বারুদের স্তূপের ওপর কার্যত দাঁড়িয়ে রয়েছে বীরভূম। গত চার দিনে ৪০০-র বেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে জেলা জুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। মাড়গ্রাম, দুবরাজপুর, লাভপুর, মল্লারপুর থেকে প্রচুর বোমা উদ্ধার হয়েছে। শুধু বোমাই নয়, উদ্ধার হয়েছে ৩০ কেজিরও বেশি বোমা তৈরির মশলা। এত বোমা ও বোমার মশলা উদ্ধার নিয়ে শাসক দলকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, বীরভূম জেলায় বাড়িতে বাড়িতে বোমা মজুত রয়েছে।
বিপুল বোমা উদ্ধার বীরভূমে! ৪ দিনে ৪০০-যা আছে তাতে 'একটা দেশ উড়ে যাবে’,
বীরভূম - newscopes.in
বোমার স্তুপের উপর বসে আছে বীরভূম জেলা! জনগণের মাথায় হাত! এত বোমা উদ্ধার হচ্ছে যা দিয়ে 'একটা দেশ উড়ে যাবে', মন্তব্য বিরোধী দলের বিশেষ করে কংগ্রেসের বীরভূম জেলা নেতার! ৪ দিনে ৪০০-র বেশি বোমা উদ্ধার বীরভূমে।
কার্যতই জতুগৃহে পরিণত হয়েছে বীরভূম। জেলায় পুলিশি অভিযান চালিয়ে চার দিনের মধ্যে উদ্ধার ৪০০ এর ও বেশি তাজা বোমা৷ সেই সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে বারুদ এবং বোমা তৈরির সামগ্রিও। মাড়গ্রাম, লাভপুর, দুবরাজপুর, মল্লারপুর, এই সমস্ত এলাকাগুলি থেকে মিলেছে অগণিত বোমা। যার ফলে কার্যতই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়েও। স্বভাবতই এই বোমা ইস্যুতে বিস্ফোরক বিরোধী শিবির। বীরভূমের বাড়ি বাড়ি বোমা মজুত করা হচ্ছে, আর তা হচ্ছে শাসকদলের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে, এমনটাই অভিযোগ তাদের। যদিও তৃণমূলের পাল্টা জবাব কড়া হাতেই সবদিক সামলে পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বারুদের স্তূপের ওপর কার্যত দাঁড়িয়ে রয়েছে বীরভূম। গত চার দিনে ৪০০-র বেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে জেলা জুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। মাড়গ্রাম, দুবরাজপুর, লাভপুর, মল্লারপুর থেকে প্রচুর বোমা উদ্ধার হয়েছে। শুধু বোমাই নয়, উদ্ধার হয়েছে ৩০ কেজিরও বেশি বোমা তৈরির মশলা। এত বোমা ও বোমার মশলা উদ্ধার নিয়ে শাসক দলকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, বীরভূম জেলায় বাড়িতে বাড়িতে বোমা মজুত রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া হাতে প্রশাসন সামলাচ্ছেন। সব থানার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বেআইনি সব অস্ত্র ও বোমা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তার জেরেই পুলিশ এত বোমা-অস্ত্র উদ্ধার করছে।
জেলার বিরোধী শিবিরের নেতারা বলছেন, বীরভূমে যা বোমা মজুত আছে, তাতে একটা দেশ উড়ে যাবে। আর তৃণমূলের পাল্টা সাফাই, কড়া পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিতেই চার দিনে ৪০০-র বেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে বীরভূম জেলায়।
গত বৃহস্পতিবার থেকেই বীরভূমে শুরু হয় বোমা উদ্ধারের পালা। শুক্রবার বীরভূমের মাড়গ্রামে উদ্ধার হয় ৬০ টি তাজা বোমা, তারপর শনিবারও মাড়গ্রামেই উদ্ধার হয় আরও ১০০ টি বোমা। রবিবার দুবরাজপুরে উদ্ধার হয় ৩০টি বোমা। পাশাপাশি আরও তিন কেজি বারুদ উদ্ধার হয় সেখান থেকে। অন্যদিকে দুটি ড্রাম ভর্তি প্রায় ৪০ টি বোমা উদ্ধার হয় মল্লারপুরে। সোমবারও বীরভূমে সেই বোমা উদ্ধার অব্যহত ছিল। বীরভূমের দুবরাজপুর ও লাভপুরে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪০ টি বোমা।
সোমবার বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের সাহাপুর প্রাথমিক উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত বাথরুমের চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় বোমা। পুলিশ সূত্রে খবর, আনুমানিক ৩০ টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে সদাইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ও উদ্ধার করে বোমাগুলি।
অন্যদিকে, দীর্ঘ দু দিন ধরে তল্লাশি করার পর অবশেষে লাভপুর থানার পুলিশ লাভপুরের সাও গ্রামের নদীপাড়ের একটি ঝোপ থেকে দুই ড্রাম তাজা বোমা উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে প্রায় ১১০ টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। তবে কে বা কারা কোন উদ্দেশ্যে এই বোমা মজুত করে রেখেছিল, তার তদন্ত শুরু করছে লাভপুর থানার পুলিশ।
বিরোধীরা বলছেন যা আছে তার কিছুটা উদ্ধার করে দেখানো হচ্ছে। আসলে যা আছে তা বিপুল পরিমান।
বীরভূমের কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট চঞ্চল চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বীরভূম বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িতে বাড়িতে বোমা মজুত রয়েছে। এমনকি, এই উদ্ধার শুধু মাত্র চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। চঞ্চল বাবুর দাবি, বীরভূমে যা বোমা মজুত আছে তাতে একটা দেশ উড়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের জন্য সিদ্ধান্তের জন্যই প্রশাসন কাজ করছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে তাহলে মুখ্যমন্ত্রী না বললে প্রশাসন কোন কাজ করবে না? যা তাদের রোজকার কাজ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া? বীরভূম জেলায় এই নাটকীয় ঘটনা না ঘটলে এই বোমা তো থেকেই যেত এবং তা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে কাজে লাগত বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
জেলা থেকে এই বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে বীরভূম কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি চঞ্চল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যা বোমা উদ্ধার হয়েছে, তা কিছুই নয়। এর থেকে বহু গুণ বেশি বোমা মজুত রয়েছে বীরভূমে। এই জেলা পুরো বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে। বগটুই কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বীরভূমে যা বোমা আছে, তা শুধু এই জেলাই নয়, গোটা একটা দেশ উড়ে যেতে পারে।” তাঁর অভিযোগ, এর আগে বহু বার বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র মজুতের বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। পুলিশ সব জেনেও চুপ করে বসে আছে।
We hate spam as much as you do