সিপিআইএমের কোঅর্ডিনেটর প্রকাশ কারাত বলেন, "ছাত্র জীবনে খুবই মেধাবী ছিলেন। তিনি আইএএস অফিসার হতে পারতেন । অন্য যে কোনও বড় পদে চাকরিও করতেন পারতেন। কিন্তু, তিনি তা করেননি। তিনি মার্ক্সবাদী রাজনীতিতে যোগ দেন। নিবেদিত মার্কসিস্ট ছিলেন। তাঁর জীবনটাই একটা শিক্ষা। 1973 থেকে আমি সীতারাম ইয়েচুরিকে চিনি। প্রায় 50 বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমার কাজ। মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টির কালেক্টিভ লিডারশিপদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। সীতারাম ইয়েচুরির বহুমুখী প্রতিভার আজকে একদিনে চর্চা করা সম্ভব নয়।
ইয়েচুরি-স্মরণে ফ্যাসিবাদকে হারানোর শপথ কারাত -সেলিম-সূর্যদের
3 অক্টোবর 2024
সিপিআইএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির স্মরণসভায় বামপন্থার পুনর্জাগরণের শপথ নিল সিপিএম। সীতারামের দেখানো পথেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে শেষ করার শপথ নিয়েছেন প্রকাশ কারাত, মহম্মদ সেলিম সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে বিমান বসুরা। বৃহস্পতিবার সিপিআইএম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তরফে কলকাতা জেলা কমিটির সদর দফতর প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে ইয়েচুরির স্মরণ সভা আয়োজন করা হয়। সেই সভায় ইয়েচুরিকে স্মরণ করে তাঁর দেখানো পথে চলার অঙ্গীকারের কথা বলেন বক্তারা। সভায় সভাপতিত্বে ছিলেন বিমান বসু।
সীতারাম ইয়েচুরিকে স্মরণে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয় ৷ বিমান বসু বলেন, "খুব অল্প বয়স থেকেই পার্টির ইন্টারন্যাশনাল বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করতেন না। দেশের সরকারের নীতি যখন কর্পোরেটের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তখন তাঁর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে কুন্ঠাবোধ করেনি। সংসদের ভিতরে-বাইরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইন্ডিয়া জোট তৈরি করা এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন সেটাও উল্লেখ যোগ্যভাবে করে গিয়েছেন। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁকে যথাযথ সম্মান জানাতে গেলে পার্টির দরদী কর্মীদের বলব পার্টিকে আরও বেশি করে সময় দিন।"
অন্যদিকে, সিপিআইএমের কোঅর্ডিনেটর প্রকাশ কারাত বলেন, "ছাত্র জীবনে খুবই মেধাবী ছিলেন। তিনি আইএএস অফিসার হতে পারতেন । অন্য যে কোনও বড় পদে চাকরিও করতেন পারতেন। কিন্তু, তিনি তা করেননি। তিনি মার্ক্সবাদী রাজনীতিতে যোগ দেন। নিবেদিত মার্কসিস্ট ছিলেন। তাঁর জীবনটাই একটা শিক্ষা। 1973 থেকে আমি সীতারাম ইয়েচুরিকে চিনি। প্রায় 50 বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমার কাজ। মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টির কালেক্টিভ লিডারশিপদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। সীতারাম ইয়েচুরির বহুমুখী প্রতিভার আজকে একদিনে চর্চা করা সম্ভব নয়। সারমর্ম করলে এটা দাঁড়ায়, গোটা দেশে হিন্দুত্ববাদীদের কী অবস্থা তা খুব ভালো করেই পর্যালোচনা করেছিলেন। 1993 সালে ইয়েচুরি একটা বই লিখেছিলেন। কিন্তু, আরএসএস সেই সময় বন্ধ করেছিল। এই মানুষটিকে স্মরণে রাখতে গেলে তার চিন্তাভাবনা ও কাজ জের বাস্তবায়ন করতে সঠিক ভাবে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সীতারামের দেখানো পথেই এগতে হবে।"
ব্যাঙ্কে চাকরি করতে পারতেন, অর্থনীতিবিদ বা আইএএস আধিকারিক হতে পারতেন। কোনটাই হননি। হয়েছেন বিপ্লবী। কারণ মার্কসবাদকে আত্মস্থ করেছিলেন কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি।
