এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল । সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে । এর মধ্যেই আর এক শিশুকে ঘিরে অভিযোগ সামনে আসায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।
বারুইপুরের পর লেকটাউনে শিশু যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে নাগরিকদের পক্ষ থেকে থানায় ডেপুটেশন
11 জুলাই 2026
আজ লেকটাউন তিলোত্তমা প্রতিবাদী নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে মিছিল সহযোগে থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। গতকালের খবর ৬ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্তদের অবিলম্বে নির্ধারিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। সাধারণ মানুষকে নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ প্রশাসন যেন এই ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
ঘটনা গতকাল প্রকাশিত। অসুস্থ মেয়েকে আরজিকর মেডিকেলে দেখাতে এসে যৌন নির্যাতনের কথা জানতে পারেন অভিভাবকরা। আর জি কর মেডিকেলের আউটপোস্টে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানান চিকিৎসকরা। খবর যায় হাসপাতাল সংলগ্ন তালা থানায়। পক্সো আইনে জিরো এফআইআর দায়ের হয়। তদন্তের জন্য সব নথি পাঠানো হয়েছে লেকটাউন থানায়। তবে পুলিশ দাবি করছে যে পরিচিত কেউ এই যৌন নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। বারুইপুর ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। তারই মাঝে শিশু কন্যার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত গতকাল, যেটা পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, লেকটাউনের বাসিন্দা এক ৬ বছরের শিশু কন্যা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপরই তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে চিকিৎসার জন্য । সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা দেখতে পান যে ওই ৬ বছরের শিশু উপর যৌ*ন নির্যাতন করা হয়েছে এবং তারপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তালা থানায় আসেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায়, পক্সো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর। কিন্তু যেহেতু ঘটনাস্থল বিধাননগর কমিশনারেটের অন্তর্গত লেকটাউন পুলিশ স্টেশন ঠিক সেই কারণেই তালা থানার তরফ থেকে একটা জিরো এফআইআর করা হয়। তদন্তের যাবতীয় নথি পাঠানো হয়েছে লেকটাউন থানায়। এই ৬ বছরের শিশু উপর যে যৌন নির্যাতন পক্সো মামলা করে তার তদন্ত হবে বলে সূত্রের খবর। পরিচিত কেউ এই গোটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে কিন্তু গোটা ঘটনার পর পুলিশ তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের যে প্রক্রিয়া সেটাও শুরু করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, "অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পকসো আইনের বিধান মেনেই তদন্ত এগোচ্ছে । মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন । সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা চলছে ।" অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, হাসপাতাল থেকে তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । যেহেতু ঘটনাটি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের আওতাধীন, তাই জিরো এফআইআর করে মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল । সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে । এর মধ্যেই আর এক শিশুকে ঘিরে অভিযোগ সামনে আসায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।
তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত চলছে । মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেনসিক তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে । তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না ।
We hate spam as much as you do