তাঁর বিশ্বাস, বিজেপি কিছুতেই ২২৭ আসনের বেশি লোকসভা নির্বাচনে পাবে না। ওড়িশা ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার এম নাগেশ্বর রাও সিবিআইতে যোগ দেন ২০১৬ সালে। কেন্দ্রীয় এই এজেন্সির অন্তর্বর্তী ডিরেক্টর পদে তিনি ছিলেন ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর তাঁকে সিবিআইয়ের মাথায় বসান মোদি-শাহ।
ফাইল চিত্র
প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সিবিআই কর্তা বললেন বিজেপি জিতছে না
শুক্রবার ১০ মে ২০২৪
‘মোদিই দেশের বোঝা। লোকসভায় ৪০০ আসন দূরঅস্ত, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই পাবে না বিজেপি।’ এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের ভবিষ্যৎবানী দিলেন সিবিআইয়ের প্রাক্তন অধিকর্তা এম নাগেশ্বর রাও। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের একদা ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন আধিকারিক রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছেন এক্স হ্যান্ডলে। তাঁর বিশ্বাস, বিজেপি কিছুতেই ২২৭ আসনের বেশি লোকসভা নির্বাচনে পাবে না।
ওড়িশা ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার এম নাগেশ্বর রাও সিবিআইতে যোগ দেন ২০১৬ সালে। কেন্দ্রীয় এই এজেন্সির অন্তর্বর্তী ডিরেক্টর পদে তিনি ছিলেন ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর তাঁকে সিবিআইয়ের মাথায় বসান মোদি-শাহ। তারপরেই মোদি ঘনিষ্ঠ সিবিআই স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তকারী ১৩ জন অফিসারকে সরিয়ে দেন নাগেশ্বর। তাতেই বিজেপি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। চব্বিশের ভোটপর্বে তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ায় গেরুয়া শিবিরের কপালের ভাঁজ চওড়া হচ্ছে।
অতি সম্প্রতি নাগেশ্বর রাও এক্স মাধ্যমে লোকসভা ভোটের ফলাফলের একটি পূর্বাভাস দিয়েছেন। বিজেপির আসন প্রাপ্তির রাজ্যভিত্তিক একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন। তাতে দাবি স্পষ্ট, নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বারের জন্য আর ক্ষমতায় ফিরছেন না। ইন্ডিয়া ইন্টেলিজেন্স ইনিশিয়েটিভ ফোরকাস্ট অব বিজেপি পারফরম্যান্স, লোকসভা ইলেকশন ২০২৪—শীর্ষক একটি পোস্টে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি খুব ভালো করলে ২২৭ আসন পেতে পারে। এমনকী উত্তরপ্রদেশেও তাঁর দলের প্রাপ্তি ৫০’এ নেমে যাবে। সিবিআইয়ের এক সময়ের কর্তা যে পুরোপুরি ফাঁকা আওয়াজ দেবেন না, সে বিষয়ে বিরোধী মহলে সংশয় নেই। বরং গোপন সূত্রের বহু খবর তাঁর কাছে এখনও আসে বলেই ধারণা বিরোধীদের। একই কারণে তোলপাড় শুরু হয়েছে গেরুয়া ব্রিগেডের মধ্যেও। দিল্লির দরবারে চর্চা চলছে, এর জন্য নাগেশ্বর রাওকে পাল্টা আঘাতের মুখে পড়তে হবে না তো?
মোদি সরকারের আমলের আইএএস অফিসার, অধুনা তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার বলেন, ‘তাপপ্রবাহ চলছিল দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে। তৃতীয় দফার পরও কিন্তু ওই রাজ্যগুলিতে ভোটদানের হার সন্তোষজনক। অথচ উত্তর ভারত বা হিন্দি বলয়ে ভোট কম পড়ছে। বিজেপি ভোট টানতে পারছে না। এর থেকে পরিষ্কার, ওদের কমিটেড ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন না। কোথাও মোদি ঢেউ পাওয়া যাচ্ছে না।’
We hate spam as much as you do