Tranding

04:09 PM - 22 Mar 2026

Home / Article / পরিবেশের ভারসাম্যহীণতাই লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়ংকর দাবানলের কারন

পরিবেশের ভারসাম্যহীণতাই লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়ংকর দাবানলের কারন

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় খরা, প্রবল বাতাস এবং জল সংকটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। তবে এর প্রকোপ গত এক দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩২ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ১০টি বৃহত্তম দাবানলের মধ্যে ৯টি ঘটেছে গত দশকে। এর আর্থিক প্রভাবও বড় ধরনের, যেমন ২০১৯ সালে জাতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিজি অ্যান্ড ইর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া।

পরিবেশের ভারসাম্যহীণতাই লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়ংকর দাবানলের কারন

পরিবেশের ভারসাম্যহীণতাই লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়ংকর দাবানলের কারন

জানুয়ারি ১১, ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে ছড়িয়ে পড়া আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন ১১জন। ঘরছাড়া হয়েছেন ১ লাখের বেশি মানুষ। ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ধ্বংসযজ্ঞ শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে।


ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় খরা, প্রবল বাতাস এবং জল সংকটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। তবে এর প্রকোপ গত এক দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩২ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ১০টি বৃহত্তম দাবানলের মধ্যে ৯টি ঘটেছে গত দশকে। এর আর্থিক প্রভাবও বড় ধরনের, যেমন ২০১৯ সালে জাতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিজি অ্যান্ড ইর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, দাবানল এমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কোন কোন বিষয়গুলো এর জন্য দায়ী, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

দাবানলে বাড়ি ছাড়া ‘ব্যাটম্যান’ তারকা বেন অ্যাফ্লেকদাবানলে বাড়ি ছাড়া ‘ব্যাটম্যান’ তারকা বেন অ্যাফ্লেক
ফায়ার সার্ভিসের একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান ডেভিভ অ্যাকুনার মতে, ক্যালিফোর্নিয়া এলাকার ৯৫% দাবানলের শুরুটা হয় মানুষের বাহ্যিক কারণেই।

 

যদিও এখনকার দাবানলের শিখা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘‘সান্তা আনা বাতাসের’’ কথা বলা হচ্ছে। মরুভূমির পরিবেশ বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে এই বাতাস বয়ে যায় উপকূলের দিকে। এ বাতাসকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

সিবিএস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, সান্তা আনার এই বাতাসই লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল আরও উসকে দিচ্ছে, যা শত শত বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। গৃহহীন করে দিয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।

শুষ্ক আর উষ্ণ পর্যায়ের সান্তা আনা বাতাস বেশ শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা, উটাহ ও ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শুকনো এলাকা থেকে এটি উড়ে আসে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস জানানোর প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদার জানিয়েছে, সর্বশেষ দাবানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই দাবানল কেবল সাধারণ মানুষের নয়, ধনীদের এলাকায়ও আঘাত হেনেছে। প্যারিস হিলটন ও বিলি ক্রিস্টালের মতো তারকাদের বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির বিষয়টি সামনে এসেছে। লুইজিয়ানার দরিদ্র অঞ্চলগুলোর হারিকেন তুলনামূলক কম গুরুত্ব পেলেও লস অ্যাঞ্জেলেসের ঘটনায় মাথা ধরেছে অনেকের।


বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকির হিসাব বুঝতে পেরেছে। ঝুঁকি বিবেচনায় আনতে না পারায় অনেক কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সরে গেছে। স্টেট ফার্মের তথ্যমতে, ১২টি শীর্ষ বিমাদাতা কোম্পানি আবাসিক বিমার ৮৫ শতাংশ বাজার ধরে রেখেছে। এর মধ্যে সাতটি ২০২২ সালের পর থেকে নতুন বিমা প্রদান বন্ধ বা সীমিত করেছে। অঙ্গরাজ্যের বিমাদাতা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে ৬১ শতাংশ বেড়েছে।


নতুন ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, বিমাদাতাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ন্যূনতম একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিমা দিতে হবে। এর বিনিময়ে কোম্পানিগুলো ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মডেল এবং পুনর্বিমা খরচ অনুযায়ী ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম বাড়াতে পারবে। যেমন বিমা কোম্পানি অলস্টেট গত বছর তাদের প্রিমিয়াম ৩৪ শতাংশ বাড়িয়েছে।


পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই গড় বাড়ির দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু শক্তিশালী হারিকেন, বজ্রঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলে এ কঠিন বাস্তবতা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে।


লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ছয়টি দাবানল একসঙ্গে জ্বলছে, এগুলোর মধ্যে প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকায় ১৭ হাজার একরের বেশি জমি পুড়েছে। 
মাসব্যাপী খরার কারণে শুষ্ক ভূমিতে ঝোড়ো বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় ৯ জানুয়ারি সকাল ৬টায় ক্যালিফোর্নিয়া বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ জানায়, তিনটি দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

Your Opinion

We hate spam as much as you do