সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ীর মন্তব্য, "তৃণমূল যে বিজেপির বি টিম, সেটা বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই তাঁরা ওই দুই দলের থেকে সরে লাল ঝান্ডার কাছে আসছেন। মানুষ যে তৃণমূল-বিজেপির আঁতাঁত ধরে ফেলেছেন, সে খবর অমিত শাহের কাছেও আছে। তাই হয়তো তিনি নিজেদের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেলেছেন!"
সিপিএম বাড়ছে কী ভাবে: অমিত! TMC বিজেপির 'বি' টিম বুঝেছেন মানুষ : শমীকের মত
18 Dec 2022,
বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আচমকা প্রশ্ন, শুনছি, সিপিএম আবার শক্তি বাড়িয়েছে বাংলায়। আপনারা কী করছেন?
'শুনছি, সিপিএম আবার শক্তি বাড়িয়েছে বাংলায়। আপনারা কী করছেন?'
আচমকা প্রশ্নটা ধেয়ে এসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে। শুক্রবার রাতে বিজেপি রাজ্য দপ্তরে বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডে তখন নিচুতলায় দলীয় সংগঠনের হাল বর্ণনা করছিলেন। প্রশ্নের আকস্মিকতায় কী বলবেন বুঝতে না পেরে তিনি তাকান বঙ্গ-বিজেপির নেতাদের দিকে। তাঁরাও তখন নিজেদের মুখ চাওয়াচাইয়ি করছেন। অমিতও জবাবের প্রতীক্ষায় তখন স্থির দৃষ্টিতে তাঁদের দিকেই তাকিয়ে। সূত্রের খবর, অমিতের এহেন সিপিআইএম- কৌতূহলের ধাক্কায় বেসামাল বঙ্গ-বিজেপির নেতাদের একাংশ শেষে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, সংখ্যালঘু ভোটাররা ধীরে ধীরে হলেও বামেদের দিকে ফিরছে। তাতেই শক্তি বাড়ছে সিপিএমের।
শুধু সেই কারণেই কি পায়ের তলায় মাটি ফিরছে বামেদের? সরাসরি প্রশ্নটা না তুললেও রাজ্য বিজেপি নেতাদের যুক্তি যে শাহর যুৎসই মনে হয়নি, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ, এর পরেই তিনি বলেন, "তৃণমূল জমানায় তো আন্দোলন করার মতো ইস্যুর অভাব নেই। শুনছি, সিপিএম সে সব নিয়ে লাগাতার রাস্তায় নামছে?" কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মনোভাব টের পেয়ে এ বার মুখ খোলেন স্বপন দাশগুপ্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়, খগেন মুর্মুর মতো কয়েক জন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে তাঁরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা কবুল করে বলেন, "সব সময়ে আমরা আন্দোলন সংগঠিত করতে পারছি না। সিপিএম তাতে কিছুটা হলেও সফল।" সূত্রের খবর, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এক সাংসদ অমিতকে বলেন, "২০১৯-এর লোকসভা ভোটে সিপিএমের (CPIM) বড় অংশের ভোট আমরা পেয়েছিলাম। তার মধ্যে সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু--সবই ছিল। নানা কারণে ইদানীং তারা অনেকেই বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়েছে। সেটাই সিপিএমের শক্তিবৃদ্ধির কারণ।"
সিপিআইএমের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিককালে একাধিক বার চর্চা হয়েছে বিজেপির অন্দরে। মাস দু'য়েক আগে হেস্টিংসের পার্টি অফিসে বিজেপির পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রাম্ত বৈঠকে পুরুলিয়ার নেতা নরহরি মাহাতো উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের মুখের উপরেই বলেছিলেন, "আমরা কলকাতায় ঠান্ডাঘরে বসে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছি, নিচুতলায় সিপিএম যা করার করছে।" এর পরও একাধিক বৈঠকে নিচুতলার কর্মীদের সিপিএমের ঘরে ফিরে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পদ্ম-শিবিরের বেশ কয়েক জন নেতা-নেত্রী। তাঁদের যুক্তি, জেলাগুলিতে সিপিএমের কর্মসূচি বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে কমছে বিজেপির কর্মসূচি। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে বামেরাই। এ বার স্বয়ং অমিত শাহও কলকাতায় এসে ঠারেঠোরে একই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। যা রাজনৈতিক ভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে গেরুয়া শিবিরের একাংশের দাবি।
এ প্রসঙ্গে সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ীর মন্তব্য, "তৃণমূল যে বিজেপির বি টিম, সেটা বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই তাঁরা ওই দুই দলের থেকে সরে লাল ঝান্ডার কাছে আসছেন। মানুষ যে তৃণমূল-বিজেপির আঁতাঁত ধরে ফেলেছেন, সে খবর অমিত শাহের কাছেও আছে। তাই হয়তো তিনি নিজেদের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেলেছেন!"
We hate spam as much as you do