মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান-হামলার ফলে কূটনীতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গিয়েছে বলে খবর। এর জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম গত সাত মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে; অফশোর লেনদেনে প্রায় ১০% বেড়েছে। ইরানের তেল রফতানি ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯০ ডলারে পৌঁছাতে পারে-- তৈরি হয়েছে এমনই আশঙ্কা! এদিকে, বাজার খোলার আগেই সোনা ও রুপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হরমুজ বন্ধ? পেট্রল- ডিজেল! হু হু করে ৫৭% বাড়তে পারে, ভারতে হতে পারে সংকট তেলের বাজার।
01 Mar 2026
বিশ্ববাজারে (Global energy markets) জ্বালানি তেলের দাম (Price Rise fuel) কি এবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে? ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েল জোড়া হামলার জেরে (joint U.S. and Israeli strikes on Iran) পরিস্থিতি অন্তত সেদিকেই যাচ্ছে। এমন জায়গায় তেলের দাম উঠতে পারে, যা গত এক দশকে ঘটেনি! আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ১০০ ডলার পার করতে পারে তেলের দাম!ইরান (Iran) হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে (blocks Strait of Hormuz), সেজন্যই এই ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা! বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দর এখনকার চেয়ে ৫৭% পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান-হামলার ফলে কূটনীতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গিয়েছে বলে খবর। এর জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম গত সাত মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে; অফশোর লেনদেনে প্রায় ১০% বেড়েছে। ইরানের তেল রফতানি ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯০ ডলারে পৌঁছাতে পারে-- তৈরি হয়েছে এমনই আশঙ্কা! এদিকে, বাজার খোলার আগেই সোনা ও রুপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুই হয়ে গেল পশ্চিম এশিয়ায়। ইউএস-ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণ ইরানে। পাল্টা জবাব দিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা না জানালেও, সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, আপাতত ওই রুট ঘুরপথে আটকে দেওয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছে তারা। এবং একাধিক নামী তেল উৎপাদনকারী সংস্থা এবং ট্রেডিং হাউসগুলিও জানিয়ে দিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজপথে পণ্য পরিবহণ বন্ধ রাখছে তারা।
মার্কিন নৌসেনার হুঁশিয়ারি
পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ট্যাঙ্কার অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারট্যাঙ্কো-ও জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন নৌসেনার তরফে ইতিমধ্যেই তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, এই যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকা দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবে না মেরিনস। ফলে, আপাতত ওই পথ দিয়ে ব্যবসায়িক সব রকম গতিবিধি বন্ধই রাখা হচ্ছে।
৫৭% পর্যন্ত বৃদ্ধির আশঙ্কা
আর এসবের জেরে বিশ্ববাণিজ্যে যে এর প্রবল ক্ষতিকার প্রভাব পড়বে, তা বোঝা কঠিন নয়। যুদ্ধের প্রভাবে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দর এখনকার থেকে ৫৭% পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আর ভারতে?
ভারতের বার্ষিক চাহিদার ৫০% অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। যেজন্য প্রণালী বন্ধ হলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়বে যে সব দেশ, সেই তালিকায় উপরের দিকেই নাম থাকবে ভারতের। ২০২৫ সালে যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে এই পথে প্রতিদিন ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আনাত ভারত, সেখানে এখন সেটা ২৬ লক্ষ ব্যারেলে এসে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে প্রধানত ইরাক-সৌদি আরব-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত থেকে এই পথে আনা হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ তেল।
হরমুজ প্রণালি ছাড়া আর পথ নেই?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে রাশিয়া ছাড়া ইউএস-পশ্চিম আফ্রিকা (নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা), লাতিন আমেরিকা (ব্রাজিল-কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা) থেকেও তেল আনার বিকল্প রয়েছে ভারতের সামনে। কিন্তু এতে পণ্য পরিবহণের খরচ যে পরিমাণ বাড়বে, তাতে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আগুন হবে। তখন কী হবে?
We hate spam as much as you do