প্রজেক্ট ১৭এ (Project 17A)-র অধীনে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজটি গত মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ষষ্ঠ স্টেলথ ফ্রিগেট। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘আইএনএস নীলগিরি’ এবং পরবর্তীতে উদয়গিরি, হিমগিরি, তারাগিরি ও দুনাগিরি নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীতে স্টেলথ ফ্রিগেট, নতুন ব্রহ্মাস্ত্র ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’
11 July 2026
ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও একধাপ বৃদ্ধি করে পূর্ব নৌবহরে (Eastern Fleet) অন্তর্ভুক্ত হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ (INS Mahendragiri)। শনিবার, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক অনুষ্ঠানে একে নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন, ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কম্যান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাল্লা সহ নৌসেনার পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)।
দেড় বছরে ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ, ভারতীয় নৌসেনার নয়া মাইলফলক
প্রজেক্ট ১৭এ (Project 17A)-র অধীনে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজটি গত মাত্র দেড় বছরের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ষষ্ঠ স্টেলথ ফ্রিগেট। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘আইএনএস নীলগিরি’ এবং পরবর্তীতে উদয়গিরি, হিমগিরি, তারাগিরি ও দুনাগিরি নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।
মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর তৈরি এবং ইন্ডিয়ান নেভির ‘ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো’র নকশা করা এই যুদ্ধজাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ যন্ত্রাংশই সম্পূর্ণ দেশে তৈরি। আগের তুলনায় এই জাহাজ তৈরির সময় প্রায় ২০ শতাংশ এবং লঞ্চ থেকে ডেলিভারির সময় প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এটি বড় সাফল্য।
‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’-র শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার
পূর্বঘাট পর্বতমালার ‘মহেন্দ্রগিরি’ শৃঙ্গের নামানুসারে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজের মূল মন্ত্র হল— ‘মাইটি, ম্যাজেস্টিক, ম্যাচলেস’ অর্থাৎ পরাক্রমশালী, রাজকীয়, অতুলনীয়। প্রায় ৬ হাজার ৬৭০ টন ওজনের এই রণতরী সর্বোচ্চ ২৮ নট গতিবেগে ছুটতে পারে।
কী অস্ত্র রয়েছে এখানে?
ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র: জাহাজটিতে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী ও মারাত্মক ক্রুজ মিসাইল 'ব্রহ্মোস' (BrahMos) সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল থাকবে।
আকাশসীমা রক্ষা: দূরপাল্লার আকাশপথের আক্রমণ চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে এতে রয়েছে মাল্টিফাংশন রাডার এবং মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল।
সাবমেরিন ধ্বংস করার ক্ষমতা: সাবমেরিন প্রতিরোধী রকেট লঞ্চার, টর্পেডো লঞ্চার এবং ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্টি-সাবমেরিন ডিফেন্স সিস্টেম থাকবে এই জাহাজে।
মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার: যুদ্ধজাহাজে সার্বক্ষণ নজরদারি ও অপারেশনের জন্য মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
এয়ার ডিফেন্স, অ্যান্টি-সারফেস ও অ্যান্টি-সাবমেরিন অপারেশনের পাশাপাশি যেকোনও সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতি এবং মানবিক বিপর্যয় বা উদ্ধারকাজেও (HADR) এই জাহাজ সমান পারদর্শী।
আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সনাতনী শক্তির মেলবন্ধন: রাজনাথ সিং
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে লড়া হবে, কিন্তু জয় আসবে জাতীয় সংকল্প, প্রশিক্ষিত সেনা এবং নির্ভরযোগ্য সামরিক শক্তির মাধ্যমেই।” তিনি স্পষ্ট করেন যে মোদী সরকার ড্রোন, এআই, হাইপারসনিক অস্ত্রের মত আগামী প্রজন্মের প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রথাগত সামরিক শক্তিকেও সমানভাবে শক্তিশালী করছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংকটের সময়েও ভারতীয় নৌবাহিনী ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-য় ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেছে। ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে (IOR) দেশের নিরাপত্তা ও ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হবে।
We hate spam as much as you do