আজ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বৈঠকে হাজির ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণার প্রক্রিয়াটি কয়েক দিন পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।
কংগ্রেসের আপত্তি সত্ত্বেও ঘোষণা হচ্ছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম
February 17, 2025
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার অবসর নিচ্ছেন কাল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণা করতে পারেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
আজ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বৈঠকে হাজির ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণার প্রক্রিয়াটি কয়েক দিন পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।
আগে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণা করতেন। একইসঙ্গে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে যিনি বেশি সিনিয়র তাঁকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করা হতো। সেইমতো জ্ঞানেশ কুমারের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার কথা।
কিন্তু বেশ কিছু পিটিশনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালে বলেছিল, যতদিন না আইন তৈরি হয় ততদিন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও দেশের প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনার ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাছাই করবেন।
এরপরই তৈরি হয় চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশনস অব সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অব অফিস অ্যাক্ট, ২০২৩। ২০২৩ সালে পাস হওয়া এই আইনবলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাঁচজনের নাম স্থির করবেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত সিলেকশন টিম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এই কমিটিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাখা নিয়ে অনেকে আপত্তি জানান। ফলে এই আইন নিয়ে পাল্টা মামলা হয়। এই সিলেকশন প্যানেলের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন আইনে সংশয় রয়েছে বলেই মামলাকারীদের অভিমত। এর মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হন বিরোধীরা।
সেই মামলারই শুনানি রয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকে মোদী ও শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাহুল। তারপরই রাহুল বলেন, যেহেতু মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ফলে এই নিয়োগ এখনই করা ঠিক নয়।
ইগো সরিয়ে রেখে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতারাও। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রে খবর, যেহেতু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কোনও স্থগিতাদেশ নেই, ফলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি নাম চূড়ান্ত করতেই পারে। আইনি পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। নিয়োগে কোনও বাধা নেই বলেই খবর। যদিও কংগ্রেসের লিগাল টিম আবার তাদের অবস্থানকে সমর্থন করছে। এই চাপানউতোরের মধ্যেই জানা যাচ্ছে, নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নামে কালকের মধ্যেই সই করে দেবেন রাষ্ট্রপতি।
We hate spam as much as you do