Tranding

01:30 AM - 05 Jun 2026

Home / National / পাটনায় বিখ্যাত খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, গুলি ভাঙচুরের অভিযোগ 

পাটনায় বিখ্যাত খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, গুলি ভাঙচুরের অভিযোগ 

পটনার মুসাল্লাপুর হাটে খান স্যরের কোচিং সেন্টার রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টা নাগাদ সেখানে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে ভিতরে ঢোকে। দেদার ভাঙচুর চলে। কোচিং সেন্টারের বাইরে ১০ রাউন্ড গুলি চলে বলেও জানা যায়। তবে ভাঙচুর হয়ে থাকলেও, গুলি চলার দাবিতে এখনও সরকারি ভাবে সিলমোহর পড়েনি।

পাটনায় বিখ্যাত খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, গুলি ভাঙচুরের অভিযোগ 

পাটনায় বিখ্যাত খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, গুলি ভাঙচুরের অভিযোগ 


03 Jun 2026 

জনপ্রিয় শিক্ষক, বিহারের ফয়জ়ল খান ওরফে খান স্য়রের কোচিং সেন্টারে হামলা। ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয় সেখানে। বেধড়ক মারধর করা হয় নিরাপত্তারক্ষীকে। সেই সঙ্গে কোচিং সেন্টারের বাইরে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে অভিযোগ উঠলেও, তা নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও। 

 

পটনার মুসাল্লাপুর হাটে খান স্যরের কোচিং সেন্টার রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টা নাগাদ সেখানে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে ভিতরে ঢোকে। দেদার ভাঙচুর চলে। কোচিং সেন্টারের বাইরে ১০ রাউন্ড গুলি চলে বলেও জানা যায়। তবে ভাঙচুর হয়ে থাকলেও, গুলি চলার দাবিতে এখনও সরকারি ভাবে সিলমোহর পড়েনি।


খবর পেয়ে গতকাল রাতেই কোচিং সেন্টারে পৌঁছন খান স্যর। সমাজবিরোধীরা কোচিং সেন্টারে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোচিং সেন্টারের ভিতরে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খান স্যরের দাবি, তাঁর কোচিং সেন্টারের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে সম্প্রতি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সফল ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হয়েছিল। এর পর থেকেই হুমকি আসতে শুরু করে। খান স্যর জানিয়েছেন, দু’দিনের মধ্যে কোচিং সেন্টার উড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।


এই ঘটনার নেপথ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারগুলিরও হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ খান স্যরের। তাঁর দাবি, কম খরচে ছেলেমেয়েদের পড়ান তিনি। এতে অন্য কোচিং সেন্টারগুলি পিছিয়ে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। কোচিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  আহত নিরাপত্তারক্ষী দু’-একজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে জানা যাচ্ছে। কোচিং সেন্টারে হামলার পর বুধবার সকালে সেখানে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। স্লোগান ওঠে, 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস', 'উই ওয়ান্ট সিকিওরিটি'।

এক সাক্ষাৎকারে ছাত্র মায়ঙ্ক যাদব বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কখনোই হামলা হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে, কারও ওপরই এমন হামলা হওয়া উচিত নয়, কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এটি সমগ্র বিহার রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।”

“এর ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমরা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর এখন কোচিং সেন্টারটি কতদিনের জন্য বন্ধ থাকবে তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। এটি আমাদের পড়াশোনাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। এই কাজটি নিন্দনীয় ছিল এবং আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি,” তিনি আরও বলেন।

আরেক ছাত্র অজয় ​​কুমার  বলেন, “ঘটনাটি গতকাল রাত প্রায় ১০:১৫-১০:২০ এর দিকে ঘটে। আমরা রাত প্রায় ১০টার দিকে এখান থেকে বেরিয়েছিলাম। বেরিয়ে আমি আমার ঘরে ফিরে যাই এবং তারপর ছাদে যাই, যেখানে আমি আমার বাবার সাথে কথা বলছিলাম। রাত প্রায় ১০:২০ এর দিকে, আমি একটি বিকট শব্দ শুনি যা গুলির মতো মনে হয়েছিল, যদিও আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে সেটি কিসের শব্দ ছিল। পরে, যখন আমি খবর দেখছিলাম, তখন জানতে পারি যে কোচিং সেন্টারে হামলা হয়েছে। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।”

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, দুটি কোচিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবাদ বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জানা গেছে, স্থানীয় দোকানদাররা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান।

খান ক্লাসেসে কর্মরত একজন নিরাপত্তাকর্মী সহিংসতায় মাথায় আঘাত পান এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গোলযোগের সময় কোচিং ইনস্টিটিউটটির ব্যানারটিও ছিঁড়ে ফেলা হয়।

ঘটনার পর, পাটনার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) কার্তিকেয় কে. শর্মা সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অন্যান্য অফিসার ও একাধিক পুলিশ দল নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

খান ক্লাসেসের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিপক্ষ পক্ষের লোকজন গুলি চালিয়েছে।

জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারও একইভাবে সংঘর্ষের সময় গুলি চালানোর জন্য খান ক্লাসেসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।

এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। মোট ২০টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেে পুলিশ। এই ঘটনার পর সরকারি নিরাপত্তা চেয়ে আর্জি জানানোর কথা ভাবছেন খান স্যর। এই মুহূর্তে কোচিং সেন্টারের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কেন এই হামলা হল, এখনও কারণ জানা যায়নি।

খান স্যারের কোচিং খুব বিখ্যাত
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর কাছে  খান স্যারের কোচিং জনপ্রিয় । খান স্যারের ক্যাম্পাসটি পটনার অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর সমাগম হয়। গুলির ঘটনার খবরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৯ সালেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারে বোমা ছোড়া হয়েছিল
উল্লেখ্য যে, খানের প্রতিষ্ঠানের কাছে অপরাধমূলক ঘটনা এটাই প্রথম নয় । এর আগে, ২০১৯ সালের ১০ মে তার কোচিং সেন্টারকে লক্ষ্য করে একটি হাতে তৈরি বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। সকাল প্রায় ১০টার দিকে, কদমকুয়া থানা এলাকার মুসাল্লাপুর হাটে অবস্থিত খান জিএস রিসার্চ সেন্টারের বাইরে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা দ্রুত পরপর দুটি হাতে তৈরি বোমা নিক্ষেপ করে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do