কৃতজ্ঞতা স্বরূপ,আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সকল সতীর্থকে একটি করে সোনার আই - ফোন উপহার দিলেন ফুটবল রাজপুত্র। আর এতেই বেজায় বিস্মিত আর্জেন্টিনার জনগণ। প্রসঙ্গত, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন আর্জেন্টিনা। মুদ্রাস্ফীতি বেকারত্ব, নিম্নমুখী জিডিপি, সবমিলিয়ে বেনজির সংকটের সম্মুখীন আর্জেন্টিনার জনগণ। তবুও, তাঁরা সর্বস্ব বাজি রেখে কাতারে পারি দিয়েছিলেন, প্রিয় অধিনায়কের বিশ্বজয়ের সাক্ষী থাকতে। মনে পড়ে ৩৪ বছর বয়সী মাসিনেল্লীর কথা? যে নিজের টয়োটা ট্রাক বিক্রি করে বেদুইনদের দেশে থাকা, খাওয়ার খরচ জোগাড় করেছিলেন। বা বছর ২৪'র বেলেনির কথা? যে নিজের শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে, পরিবারের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে লা আলবিসেলেস্তে ব্রিগেডের বিশ্বজয়ের সাক্ষী হতে এসেছিলেন?
সোনায় মুড়ে দিলেন মেসি, ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনার জনগণ
রোজারিও, ৩ মার্চ ২০২৩
- প্রায় ৩৬ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। তার ফলস্বরূপ, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে সোনার বল পেয়েছেন। গত মাসে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের শিরোপাও ছিনিয়ে নেন তিনি । ২০২২ - ২৩ মরসুম লিওনেল মেসির কাছে আক্ষরিক অর্থেই সোনার মরসুম। তারই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ,আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সকল সতীর্থকে একটি করে সোনার আই - ফোন উপহার দিলেন ফুটবল রাজপুত্র। আর এতেই বেজায় বিস্মিত আর্জেন্টিনার জনগণ।
প্রসঙ্গত, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন আর্জেন্টিনা। মুদ্রাস্ফীতি বেকারত্ব, নিম্নমুখী জিডিপি, সবমিলিয়ে বেনজির সংকটের সম্মুখীন আর্জেন্টিনার জনগণ। তবুও, তাঁরা সর্বস্ব বাজি রেখে কাতারে পারি দিয়েছিলেন, প্রিয় অধিনায়কের বিশ্বজয়ের সাক্ষী থাকতে। মনে পড়ে ৩৪ বছর বয়সী মাসিনেল্লীর কথা? যে নিজের টয়োটা ট্রাক বিক্রি করে বেদুইনদের দেশে থাকা, খাওয়ার খরচ জোগাড় করেছিলেন। বা বছর ২৪'র বেলেনির কথা? যে নিজের শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে, পরিবারের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে লা আলবিসেলেস্তে ব্রিগেডের বিশ্বজয়ের সাক্ষী হতে এসেছিলেন?
তাঁরা নিরাশ হননি। মেসিরা তাঁদের আবেগের যোগ্য মর্যাদা দেন। মেসির অধরা মাধুরী চুম্বনের দৃশ্য বেশ কয়েকদিনের জন্যে তাঁদের সমস্ত যন্ত্রণা লাঘব করে দেয়। লাতিন আমেরিকানরা এরকমই! মনে আছে, ফুটবল সম্রাট পেলের সেই বিখ্যাত উক্তি, 'ইউরোপিয়ানরা মস্তিষ্ক দিয়ে খেলে। আর আমরা (লাতিন আমেরিকানরা) খেলি হৃদয় দিয়ে। তবে, এরপরই ফের বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়েন আপামর আর্জেন্টিনার জনগণ। বিশ্বকাপ জয় ক্ষনিকের জন্যে মানসিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনতে পারে না। তাই, ফের অকুল পাথারে মারাদোনা, মেসির দেশ। আর এই সংকটের মাঝে সতীর্থদের আই - ফোন ফোন দেওয়াটা ভালো ভাবে নিতে পারছেন না তাঁর সহ নাগরিকরা।
সেনেগালের সাদিও মানে যেখানে নিজের আয়ের একটা বিশাল অংশ দেশের গরীব মানুষের স্বার্থে ব্যয় করেন সেখানে মেসির এই বিলাসিতা কিছুতেই মানতে পারছে না তাঁর ভক্তদেরই একটা বিশাল অংশ। গোটা দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। উঠে আসছে বার্সেলোনায় থাকাকালীন তাঁর কর ফাঁকি দেওয়ার প্রসঙ্গও। সব মিলিয়ে বেজায় বিপাকে বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
We hate spam as much as you do