প্রকাশ বলেন, সীতারাম ইয়েচুরি যখন জে এন ইউ তে ছাত্র হিসাবে আসেন তখন তিনি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। নিজে একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। অনেকে মনে ছিলেন সে একটি বড় চাকরি করবে। কিন্তু না সীতারাম একজন বিপ্লবী হলেন।
মার্কসবাদের সাথে তার পরিচয় হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার অধ্যাপকদের সাহায্যে মার্কসবাদের বিষয় তার ধারণা তৈরি হয়। এস এফ আইয়ের সদস্য হওয়ার পর রাজনৈতিক জীবনের সাথে মার্কসবাদের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৩-৭৪ থেকে সীতারামের সাথে আমার পরিচয়। প্রথমে দলের একজন সাধারণ সদস্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে সে উঠে আসে।
দলের মতাদর্শ গত প্রশ্নে, মার্কসবাদের লেনিনবাদের দৃষ্টি ভংগিতে দেশ এবং বিশ্বকে চেনার ক্ষেত্রে বর্ধমান প্লেনামে সিপিআই (এম)-কে অন্যান্য বামপন্থী দলগুলি থেকে ভারতে বিশিষ্ট করেছে। সীতারাম এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সীতারামের ওপর দায়িত্ব পরে নতুন করে মতাদর্শ গত প্রশ্নে দলিল প্রস্তুত করার।
তিনি বলেন, ২০১২ আমরা সীতারাম দায়িত্ব দিয়েছিলাম মতাদর্শগত দলিল তৈরি করার ক্ষেত্রে। কারণ সে এক মাত্র যোগ্য, বর্তমান পুঁজির বিরুদ্ধে কি ভাবে লড়াই সম্ভব।
৫০ দশক কাছ থেকে সীতারামের সাথে কাজ করে দেখেছি, আমাদের দেশের সামনে হিন্দুত্ববাদের যেই আগ্রাসন তার সঠিক মূল্যায়ন করার। ১৯৯৩ সীতারাম একটা ছোট বই লিখেছিলেন গলওয়ালকারের we and our nation hood define সেখানে লেখাচিল হিটলার যে ভাবে জিউ দের শেষ করেছে আমাদের দেশেও সংখ্যালঘুদের সাথে তা করতে হবে। এই বই এখন আর আর এস এস বিক্রি করে না।
এই বইয়ের এবং আর এস এস এর বিশ্লেষণ করেছিলেন সীতারাম। মানুষের সামনে আর এস এস এর চরিত্র তুলে ধরে। আমাদের দেশে দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই কি ভাবে হবে তার স্বচ্ছ ধারণা ছিল সীতারামের।
সিপিআইএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক রাজ্য সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, "আমরা এখন যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তা স্বাধীনতার পর এতবড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে আমরা যায়নি। ভুল না করলে সঠিক শেখা যায় না। যারা ভুল করেও ভুল শুধরায় না তারা অপরাধী। তাই, নিজেদের সমালোচনা, আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। আমি যা বলছি সবটাই ঠিক মনে করাটা ঠিক নয়। ফলে, কোথায় ভুল তা আলোচনা-সমালোচনা করে ভুল সংশোধনের প্রয়োজন আছে। ইয়েচুরির দেখানো পথে পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। এ লড়াই লড়তে হবে। এ লড়াই আমরা জিতবই।"
সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায়, "আমরা 5 সপ্তাহের মধ্যে দুই শিক্ষক নেতা, গুরু, সংগঠক, সহকর্মী এবং দাদাকে হারিয়েছি। শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের চোয়াল শক্ত করতে হবে। মুঠকে আরও শক্ত করতে হবে। শিক্ষালয়ের অঙ্কুরে সীতারামকে গড়ে তুলতে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সীতারাম যে চর্চা করে গিয়েছেন তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করে যেতে হবে। নিঃস্বার্থ জীবন নিয়ে মানুষের জন্য লড়ে যেতে হবে। শপথ নিয়ে যেতে হবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য।"
শোক সভায় বামফ্রন্টের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য বামপন্থী দলের নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভারতীয় গণনাট্য সংঘের পক্ষ থেকে সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্মরণসভা শেষ হয় সমবেত কন্ঠে আন্তর্জাতিক সংগীত জাগো সর্বহারা গানের মধ্যে দিয়ে
We hate spam as much as you do