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ১০৬ মিনিটে স্পেনের তোরেসের গোল সব অঙ্ক বদলে দেয়।


২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি জয়ের সঙ্গে স্পেন ২ বার বিশ্বকাপ জিতল। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর এবারই ১৬ বছর পর তারা ফাইনালে পৌঁছেছিল।

আর ফাইনালে পৌঁছে ফের জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্প্যানিশ আর্মাডা। এদিন পুরস্কারের মঞ্চে কেঁদে ফেলেন মেসি। চোখে জল ছিল গোটা আর্জেন্টিনা দলের।

স্পেনের ১৯ বছর বয়সী সেন্টার হাফ পাউ কুবারসি ইয়ং প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার জিতেছেন। স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমোন জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন গ্লাভস। স্পেনের মিডফিল্ডার রডরি জিতে নিয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার সম্মান। পেয়েছেন গোল্ডেন বল।


এবার স্পেন আরও একটি রেকর্ড গড়েছে। বিশ্বকাপে স্পেন সেই দল যারা পুরো প্রতিযোগিতায় মাত্র ১টি গোল খেয়েছে। বেলজিয়ামই একমাত্র দল যারা স্পেনের জালে বল জড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।


উনাই সিমনের 'দ্য ওয়াল' পারফরম্যান্স
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে বিশাল অবদান রেখেছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি সাতটি ক্লিন শিট রাখেন এবং মাত্র একটি গোল হজম করেন। ফাইনালেও আর্জেন্টিনার একাধিক আক্রমণ দুর্দান্তভাবে সামলে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তাঁর অসামান্য সেভ, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ FIFA World Cup 2026-এর গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।


শুধু ক্লিন শিট নয়, সামগ্রিক পারফরম্যান্সেই সেরা গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কার শুধুমাত্র ক্লিন শিটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয় না। একজন গোলরক্ষকের সেভের সংখ্যা, কঠিন পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা, ম্যাচে প্রভাব এবং সামগ্রিক অবদান বিবেচনা করেই এই সম্মান দেওয়া হয়। সেই সব ক্ষেত্রেই অন্যদের পিছনে ফেলে সেরা প্রমাণিত হন উনাই সিমন। বিশ্বকাপ শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মানেও স্পেনের এই জোড়া সাফল্য ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখল।

Your Opinion

We hate spam as much as you do