আইএসএল এ অবনমন নেই। তাই ইস্টবেঙ্গল 'লাস্টবয়' হিসেবে শেষ করলেও পরের মরসুমে খেলা আটকাবে না। কিন্তু লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আবেগ, ভালোবাসা এবং শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটির ঐতিহ্য নিয়ে বাঙ্গুর এন্ড কোম্পানি ছেলেখেলা চালিয়ে যাবেন। তবে পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন, ইতিহাস বলছে ডার্বিতে কেউ ফেবারিট হয়ে শুরু করে না। তাই 'পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল ভয়ঙ্কর' কাল থেকে আবার ফুটবলপ্রেমীরা সিরিয়াসলি নিতে পারেন। কিছুই বলা যায় না।
আজ ডার্বিতে ফেবারিট মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের কাছে অগ্নিপরীক্ষা
'পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল ভয়ঙ্কর' - এই প্রবাদ বললে এখন মাঠে - ময়দানে, বাসে - ট্রামে, চায়ের দোকানে হাসির রোল ওঠে। আইএসএল এ ইস্টবেঙ্গলের শনির দশা কিছুতেই যেন কাটছে না। গত মরসুমে এক রাশ হতাশা ছাড়া কিছুই মেলেনি। এই মরসুমে অবস্থা আরও তথৈবচ। ১৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই 'লাস্ট বয়ের' তকমা জুটে গেছে। পক্ষান্তরে এটিকে মোহনবাগান লীগ টেবিলে অনেকটাই ভালো জায়গায়। ডার্বিতে তিন পয়েন্ট পেলেই হুগো বুমো - রয় কৃষ্ণরা প্রথম চারে ঢুকে পড়বেন।
মোহনবাগান এই মহারণে রয় কৃষ্ণের সার্ভিস সম্ভবত পাবে না। অন্তত ক্লাব সূত্রে তাই খবর। ইস্টবেঙ্গল পেরোসেভিচকে এই ম্যাচে খেলাতে পারবে। তাঁর নির্বাসনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশের এক নম্বর স্টপার সন্দেশ ঝিঙ্গান যদি মোহনবাগানের প্রথম একাদশে থাকে তবে সমর্থকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন।
কারণ মোহনবাগানে গোলগেটারের অভাব নেই। রয় কৃষ্ণ না থাকলে কী হবে, হুগো বুমো, মনবীর, বা ডেভিড উইলিয়ামসরা একাধিক সময়ে দলের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডিফেন্সের সামান্য ত্রুটি - বিচ্যুতি যদি সন্দেশের উপস্থিতিতে শুধরে ফেলা যায় তবে পালতোলা নৌকা একেবারে চ্যাম্পিয়ন হয়েই থামবে। ইস্টবেঙ্গল নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে এই দলের কলকাতা লীগেও খেলার যোগ্যতা নেই। এই ইস্টবেঙ্গলেই রেন্টি মার্টিনসের মত আইলীগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলে গিয়েছেন, খেলেছেন টোলগে ওজবে, পেন অরজির সাথে যার যুগলবন্দী বিপক্ষ দলগুলির রাতের ঘুম কেড়ে নিত। চিমা ওকেরির মত সেই সময় দেশের সবথেকে বিপজ্জনক স্ট্রাইকার খেলেছিলেন। আর এখন খেলেন ড্যানিয়েল চিমার মত স্ট্রাইকার যার বল রিসিভিংও হাঁসির খোরাকে পরিণত হয়েছে।
আইএসএল এ অবনমন নেই। তাই ইস্টবেঙ্গল 'লাস্টবয়' হিসেবে শেষ করলেও পরের মরসুমে খেলা আটকাবে না। কিন্তু লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আবেগ, ভালোবাসা এবং শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটির ঐতিহ্য নিয়ে বাঙ্গুর এন্ড কোম্পানি ছেলেখেলা চালিয়ে যাবেন। তবে পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন, ইতিহাস বলছে ডার্বিতে কেউ ফেবারিট হয়ে শুরু করে না। তাই 'পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল ভয়ঙ্কর' কাল থেকে আবার ফুটবলপ্রেমীরা সিরিয়াসলি নিতে পারেন। কিছুই বলা যায় না।
এটিকে মোহনবাগানের সম্ভাব্য একাদশ: অমরিন্দর, প্রীতম, সন্দেশ, তিরি, শুভাশিস, ম্যাকহাগ্, দীপক, মনবীর, কোলাসো, বুমো ও ডেভিড।
এসসি ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাব্য একাদশ: অরিন্দম, অমরজিৎ, আদিল, ফ্রানজো, অঙ্কিত, রফিক, সৌরভ, দ্যারেন, নাওরেম, পেরোসেভিচ ও হাওকিপ।
• ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে।
We hate spam as much as you do