ক্রীড়া মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পদত্যাগ করলেন অরূপ বিশ্বাস সাদা কাগজে চিঠি লিখে পদত্যাগ করেন । আর তাতে অনেক বাংলা বানান ভূল বলে খবরে প্রকাশ। একজন পূর্ণমন্ত্রী কেন নিজের অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করলেন না তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ভূল বানানের হাত চিঠিতে ক্রীড়া দপ্তর থেকে অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা ! দফতর মূখ্যমন্ত্রীর হাতেই
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
যুবভারতীকাণ্ডের জেরে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পাঠানো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ইস্তফা গ্রহণ করে তিনি জানিয়েছেন, ক্রীড়া দফতর অন্য কারও হাতে দেওয়া হবে না। যত ক্ষণ না ‘নিরপেক্ষ’ তদন্ত শেষ হচ্ছে, তত ক্ষণ তিনি নিজের হাতেই রাখবেন সেই দফতর। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী হবেন মমতা।
যুবভারতীকাণ্ডে তদন্ত কমিটি গড়েছিলেন মমতা। সেই কমিটির সুপারিশে সিট (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করা হয়েছে। মমতাকে পাঠানো চিঠিতে অরূপ লেখেন, যুবভারতীর ঘটনায় মমতা যে তদন্ত কমিটি গড়েছেন, তা যাতে ‘নিরপেক্ষ ভাবে’ অনুসন্ধান করতে পারে, তাই তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চান। মমতা সেই ইস্তফা গ্রহণ করে চিঠিতে ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘আবেগ এবং উদ্দেশ্য’-এর প্রশংসা করেন। তার পরেই লেখেন, ‘তিনি (অরূপ) একেবারেই সঠিক। যত ক্ষণ না নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ হচ্ছে, তত ক্ষণ এই দফতর আমি দেখব।’
অরূপ ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরেরও মন্ত্রী। তবে অব্যাহতি চেয়েছেন শুধু ক্রীড়া দফতর থেকে। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়ে গেলেও মন্ত্রিসভায় থাকছেন অরূপ।
মঙ্গলবার অরূপের ইস্তফাপত্র প্রকাশ করেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। চিঠিতে সোমবারের তারিখ (১৫ ডিসেম্বর) উল্লেখ করা ছিল। অরূপ দফতর থেকে ইস্তফা দিতে চাওয়ার পরেই ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নবান্নে তলব করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা সেখানে পৌঁছেও যান। তার পরেই ক্রীড়া দফতর সূত্রে জানা যায়, অরূপের ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে।
ক্রীড়া মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পদত্যাগ করলেন অরূপ বিশ্বাস সাদা কাগজে চিঠি লিখে পদত্যাগ করেন । আর তাতে অনেক বাংলা বানান ভূল বলে খবরে প্রকাশ। একজন পূর্ণমন্ত্রী কেন নিজের অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করলেন না তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফের একবার কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রীকে। অরূপকে কটাক্ষ করে বিরোধীরা বলেছেন “পশ্চিমবঙ্গে শুধু চিরকুটের চাকরিই হয় না, চিরকুটে ইস্তফাও হয়।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্রের ভাষা ও রূপ—দুটোই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। তাঁদের দাবি, যদি সত্যিই তদন্তের স্বার্থে পদত্যাগ করা হয়ে থাকে, তবে তা সরকারি প্রথা মেনে হওয়া উচিত ছিল। সাদা কাগজে হাতে লেখা চিঠি পুরো বিষয়টিকে নাটকীয় করে তুলেছে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কটাক্ষের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে।
We hate spam as much as you do