Tranding

01:32 AM - 05 Jun 2026

Home / Other Districts / যাদবপুরে বুলডোজার স্থগিত, 'বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়, লড়াই চলবে', আশ্বাস সৃজনের

যাদবপুরে বুলডোজার স্থগিত, 'বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়, লড়াই চলবে', আশ্বাস সৃজনের

যাদবপুরে এই আন্দোলনের পর অবশেষে আলোচনার আশ্বাস মিলেছে, রাতেই সেকথা শোনান সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুরে এই মুহূর্তে কোনও হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।

যাদবপুরে বুলডোজার স্থগিত, 'বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়, লড়াই চলবে', আশ্বাস সৃজনের

যাদবপুরে বুলডোজার স্থগিত, 'বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়, লড়াই চলবে', আশ্বাস সৃজনের


 4 June 2026 

 রেলের উচ্ছেদ অভিযানের কোপ থেকে আপাতত রেহাই মিলল যাদবপুরের। স্টেশন চত্বরে মাঝরাতে কয়েক ঘণ্টার চাপান‌উতরের পর অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেলেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা । বাম নেতৃত্বের তরফে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনের তরফে মঙ্গলবার রাতে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে যে আকস্মিক হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে (Jadavpur Hawkers Eviction Stalled)। এখনই ভাঙা হচ্ছে না কোনও রুজি-রুটির দোকান। আলোচনা চলবে রেল, পুর-প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে, পুনর্বাসন না দিয়ে কোনও উচ্ছেদ চলবে না। এর আইনি লড়াই চলবে।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার ২রা জুন রাতে। যাদবপুর স্টেশনের বাইরে হঠাৎই এসে হাজির হয় হকার উচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত থাকা পেল্লায় বুলডোজার। এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন চত্বরে তীব্র আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আশঙ্কা ছিল, আগের স্টেশনগুলির মতোই গভীর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এখানেও আকস্মিক উচ্ছেদ চালানো হতে পারে।


প্রশাসনের এই বুলডোজার অভিযানের খবর পেয়েই রাতেই রুখে দাঁড়ায় বামফ্রন্ট। যুব সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে রাতেই দলে দলে বাম কর্মী ও সমর্থকেরা স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়ে জোরালো প্রতিবাদে শামিল হন। বামেদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, গরিব মানুষের রুজি-রুটি বাঁচাতে এবং এই উচ্ছেদ অভিযান রুখতে বাম নেতা-কর্মীরা স্লোগান তুলে সাফ জানিয়ে দেন, দরকার পড়লে তাঁরা হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে আজ সারারাত স্টেশন চত্বরেই রাত জাগবেন।

রেলের এই রাতারাতি ও আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে কারও কারও ক্ষোভ ও আর্তনাদ উসকে দিয়ে দাবি করেছেন, সকালে এসে তাঁরা হতভম্ব হয়ে দেখেন যে তাঁদের বহু পুরনো দোকানটির আর কোনও অস্তিত্বই নেই! আবার অনেকে জানান, উচ্ছেদের আগাম খবর পেয়ে তাঁরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন জীবন বাজি রেখে দোকান বাঁচাতে। তবে প্রায় সকলের মুখেই একটাই সাধারণ অভিযোগ ছিল, রেল কর্তৃপক্ষ কোনও আগাম নোটিস বা সতর্কবার্তা না দিয়েই সম্পূর্ণ আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

যাদবপুরে এই আন্দোলনের পর অবশেষে আলোচনার আশ্বাস মিলেছে, রাতেই সেকথা শোনান সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুরে এই মুহূর্তে কোনও হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।

উত্তেজিত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ''পুলিশ এবং রেলের অফিসাররা ছিলেন এতক্ষণ, তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিন এখানে কিছু হওয়ার পরিকল্পনা নেই। সাধারণ মানুষের দাবি আমরা তাঁদের বোঝাতে পেরেছি। এটা কোনও পার্টির ব্যাপার নয়, এলাকার মানুষের বিষয়। ওঁদের কিছু অনুরোধ আছে এই চত্বর নিয়ে, সেই প্রসঙ্গে আবার আলোচনা হবে। ব্যবসায়ী যাঁরা আছেন তাঁদের কথা শোনা হবে। সেটা নিয়ে রেলের সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হবে। তিন সপ্তাহ সময় আছে হাতে, তার মধ্যে এই সমস্যা গুটিয়ে ফেলার চেষ্টা করব আমরা।''

এছাড়া বামনেতা স্পষ্ট জানান, ''৮৮ সালের যে রায় আছে, এই অঞ্চলের যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন বা যাঁদের ঝুপড়ি আছে, তাঁদের বাসস্থান শুধু নয়, বিকল্প কোনও কর্মসংস্থানের জায়গার ব্যবস্থা না করে এখান থেকে সরানো যাবে না। এটা নিয়ে আমাদের লড়াই চলছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এর সমর্থনে আরও কিছু কাগজ দরকার। তাতে সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের অধিকার আমরা যথাসময়ে কোর্টের সামনে হাজির করব। আমরা চেষ্টা করব আর কোনওদিন এখানে যেন জেসিবি আসার কোনও অবকাশ তৈরি না হয়। আইনত আমরা সেই চেষ্টা করছি। হকারদের সঙ্গে কথা না বলে, কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যাবে না।''

রেল সূত্রে খবর, স্টেশন চত্বরের বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই তৎপর ছিল দফতর। তবে অভিযোগের আঙুল উঠছিল রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আগের সরকারের চরম অসহযোগিতার কারণেই এতদিন ধরে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় কোনও গতি আনা যাচ্ছিল না।

যাদবপুরের এই আতঙ্কের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে রেলের নেওয়া কিছু অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ। এর আগেই হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বেআইনি হকার হটানোর মেগা অভিযান শুরু করেছে রেল প্রশাসন। কোথাও কোথাও বেআইনি স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ ভাঙতে সরাসরি বুলডোজারও নামানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বর মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী ঝুপড়ি এবং ছোট ছোট দোকান সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু স্টেশন চত্বরেই রেলের এই হানা সীমাবদ্ধ থাকেনি; হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বহুতলের বেআইনি নির্মাণ ভাঙতেও সজোরে চালানো হয়েছে বুলডোজার।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do