৭৮/১ থেকে মুম্বই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল ১১১/১০-এ। মুম্বইয়ের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল এবং চাহাল। এই শেষদিকে হ্যাটট্রিক করে যান হর্ষল প্যাটেল
কোহলির আরসিবির কাছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হার। হর্ষলের হ্যাটট্রিক
রোহিতের বিরুদ্ধে জয়ী কোহলি! মুম্বইয়ের লজ্জা হর্ষলের হ্যাটট্রিকে।
টানা দু ম্যাচ হেরে কোহলির আরসিবি ব্যাপক চাপে ছিল। অন্যদিকে, মুম্বই-ও কেকেআরের কাছে আগের ম্যাচে হেরে বসেছে। এমন আবহেই কোহলি-রোহিত মুখোমুখি হয়েছিল মেগা ম্যাচে।
আরসিবি: ১৬৫/৬ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১১১/১০
জাতীয় টি২০ দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া, ফ্র্যাঞ্চাইজি অধিনায়ক হিসেবেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা। এমন আবহে রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কার্যত মর্যাদা রক্ষার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন বিরাট কোহলি। তবে রবিবার মেগা দ্বৈরথের ধর্মযুদ্ধে সসম্মানে উত্তীর্ণ কিং। কোহলির দুরন্ত ব্যাটিং এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে রবিবার আরসিবি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাল ৫৪ রানে। মুম্বই ইনিংসের শেষের দিকে হর্ষল প্যাটেলের হ্যাটট্রিক যেন কেকের ওপর চেরি হয়ে থাকল!
কোহলিদের ১৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মুম্বই মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল। রোহিত শর্মা (২৮ বলে ৪৩) এবং কুইন্টন ডিকক (২৩ বলে ২৪) যেভাবে শুরু করেছিলেন, মনে হয়েছিল মুম্বইয়ের জয়ে ফেরা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে প্রথমে ডিকক এবং তারপরে রোহিত ফেরার পরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিখ্যাত মুম্বইয়ের ব্যাটিং।
৭৮/১ থেকে মুম্বই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল ১১১/১০-এ। মুম্বইয়ের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল এবং চাহাল। এই শেষদিকে হ্যাটট্রিক করে যান হর্ষল প্যাটেল। রোহিত ফিরে যাওয়ার পরে ঈশান কিষান (৯), সূর্যকুমার যাদব (৮), ক্রুনাল পান্ডিয়া (৫), কায়রণ পোলার্ড (৭), হার্দিক পান্ডিয়া (৩), মিলনে (০), রাহুল চাহার (০), জসপ্রীত বুমরারা (৫) আয়ারাম গয়ারাম পর্ব চালু করে দেন।
আর ১৭তম ওভারে বল করতে এসে মুম্বইয়ের জ্বালা বাড়িয়ে হ্যাটট্রিক করেন হর্ষল। ওভারের প্রথম তিন বলেই হর্ষল ফিরিয়ে দেন যথাক্রমে হার্দিক পান্ডিয়া, পোলার্ড এবং রাহুল চাহারকে। মিলনেকে আউট করে মুম্বই ইনিংসের ফুলস্টপও ফেলেন তিনি। দিনের শেষে তাঁর নামের পাশে ৪ উইকেট। যুজবেন্দ্র চাহাল এবং ম্যাক্সওয়েলের শিকার যথাক্রমে ৩ এবং ২।
তার আগে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির জার্সিতে আরও একবার ফিফটি করে যান কোহলি। সিএসকের পরে এবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেও হাফসেঞ্চুরি করে গেলেন ক্যাপ্টেন কোহলি। পরপর দুটো ম্যাচে। এদিন ৪২ বলে ৫১ রানের ইনিংসের কোহলির ব্যাট থেকে বেরোল তিনটে করে বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি।
টসে জিতে আরসিবিকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল মুম্বই। শুরুতেই দেবদূত পাডিক্কলকে বুমরা ফিরিয়ে দিলেও শ্রীকর ভরতের (২৪ বলে ৩২) সঙ্গে কোহলি ৬৮ রান যোগ করে দলকে ভাল প্ল্যাটফর্ম এনে দেন। কোহলি ফিফটি করে ফিরে যাওয়ার পরে দুবাইয়ের স্টেডিয়ামে মাতিয়ে যান ম্যাক্সওয়েল। ৩৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে মুম্বইয়ের বোলিং কার্যত ফালাফালা করলেন অজি তারকা। শেষ পর্যন্ত বুমরার শিকার হয়ে ফিরলেও হাঁকিয়ে যান হাফডজন বাউন্ডারি এবং তিনটে বিশাল ওভার বাউন্ডারি।
আরসিবি একাদশ:
বিরাট কোহলি, দেবদূত পাডিক্কল, শ্রীকর ভরত, এবি ডিভিলিয়ার্স, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ড্যান ক্রিশ্চিয়ান, শাহবাজ নাদিম, কাইল জেমিসন, হর্ষল প্যাটেল, মহম্মদ সিরাজ, যুজবেন্দ্র চাহাল
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স একাদশ:
রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডিকক, ঈশান কিষান, সূর্যকুমার যাদব, ক্রুনাল পান্ডিয়া, হার্দিক পান্ডিয়া, কায়রণ পোলার্ড, এডাম মিলনে, রাহুল চাহার, ট্রেন্ট বোল্ট, জসপ্রীত বুমরা
We hate spam as much as you do