ব্যাট করতে নেমে কার্যত অতর্কিতেই গুটিয়ে যেতে হল লখনৌকে। শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি লখনৌয়ের দুই ওপেনার প্রেরক মানকাড এবং কাইল মায়ার্স প্রথমেই আউট হয়ে যান। জোড়া আঘাত সামলে লখনৌয়ের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেছিলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং মার্কাস স্টোইনিস। ভালো টাচে ছিলেন অজি অলরাউন্ডার।
IPL-2023 ফাইনালের পথে মুম্বই! লখনৌ সুপার চূর্ণ হয়ে গেল
May 25, 2023
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১৮২/৮
লখনৌ সুপার জায়ান্টস: ১০১/১০
জোফ্রা আর্চার নেই। জসপ্রীত বুমরা নেই। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-এর কাছে অন্তত কোনও সমস্যা নেই। চলতি আইপিএল মুম্বইয়ের জার্সিতে নতুন তারার উত্থান দেখে গেল। আকাশ মাদওয়াল যে ভবিষ্যতের সুপারস্টার, দেখিয়ে দিল বুধবারের আইপিএলের প্ৰথম এলিমিনেটর।
যে আকাশের ছায়ায় চূর্ণ হয়ে গেল লখনৌয়ের ঐতিহাসিক তাজ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-এর কাছে এলিমিনেটরের প্রথম ম্যাচে দাঁড়াতেই পারল না লখনৌ। চিপকে কার্যত বিধ্বস্ত হল গম্ভীর বাহিনী। ১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে লখনৌ ব্যাটিং অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে বসল। ১৭ ওভারের মধ্যে লখনৌ খতম মাত্র ১০১ রানে। ৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মুম্বই এবার দ্বিতীয় এলিমিনেটরে মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটান্স-এর।
মুম্বইয়ের থেকে বলা ভালো আকাশের কাছে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য হল লখনৌ। স্কোরবোর্ডে ১৮২ তোলার পর মুম্বই পাওয়ার প্লের মধ্যেই ম্যাচের দখল নিয়ে ফেলেছিল। একমাত্র ক্রুনাল পান্ডিয়া-মার্কাস স্টোইনিসের পার্টনারশিপের সময়েই মনে হচ্ছিল চাপে রয়েছে মুম্বই। তবে ক্রুনাল আউট হতেই খতম লখনৌ। মুম্বই বোলারদের হয়ে নতুন তারা হিসাবে অবতীর্ণ হন আকাশ মাদওয়াল। দুর্ধর্ষ স্পেলে একই ওভারে নিকোলাস পুরান এবং আয়ুশ বাদোনিকে ফিরিয়ে ম্যাচে মুম্বইয়ের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার আগে ওপেনার প্রেরক মানকাডকেও ফেরান তিনি। শেষদিকে, রবি বিশ্নোই এবং মহসিন খানকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট সমাপ্ত করে যান তরুণ এই পেসার।
ব্যাট করতে নেমে কার্যত অতর্কিতেই গুটিয়ে যেতে হল লখনৌকে। শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি লখনৌয়ের দুই ওপেনার প্রেরক মানকাড এবং কাইল মায়ার্স প্রথমেই আউট হয়ে যান। জোড়া আঘাত সামলে লখনৌয়ের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেছিলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং মার্কাস স্টোইনিস। ভালো টাচে ছিলেন অজি অলরাউন্ডার। তবে ক্রুনাল আউট হতেই যেন লখনৌ ব্যাটিংয়ের হাড়-কঙ্কাল বেরিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন পান্ডিয়া আউট হওয়ার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই নিকোলাস পুরান এবং আয়ুশ বাদোনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
তারপরেও ঘটল ম্যাচের অবিশ্বাস্য সমস্ত মুহূর্ত। একসঙ্গে তিনটে রান আউটের সাক্ষী থাকল চিপক। তিনটে রান আউটের সঙ্গেই জুড়ে গেল দীপক হুডার নাম। প্রথমে মার্কাস স্টোইনিস, তারপর কৃষ্ণাপ্পা গৌতম এবং শেষে দীপক হুডা নিজে।
চিপকে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। রোহিত-ঈশান শুরুটা ঝড়ের গতিতে করেছিলেন। তবে দুজনেই পরপর দু-ওভারে ফিরে যান। আগের ম্যাচের শতরানকারী ক্যামেরন গ্রিন যেন আগের ম্যাচের ফর্মেই শুরু করেন। সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে জুড়ি বেঁধে তিনি ম্যাচের মোমেন্টাম টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। তবে দুই তারকাই মাত্র দু-বলের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার পর ব্যাপক বিপদে পড়ে গিয়েছিল মুম্বই। শেষদিকে তিলক ভার্মা এবং টিম ডেভিড ৪১ রানের জুটিতে দলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। নেহাল ওয়াদেরাও দুর্ধর্ষ খেলে মুম্বইকে ১৮২-এ পৌঁছে দিয়েছিলেন। শেষ বলে যদিও তিনি আউট হয়ে যান।
ক্রুনাল পান্ডিয়া প্ৰথমে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন দুই প্রান্তের দুই স্পিনারকে দিয়ে। তবে ক্রুনালের প্ল্যানিং বুমেরাং হয়ে যায়। দুই স্পিনারকেই পাওয়ার প্লেতে ওড়াতে থাকেন ঈশান কিষান এবং রোহিত শর্মা। দুই ওপেনারকে পরপর আউট করলেও পাওয়ার প্লেতে রানের গতি রুখতে পারেনি লখনৌ। ১১ তম ওভারে নভিন উল হকের হাতে বল তুলে দেন ক্রুনাল। ক্যাপ্টেনের আস্থার মর্যাদা দিয়ে একই ওভারে তিনি ফেরান সূর্যকুমার যাদব এবং ক্যামেরন গ্রিনকে। এরপরই ম্যাচে ফেরে লখনৌ। ইয়াশ ঠাকুর শেষ ওভারে ১৪ রান খরচ করে বসেন।
We hate spam as much as you do