তিনি শুধু দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতেন এমন নয়, ত্রিপুরায় সিপিএমের মুখপত্রের সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি সামলেছেন। গৌতমের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশের বাম নেতাকর্মীরা।
প্রয়াত ত্রিপুরা রাজ্য সিপিআইএম সম্পাদক সাংস্কৃতিক পুরোধা গৌতম দাস। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ।
করোনায় প্রয়াত হলেন ত্রিপুরার সিপিআইএম সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দাস। উল্লেখ্য সম্প্রতি তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসার জন্য তিনি ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসেন। কিন্তু কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেও শেষ রক্ষা হল না। বৃহস্পতিবার সকালেই গৌতম দাসের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন ত্রিপুরার সিপিআইএম সম্পাদক গৌতম দাস। বার্ধ্যক্যজনিত কারণে শারীরিক জটিলতা বেড়ে গিয়েছিল। উন্নতমানের চিকিৎসরা জন্য এরপর তাঁকে ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতেই তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে শুরু করে। এদিন সকালে ৬ টা ৪৫ মিনিটে নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃত্যুকালীন বয়েছিল ৭০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরা সিপিএমের সদস্যরা।
গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ভর্তি করানো হয় বাইপাসের ধারের ওই বেসরকারি হাসপাতালে। বুধবার রাত থেকে ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর আবারও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল আসার আগেই বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ছাত্র আন্দোলনের ফসল গৌতম ত্রিপুরার রাজনীতিতে ছিলেন এক উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি শুধু দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতেন এমন নয়, ত্রিপুরায় সিপিএমের মুখপত্রের সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি সামলেছেন। গৌতমের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশের বাম নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন গৌতম দাস। ১৯৭০ সালে তিরুবন্তপুরম এসএফআই গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন করা হয়। সেখানেই প্রতিনিধি ছিলেন গৌতম দাস। রাজ্য়ে থেকে উপস্থিত ছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী, শ্যামল চক্রবর্তী মতো বরিষ্ঠ নেতারা।ত্রিপুরা থেকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম শীর্ষ নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। উল্লেখ্য, এই সম্মেলন থেকই এসএফআই-র সাধারণ সম্পাদক হন বিমান বসু।
তিনি ছিলেন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের দায়িত্বে এবং সংস্কৃতি সমন্বয়ের মুখ্য পরিচালক। গৌতম দাস প্রথম আলোচিত হন রাজনৈতিক জগতে সেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়। কমিউনিস্ট পার্টির যে তরুণ দল ঝাপিয়ে পরেছিল তার অন্যতম মুখ্য নাম গৌতম দাস। সেজন্য বাংলাদেশের সাথে ওনার অভিন্ন সম্পর্ক ছিল। এই সেদিনও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে উনি আর সীতারাম ইযেচুরি গিয়েছিলেন।
ইতিমধ্য়েই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দাসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে 'লাল সেলাম কমরেড' বলে জানিয়েছে বামেরা। প্রসঙ্গত, কোভিড বর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন।
গভীর শোক প্রকাশ করলেন মানিক সরকার থেকে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
We hate spam as much as you do