Tranding

04:22 AM - 26 Feb 2026

Home / Education / NCERT-র এইটের বইতে বিচার বিভাগের ‘দুর্নীতি’র উল্লেখ ! নিজেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের

NCERT-র এইটের বইতে বিচার বিভাগের ‘দুর্নীতি’র উল্লেখ ! নিজেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দেশের সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতিররা এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করব। কোনও প্রতিষ্ঠানকে এভাবে কলঙ্কিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আইন নিজের পথেই চলবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এটি একটি ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ বলে মনে হচ্ছে।

NCERT-র এইটের বইতে বিচার বিভাগের ‘দুর্নীতি’র উল্লেখ ! নিজেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের

NCERT-র এইটের বইতে বিচার বিভাগের ‘দুর্নীতি’র উল্লেখ ! নিজেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের


February 25, 2026 


অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিচার বিভাগের ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করার কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত (SC)।

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “দেশের সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতিররা এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করব। কোনও প্রতিষ্ঠানকে এভাবে কলঙ্কিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আইন নিজের পথেই চলবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এটি একটি ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ বলে মনে হচ্ছে।


মঙ্গলবার প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রথম বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইতে বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। সিব্বল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, “রাজনীতিবিদ, আমলা বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দুর্নীতি নিয়ে কেন একইরকম অধ্যায় নেই? কেন সেগুলোকে আড়াল করা হচ্ছে?” এদিন আদালতে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিও পাঠ্যক্রমের এই ‘বাছাই করা’ নীতি নিয়ে আপত্তি তোলেন। শুনানির সময় বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, “এই বইয়ের বিষয়বস্তু সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে (SC)।”

এনসিইআরটি-র ‘সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক সংশোধিত অধ্যায়ে আদালতের কাঠামো ও মামলা জট (সুপ্রিম কোর্টে ৮১,০০০ এবং হাইকোর্টগুলোতে প্রায় ৬২ লক্ষ মামলা বকেয়া) আলোচনার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে। বইটিতে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাইয়ের ২০২৫ সালের একটি উদ্ধৃতিও ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে তিনি বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দিয়েছিলেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের অপরিণত মনে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা ক্ষতিকর। প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা জানান, স্কুল স্তরের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন অঙ্গের কাজ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, জটিল বিতর্ক তৈরি করা নয়। আইনজীবী প্রজ্ঞা পারিজাত সিংয়ের মতে, কেশবানন্দ ভারতী মামলার মতো ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ যেভাবে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে, তা উল্লেখ না করে কেবল ‘দুর্নীতি’র কথা তুলে ধরা একপাক্ষিক (SC)।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইন মন্ত্রক জানিয়েছিল যে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে, যা বিচারবিভাগের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়। এই প্রেক্ষাপটে এনসিইআরটি-র পাঠ্যবই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল (SC)।

Your Opinion

We hate spam as much as you do