মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর পালা। তাই বুধবার সকাল থেকেই মন খারাপ বাঙালির। তবে সেই মন খারাপকে তোয়াক্কা না করে আকাশে-বাতাসে বিদায়ের সুর বেজে ওঠার আগেই নবমী নিশিতে ভিড় জমিয়েছেন মণ্ডপে-মণ্ডপে। রাত যত বাড়ছে ততই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার রাজপথের দখল নিয়েছে জনস্রোত। কারও হাতে রেনকোট আবার কারও সঙ্গী ছাতা। কেউ আবার মাথা ঢেকেছেন পলিথিনের প্যাকেটে।
'যেও না নবমী নিশি' বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে মণ্ডপে-মণ্ডপে মানুষের ঢল
1 October 2025
দেখতে দেখতে শেষের লগ্নে পুজো। রাত পোহালেই বিজয়া দশমী। মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর পালা। তাই বুধবার সকাল থেকেই মন খারাপ বাঙালির। তবে সেই মন খারাপকে তোয়াক্কা না করে আকাশে-বাতাসে বিদায়ের সুর বেজে ওঠার আগেই নবমী নিশিতে ভিড় জমিয়েছেন মণ্ডপে-মণ্ডপে। রাত যত বাড়ছে ততই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার রাজপথের দখল নিয়েছে জনস্রোত। কারও হাতে রেনকোট আবার কারও সঙ্গী ছাতা। কেউ আবার মাথা ঢেকেছেন পলিথিনের প্যাকেটে।
এদিন সকালেও কলকাতা-সহ জেলায়-জেলায় আকাশ ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। আলিপুর আবহাওয়া অফিস দুর্যোগের আগাম আভাস দিলেও তা বিশ্বাস করতে চাননি উৎসবে মাতোয়ারা সাধারণ মানুষ। তবে অনেকেই ঝুঁকি নেননি। তেড়েফুঁড়ে বৃষ্টি নামার আগেই বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেমে পরেছেন রাস্তায়। ঢুঁ মেরেছেন মণ্ডপে-মণ্ডপে। ফলে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে গমগম করছিল কলকাতার নামী-দামী পুজোমণ্ডপ।
দুপুর তিনটের পরেই বদলে যায় আকাশের চেহারা। আচমকাই সূর্যৃইমামাকে আড়াল করে উঁকি দেয় কালো মেঘ। এক সময়ে মনে হচ্ছিল আকাশ ভেঙে ঝমঝমিয়ে নামবে বৃষ্টি। যদিও তেমনটা হয়নি। বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়। তাতে কিছুটা হলেও বাধ সাধে ঠাকুর দেখা। তবে ফের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিকেলেই নিজেদের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি না রেখে খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে পড়েন উৎসবের মেজাজে থাকা আমজনতা। অন্যান্য দিনের মতোই ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে অর্জুনপুর আমরা সবাই, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, দক্ষিণ দাঁড়ি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, তেলেঙ্গাবাগান করবাগান যুববৃন্দ, হাতিবাগান সর্বজনীন-সহ উত্তর কলকাতার বিখ্যাত পুজোমণ্ডপগুলিতে। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, কলেজ স্কোয়ার মহম্মদ আলি পার্কেও।
গতকাল অষ্টমীর বিকেল থেকেই ভিড়ে উত্তর ও মধ্য কলকাতাকে টেক্কা দিয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার পুজোমণ্ডপগুলি। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। চেতলা অগ্রণী নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘ ত্রিদঅরা সম্মিলনী, দেশপ্রিয় পার্ক ও মুদিয়ালী ক্লাবের মণ্ডপে শুধু কালো মাথার ভিড়। যে দিকেই তাকানো যাচ্ছে না কেন, শুধু মানুষ আর মানুষ। ভিড়ে থমকে গিয়েছে একাধিক রাস্তায় যান চলাচল। ‘নবমী নিশি’র আনন্দ মাটি হতে দেওয়া যাবে না-এমন এক শপথ নিয়েই রাজপথে নেমেছে মানুষ।
We hate spam as much as you do