Tranding

02:59 AM - 07 May 2026

Home / National / বিহার জয়ের পরই নীতিশ -বিজেপি সরকার মহিলাদের ১০ হাজার টাকার প্রকল্প পোর্টাল বন্ধ

বিহার জয়ের পরই নীতিশ -বিজেপি সরকার মহিলাদের ১০ হাজার টাকার প্রকল্প পোর্টাল বন্ধ

এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধীর দলের দাবি, ‘ভোটের সময় বিজেপি-জেডিইউ সরকার মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পরই সরকার ওই প্রকল্পে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে আবেদন জানানোর পোর্টালও। এভাবে বিজেপি আরও একবার সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিল। তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করল। নরেন্দ্র মোদি স্রেফ লোক ঠকানোর রাজনীতি করেন। এই প্রবঞ্চনার জন্য বিহারের জনতা কখনওই মোদি-নীতীশকে ক্ষমা করবে না।’

বিহার জয়ের পরই নীতিশ -বিজেপি সরকার মহিলাদের ১০ হাজার টাকার প্রকল্প পোর্টাল বন্ধ

বিহার জয়ের পরই নীতিশ -বিজেপি সরকার মহিলাদের ১০ হাজার টাকার প্রকল্প পোর্টাল বন্ধ


জানুয়ারী ১০, ২০২৬


 প্রত্যেক মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা! বিহারে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার ঠিক ১০ দিন আগে এই চমক নিয়ে হাজির হয়েছিল শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এমনকি ভোট ঘোষণার পরও টাকা দেওয়া বন্ধ হয়নি। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও আমল দেয়নি নির্বাচন কমিশন। বরং এই মাস্টারস্ট্রোকেই মহিলাদের ভোট নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিয়েছিল বিজেপি-জেডিইউ। কিন্তু নির্বাচন মিটে যেতেই বন্ধ করে দেওয়া হল ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’য় নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ। পোর্টালে নতুন করে আর আবেদন করা যাচ্ছে না। ফলে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রকল্পকেও মোদির ‘নয়া জুমলা’ বলতে পিছ পা হচ্ছে না বিরোধীরা।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগেছে কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধীর দলের দাবি, ‘ভোটের সময় বিজেপি-জেডিইউ সরকার মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পরই সরকার ওই প্রকল্পে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে আবেদন জানানোর পোর্টালও। এভাবে বিজেপি আরও একবার সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিল। তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করল। নরেন্দ্র মোদি স্রেফ লোক ঠকানোর রাজনীতি করেন। এই প্রবঞ্চনার জন্য বিহারের জনতা কখনওই মোদি-নীতীশকে ক্ষমা করবে না।’
বিষয়টি নিয়ে গর্জে উঠেছেন বাংলার মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিজেপি মা’দের অপমান করেছে। ভোটের মুখে এটা যে বিজেপির জুমলা ছিল, তা স্পষ্ট। আমরা যে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করি, তা সবার জন্য। সেই কারণে আমাদের দায়বদ্ধতা থাকে। কিন্তু বিজেপি-জেডিইউ জোট শুধুমাত্র ভোটের জন্যই যে এই প্রকল্প চালু করেছিল, তা আজ গোটা দেশের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল। সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যেরও সাফ কথা, ‘১০ হাজার টাকা দেওয়ার স্কিম যে ভোটের জন্য, তা প্রমাণিত হল। নির্বাচনের পরে বিহারে যেভাবে বুলডোজার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাতে স্লোগান উঠেছে, ভোটের আগে ১০ হাজার, ভোটের পরে বুলডোজার।’ পাশাপাশি, ভোট মিটতেই বিহারে ফের মহিলাদের রোজগার, আবাস সহ অন্যান্য ইস্যুগুলিও মাথাচাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই বাম নেতা।
এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে বিহার সরকার। ইতিমধ্যে আরও ১৯ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তারপরই গত ৩১ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার পোর্টালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে মুখ খুলেছেন নীতীশ কুমার সরকারের সমবায় মন্ত্রী প্রমোদ কুমার। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর বিহারে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্যই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। আর কোন পোর্টাল সর্বদা খোলা থাকে? প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা পোর্টাল হোক বা অন্য কিছু, সমস্ত কিছুর একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।’ 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do