Tranding

03:52 AM - 22 Mar 2026

Home / Entertainment / কলামন্দিরে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে গানে নাচে বক্তব্যে "সত‍্যের জিৎ"

কলামন্দিরে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে গানে নাচে বক্তব্যে "সত‍্যের জিৎ"

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রপরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন তার বক্তব্য সত্যজিৎ রায়ের প্রতিভা তার শারীরিক দীর্ঘতার চেয়ে আরো অনেক বড় বলে অভিহিত করেন। গোপালকৃষ্ণ বলেন কিভাবে পথের পাঁচালী তাকে মুগ্ধ করেছিল তার দ্বিতীয় মুগ্ধ হবার জায়গা অপরাজিত। সিনেমার ডিটেইলিং সত্যজিৎ রায় কে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিল

কলামন্দিরে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে গানে নাচে বক্তব্যে "সত‍্যের জিৎ"

কলামন্দিরে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে গানে নাচে বক্তব্যে "সত‍্যের জিৎ" 


"সত্যের জিৎ" এই শিরোনামে পালিত হল  সত্যজিত রায়ের জন্মশতবর্ষ।  ১৯২১ সালের ২রা মে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম হয়েছিল। তার ১০০ বছর পূর্ণ হল। এই উপলক্ষে পশ্চিমবাংলার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা কলকাতার কলামন্দিরে আয়োজন করেছিল একটি অনুষ্ঠানের। গোটা দেশজুড়ে যে সাংস্কৃতিক লড়াই চলছে তাতে "সত্য" একটা প্রশ্ন চিহ্ন মুখে দাঁড়িয়ে গেছে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় মনীষ ঘোষের একটি ১৫মিনিটের তথ্যচিত্র Ray in the Truth দিয়ে।  সেখানে অনেকেই সত্যজিৎ রায় কে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করেন। 

 

  • অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদারের কথায় সত্যজিৎ রায় বলতেন "ছবিতে কখনো সত্যের অপলাপ কোরোনা"।  তাই দেশ কালের পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে "সত‍্যের জিৎ"। 


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রপরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন তার বক্তব্য সত্যজিৎ রায়ের প্রতিভা তার শারীরিক  দীর্ঘতার চেয়ে আরো অনেক বড় বলে অভিহিত করেন। গোপালকৃষ্ণ বলেন কিভাবে পথের পাঁচালী তাকে মুগ্ধ করেছিল তার দ্বিতীয় মুগ্ধ হবার জায়গা অপরাজিত। সিনেমার ডিটেইলিং সত্যজিৎ রায় কে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিল।  


অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন তার গর্ব হয় তার যৌবন কালে এমন বলিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মানুষকে তিনি পেয়েছেন।  অন্যতম বক্তা বিশিষ্ট থিয়েটার বিশেষজ্ঞ শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন সত্যজিৎ রায় চিন্তার ব্যাপকতাকে ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্যে তিনি আটকে থাকতেন না তার সিনেমা সব সময় একটা বার্তা বহন করত। তা জোর দিয়ে নয় সহজভাবে, খুব সাধারণভাবে। অন্যতম বক্তা ছিলেন অনুষ্ঠান কমিটির সভাপতি অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। ছিলেন সম্পাদক চিত্রপরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।  তার বক্তব্য সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষ পালন করতে পেরে গর্বিত  এবং সমসাময়িক ভারতবর্ষে পশ্চিমবাংলায় প্রতিদিন যে লড়াই চলছে তাতে সত্যজিৎ রায়ের চিন্তা কাজে লাগবে বলে উল্লেখ করেন।  উপস্থিত ছিলেন চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার বিশিষ্ট অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, সায়রা শাহ সালিম সহ অন্যান্য বিশিষ্ট মানুষেরা। 

 

অনুষ্ঠানে কল্যাণ সেন বরাট এর নেতৃত্বে ক্যালকাটা কয়ারের শিল্পীরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ক্যানভাসে
সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন গান নিয়ে অসাধারণ কম্পোজিশন A Musical Journey of Ray শোনালেন। আলো, শব্দে, কন্ঠের মূর্ছনায় গোটা প্রেক্ষাগৃহ সত্যজিৎময় হয়ে উঠলো। এই কম্পোজিশনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভূতের রাজার নাচ। 


অনুষ্ঠানের শেষে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ডান্স থিয়েটার "এখনো গুপি বাঘা" একটি নৃত্য গীতি আলেখ্য পরিবেশন করেন। যেখানে সত্যজিতের সুর নিয়ে গুপী - বাঘা আজকের কথা বলছেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা জীবন সংগ্রাম এর লড়াই আর তার বিপরীতে পরিচিতি সত্তা সহ বিভিন্ন রকম বিভাজন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগীত নৃত্য  পরিবেশন হয়।  


অনুষ্ঠানের আগে প্রায় ৩০০০ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন কিশোর-কিশোরী তরুণ-তরুণীরা। মঞ্চে তাদের পুরস্কৃত করা হয় । অনুষ্ঠানে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারক গ্রন্থ উদ্বোধন করা হয়।

মঞ্চের বাইরে সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও কর্ম দিয়ে একটি চিত্র প্রদর্শনী আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

Your Opinion

We hate spam as much as you do