কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে অবশ্য সিপিএম ও কংগ্রেসও প্রশ্ন তুলেছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হয়তো কেন্দ্রকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য কমিশন করেছেন। পেগাসাস-কাণ্ডে যা হয়েছে, ভয়ঙ্কর। কিন্তু এ রাজ্যে আমার মতো বহু রাজনৈতিক নেতা, অফিসার, এমনকি মন্ত্রীদের ফোনেও আড়ি পাতা হচ্ছে অনেক দিন ধরে। রাজ্য ইজরায়েলেরই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কি না, আমরা জানতে চেয়েছি। রাজ্যের এই আড়ি পাতার অভিযোগ কি কমিশনের বিচার্য হবে?’’
পেগাসাস নিয়ে রাজ্যর তদন্ত কমিশন কতটা কার্যকর হতে পারে? এরই মাঝে গতকাল কংগ্রেসের পেগাসাস নিয়ে বিক্ষোভ
পেগাসাস ইস্যু তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের তৈরি করা স্পাইওয়্যার পেগাসাস ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে জাতীয় কংগ্রেস। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। এ সময় বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
পেগাসাস-কাণ্ডে রাজ্য সরকারের গড়া তদন্ত কমিশনকে ‘রাজনৈতিক চমক’ আখ্যা দিয়ে তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল বিজেপি। কমিশনের বিরোধিতা না করলেও বিরোধী বাম ও কংগ্রেসও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের প্রশ্ন, এ রাজ্যে শাসক পক্ষের বিরুদ্ধে যে আড়িপাতার অভিযোগ আছে, তার বিচারের কী হবে?
এর আগে সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে মমতা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ফোনে আড়ি পাতা বা পেগাসাস ইস্যু তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মদন ভীমরাও লকুর এবং কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।
এ সময় মমতা আরও বলেন, ‘পেগাসাস ব্যবহার করে দেশের অনেক রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও শিল্পপতিদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। আমরা চাই, এই পেগাসাস–কাণ্ডের তদন্ত হোক। ভারতের মধ্যে আমরাই প্রথম এই রাজ্যে তদন্ত কমিশন গঠন করেছি।’
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘কমিশন এনকোয়্যারি অ্যাক্ট অনুযায়ী এই ধরনের কমিশন গড়া সংসদ বা বিধানসভার এক্তিয়ারভুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে কমিশন ঘোষণা করেছেন, সেটা অবৈধ। এটা একটা রাজনৈতিক গিমিক! এই নিয়ে টিভি চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক হবে। তার বাইরে কিছু হবে না।’’
কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে অবশ্য সিপিএম ও কংগ্রেসও প্রশ্ন তুলেছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হয়তো কেন্দ্রকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য কমিশন করেছেন। পেগাসাস-কাণ্ডে যা হয়েছে, ভয়ঙ্কর। কিন্তু এ রাজ্যে আমার মতো বহু রাজনৈতিক নেতা, অফিসার, এমনকি মন্ত্রীদের ফোনেও আড়ি পাতা হচ্ছে অনেক দিন ধরে। রাজ্য ইজরায়েলেরই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কি না, আমরা জানতে চেয়েছি। রাজ্যের এই আড়ি পাতার অভিযোগ কি কমিশনের বিচার্য হবে?’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল আমলে এর আগে ১৮টা কমিশন হয়েছে। কোনওটারই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। এই কমিশনের রিপোর্ট কি ৬ মাসে সামনে আসবে?’’
We hate spam as much as you do