অভিযোগ তৃণমূল সরকারের লক্ষ্য ওই জমি বিক্রি করে প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার। যার বিনিময় তারা পাবে মোটা অঙ্কের টাকা। আর শাসকদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধেই আন্দোলন শুরু করে আনিস খান ও তার সহপাঠিরা। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন আলিয়ার উপাচার্য মহম্মদ আলি। আর এই কারণেই শাসকের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
আলিয়ায় বাম আমলে হস্টেল তৈরির জমি প্রোমোটারের হাতে দিতে চায় রাজ্য সরকার
আলিয়ার জমির দিকে নজর তৃণমূলের।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি নয় শাসক দলের নজর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক স্ট্রিট ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় হস্টেল এবং খেলার মাঠের জন্য জমি পড়ে রয়েছে। এখনও কোনো হস্টেল তৈরি হয়নি। পড়ুয়াদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠও।
সূত্রের খবর ইতিমধ্যে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জমি চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের পাশে রয়েছে যা খেলার মাঠ এবং হস্টেল করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই জমি বিক্রি করার জন্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে বারবার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর।
অভিযোগ তৃণমূল সরকারের লক্ষ্য ওই জমি বিক্রি করে প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার। যার বিনিময় তারা পাবে মোটা অঙ্কের টাকা। আর শাসকদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধেই আন্দোলন শুরু করে আনিস খান ও তার সহপাঠিরা। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন আলিয়ার উপাচার্য মহম্মদ আলি। আর এই কারণেই শাসকের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। এই জমি দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ওপর তলার বহু নেতা মন্ত্রী যে জড়িত আছে তা স্পষ্ট ভাইরাল হওয়া একটি অডিওতে।
প্রসঙ্গত আলিয়ার উপাচার্য নিগ্রহকে কেন্দ্র করে নতুন যেই অডিওটি সামনে এসেছে তাতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের দুজন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং গুলাম রাব্বানীর। যদিও আমরা সেই অডিওর সত্যতা বিচার করিনি। আলিয়ার পড়ুয়াদের দাবি যাদের কথা সেখানে শোনা যাচ্ছে তারা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র জুয়েল রানা ও সাহেব সিদ্দিকী। জুয়েল রানা ও সাহেব সিদ্দিকী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী। অডিওতে শোনা গিয়েছে একপক্ষ বলছে, ‘গোলাম রব্বানি এবং ববি দা পুরোপুরি বলে দিয়েছেন। ওকে (উপাচার্য) এক সপ্তাহের মতো সময় দিয়েছিল। বলেছেন, তুমি বেরিয়ে যাও, নতুন উপাচার্য আসবে, তোমাকে বলে দিলাম আজকে। কে আসবে সেটাও জানি, ওটা কোনও ব্যাপার না। ও সায়নী ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে। ও মেয়াদটা বাড়াতে চাইছে। কিন্তু ওকে ডেট দিয়ে দিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ওকে বের হতেই হবে। কিন্তু ওকে অপমান করে তাড়াতে বলছে। সেটা পারবে কি?’
এই অডিওতে জিম নাওয়াজ বলে একজনের নাম জড়িয়েছে। কে এই জিম নাওয়াজ? ববি হাকিমের দাবি, জিম নাওয়াজ তার তৃণমূলের কোন সদস্য নয়। কিন্তু সে নির্বাচনের সময় তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, ‘আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জমিতে বাম আমলে আমলা চেয়েছিল কোয়াটার তৈরি করতে। কিন্তু সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে ওই জমি মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে।’ ২০১১ সালের পালা বদলের পর থেকেই আলিয়ার জমি দখল করা আলিয়া বিশ্ববিদ্যলায়কে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার। তৃণমূলের জমি দখলের এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাড়ান উপাচার্য মহম্মদ আলি। তার ওপর বার বার চাপ তৈরি করা হলেও তিনি সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর চাপের কাছে মাথা নত করেননি। আর তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে হেনস্তার ছক সাজায় তৃণমূল।
উপাচার্য হেনস্তার ঘটনায় যেই তথাকথিত প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কর্মী গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন আলিয়ার পড়ুয়ারা। অভিযোগ তাদের কথায় এই গিয়াসউদ্দিন নতুন ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলতো প্রোগ্রামের নাম করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পড়ুয়াদের জন্য সে ফ্ল্যাট ভাড়াও দিত। উপাচার্য নিগ্রহের প্রতিবাদে এবং গিয়াসউদ্দিন ছাড়া তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনে বসেছেন তারা।
আর এই উপাচার্য নিগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামনে চলে এসেছে তৃণমূলের ছাত্র গোষ্ঠীদ্বন্দ। ফিরহাদ হাকিম, গোলাম রব্বানি, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির মতো তৃণমূলের মন্ত্রীরা চাইছেন মহম্মদ আলিকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দিতে। অপর দিকে ব্রাত্য বসু, পার্থ চ্যাটার্জির , মন্ত্রীরা চাইছেন তাকে ওই পদে রেখে দিতে। আর গ্রেপ্তার হওয়া গিয়াসউদ্দিন হচ্ছেন ফিরহাদ হাকিমদের ঘনিষ্ঠ।
তথ্য সংগ্রহ গণশক্তি
We hate spam as much as you do