১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কিসিঞ্জারের ভূমিকা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল ওয়াশিংটনের। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে খান সেনার গণহত্যায় দেখেও দেখেননি তিনি। পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) রক্তে লাল হয়ে উঠলেও ভারতকে চাপে ফেলতে মার্কিন নৌবহর পাঠিয়েছিল নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতিনিধি মানবতা বিরোধী হেনরি কিসিঞ্জার প্রয়াত
30 nov 23
প্রয়াত প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব হেনরি কিসিঞ্জার। বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের জমানায় মার্কিন বিদেশনীতির ‘ভারত বিরোধী’ অভিমুখের মূলে তিনিই ছিলেন। বিতর্কে মোড়া কার্যকালে মুক্তিযুদ্ধে খলনায়ক হিসাবেই কুখ্যাত ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার কিসিঞ্জার অ্যাসোসিয়েটসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জার্মান বংশোদ্ভূত কূটনীতিক কিসিঞ্জার কানেক্টিকাটে তাঁর বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিবের বলে খবর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াইয়ের আবহে মার্কিন কূটনীতির ‘বাস্তবমূখী’ (নিন্দুকেরা বলেন সুযোগসন্ধানী) গতিপথের নেপথ্যে মূলত কিসিঞ্জারেরই হাত ছিল বলে মনে করা হয়।
তবে ভারত ও বাংলাদেশের কাছে ‘খলনায়ক’ হিসাবেই কুখ্যাত প্রাক্তন এই মার্কিন বিদেশ সচিব। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কিসিঞ্জারের ভূমিকা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল ওয়াশিংটনের। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে খান সেনার গণহত্যায় দেখেও দেখেননি তিনি। পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) রক্তে লাল হয়ে উঠলেও ভারতকে চাপে ফেলতে মার্কিন নৌবহর পাঠিয়েছিল নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি।
আমেরিকার দুই প্রেসিডেন্টের আমলে বিদেশ সচিব ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন কিসিঞ্জার (Henry Kissinger)। প্রথমে রিচার্ড নিক্সনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনে, পরে জেরাল্ড ফোর্ডের। বিদেশ সচিব হিসাবে ইজরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মধ্যে হওয়া ইয়ম কিপুরের যুদ্ধ থামাতে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন কেউ কেউ। আবার ভিয়েতনাম যুদ্ধে কম্বোডিয়ায় বোমা ফেলার কিসিঞ্জারের সিদ্ধান্তে অনেকেই তাঁকে যুদ্ধাপরাধীর তকমা দিয়েছেন।
বহু বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে অশালীন শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ৩০ নভেম্বর কানেকটিকাটে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শীর্ষ এই মার্কিন কূটনীতিক।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়। যার পূর্ব অংশ বাংলাদেশ হিসাবে পরিচিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক মাস আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিক্সন ও কিসিঞ্জারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। বৈঠকের পর নিক্সন এবং কিসিঞ্জারের মধ্যে কথোপকথনের সময়, উভয়ই ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ। কিসিঞ্জার তাকে “যুদ্ধ শুরু করার” জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। কিসিঞ্জার ভারতীয়দের “সবচেয়ে আক্রমনাত্মক” এবং ‘দালাল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। দুজনের মধ্যে এই কথোপকথনটি টেপে রেকর্ড করা হয়। যা ২০২০ সালে সর্ব সমক্ষে আনা হয়। ভারতীয়দের প্রতি নিক্সন এবং কিসিঞ্জারের আপত্তিকর মন্তব্য এই টেপে রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে তার নামে নানা বিতর্ক রয়েছে, বড় বড় গণহত্যার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে আছে।
১. ষাট ও সত্তর দশকে ইন্দোচীনে নিরপরাধ নাগরিকদের সুপরিকল্পিত হত্যায় মদদ।
২. ১৯৭১-এ বাংলাদেশের গণহত্যায় সমর্থন ও সাহায্য।
৩. ১৯৭৩-এ চিলির সামরিক অভ্যুত্থান ও বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন।
৪. সাইপ্রাসের আর্চবিশপ ম্যাকারিয়সের হত্যা পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ।
৫. পূর্ব তিমুরে ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর হাতে গণহত্যায় সাহায্যদান।
We hate spam as much as you do