মঙ্গলবার জম্মুর সিভিল সেক্রেটারিয়েটের কাছে হনুমান চালিশা পাঠ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী সংঘর্ষ সমিতির যুব শাখা। তাদের দাবি, শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল কলেজে কাশ্মীরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। উল্লেখ্য যে, এই ব্যাচের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কাশ্মীর উপত্যকার। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সারা দেশের হিন্দু ভক্তদের দেওয়া দান শুধুমাত্র হিন্দু মন্দিরগুলোর উন্নয়ন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা উচিত।
মুসলিম ছাত্র ভর্তি বেশি, তাই সরকার বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিল
০৮ জানুয়ারি ২০২৬
জম্মুর শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন মুসলিম হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তি তালিকা প্রকাশের পরপরই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, আরএসএসপন্থী ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠী কলেজটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’, যা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
মঙ্গলবার জম্মুর সিভিল সেক্রেটারিয়েটের কাছে হনুমান চালিশা পাঠ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী সংঘর্ষ সমিতির যুব শাখা। তাদের দাবি, শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল কলেজে কাশ্মীরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। উল্লেখ্য যে, এই ব্যাচের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কাশ্মীর উপত্যকার। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সারা দেশের হিন্দু ভক্তদের দেওয়া দান শুধুমাত্র হিন্দু মন্দিরগুলোর উন্নয়ন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা উচিত।
এই বিক্ষোভের মধ্যেই এনএমসি কলেজটির এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে “সংখ্যার নয়, মানের প্রশ্ন” বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সনাতন ধর্ম সভা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলসহ প্রায় ৬০টি সংঘ পরিবারপন্থী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই সংঘর্ষ সমিতি মূলত নবনির্মিত এসএমভিডিআইএমই-তে কাশ্মীরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছিল। সংঘর্ষ সমিতি শুরুতে দাবি করেছিল যে, এই মেডিকেল কলেজের সমস্ত আসন হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। তারা আরও দাবি জানায় যে, নিট পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছে, তাদের অন্য মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করতে হবে।
অন্যদিকে, সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ—যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে একটি মেডিকেল কলেজের অনুমতি বাতিল করা ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও শিক্ষায় সমান অধিকারের নীতির পরিপন্থী। তাদের মতে, এটি শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমদের অংশগ্রহণ সীমিত করার উদ্দেশ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী চাপের প্রতিফলন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মোদি সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে ধারাবাহিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাতা বৈষ্ণো মেডিক্যাল কলেজের অনুমতি বাতিল কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতিতে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার পর জম্মুতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, শিক্ষায় সমান সুযোগ এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
We hate spam as much as you do