Tranding

11:06 AM - 22 Mar 2026

Home / National / আসামে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ২ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ ও ধর্মঘট

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ২ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ ও ধর্মঘট

আসামের দরং জেলায় তথাকথিত বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে দু'জন মারা যাওয়ার ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।আজ শুক্রবার 'অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন' বা 'আমসু' ও 'জমিয়তে উলেমা'সহ বেশ কিছু সংখ্যালঘু সংগঠন দরং জেলায় বারো ঘন্টার ধর্মঘট ডাকে। ভোর পাঁচটা থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় এলাকার জনজীবন বিঘ্নিত হয়।

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ২ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ ও   ধর্মঘট

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ২ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ ও   ধর্মঘট 

অসম পুলিশের গুলিতে নিহত পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ ও তুমুল বিক্ষোভ।

নয়াদিল্লির আসাম ভবনের বাইরে একটি বিক্ষোভ চলাকালে অসমে দুইজনকে হত্যার প্রতিবাদ জানাতে প্ল্যাকার্ড হাতে ছাত্র ছাত্রীরা। 


আসামের দরং জেলায় তথাকথিত বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে দু'জন মারা যাওয়ার ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।আজ শুক্রবার 'অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন' বা 'আমসু' ও 'জমিয়তে উলেমা'সহ বেশ কিছু সংখ্যালঘু সংগঠন দরং জেলায় বারো ঘন্টার ধর্মঘট ডাকে। ভোর পাঁচটা থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় এলাকার জনজীবন বিঘ্নিত হয়।

গত সোমবার থেকে দরং’এর চারটি জায়গা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলদার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গতকাল যে জায়গায় পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান আরম্ভ করে, সেখানে মূলত পূর্ববঙ্গ থেকে আগত বাংলাভাষী মুসলমানদের বাস। বুধবার তাঁদের সরে যাওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশের পাহারায় উচ্ছেদ শুরু হয়।বাসিন্দারা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করেন। পরে যখন তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁরা ইটপাটকেল ছোড়েন। তাতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন।

দরং জেলার পুলিশ সুপার ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাই সুশান্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, জনতা মারমুখী হয়ে ওঠায় পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তিনি জানান, নিহতদের নাম সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ফরিদ।তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কার্যত বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানো হয় এবং ঊর্ধ্বাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি করার ফলে দু'জন মারা যান। একজন প্রতিবাদকারীকে পুলিশ যখন মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে, তখন বানিয়া নামে একজন সরকারি ফটোগ্রাফার পৈশাচিক আনন্দে তাঁকে পর পর লাথি মারতে থাকেন এবং তাঁর বুকের উপর উঠে হাঁটু দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে তাঁকে মারেন। এই দৃশ্য ভিডিওতে প্রচার হলে চতুর্দিকে ছিঃছিঃ রব পড়ে যায়। পুলিশ সন্ধ্যেবেলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

তবে গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পুলিশের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, "বারবার চলে যেতে বলা সত্বেও ওই লোকেরা ওখানে জমি দখল করে বসে ছিল।কাজেই সরকারি জমিতে স্থানীয় লোকদের বৃত্তি শিক্ষার বিদ্যালয় তৈরির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।" তিনি জানান, শুক্রবারেও উচ্ছেদ অভিযান চলবে। যদিও আজ ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল, তবে নতুন করে উচ্ছেদ করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যাঁদের বেআইনি দখলদার বলা হচ্ছে, আসলে তাঁরা ওখানে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর ধরে বাস করছেন। ১৯৭০ সালের আগে থেকেই তাঁরা রয়েছেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do