রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মীনাক্ষী বলেন, “গোটা রাজ্যের সরকার অপরাধীদের বাঁচানো ছাড়া কোন কাজ করেছে? যাঁরা অযোগ্য, যাঁরা ঘুষ নিয়েছিল তাঁদের ধরতে পারে না। সেলাম ঠুকছে। যাঁরা প্রতিবাদ জানাতে এসেছিল তাঁদের নিয়ে গিয়েছে। ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে প্ররোচনা দিয়েছে। আগে ওদের ছাড়বে। তারপর আমরা আমাদের ডেপুটেশন এসএসসি-র অফিসে দেব।”
যোগ্যদের নিয়োগের দাবিতে, বাম ছাত্র যুব শিক্ষকদের SSC ভবন অভিযানে ধুন্ধুমার, আটক বেশ কয়েকজন
Apr 27, 2024
যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে রাজপথে তুলকালাম। বাম ছাত্র-শিক্ষক সংগঠনের SSC ভবন অভিযানে ধুন্ধুমার। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়দের। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটকও করেছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছে ২০১৬ সালের প্রায় ২৬ হাজার চাকরি। তারপর থেকেই তা নিয়ে শোরগোল চলছে গোটা রাজ্যে। জোর চাপানউতোর চলছে রাজনীতির আঙিনাতেও। যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছে বামেরা। উঠেছে অযোগ্যদের শাস্তির দাবিও। এবার সেই দাবিকে সামনে রেখে এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দেয় বাম ছাত্র-শিক্ষক সংগঠন। কিন্তু, করুণাময়ী থেকে মিছিল এগোতেই পথ আটকায় পুলিশ।
SFI-DYFI-ABTA সহ অন্যান্য বাম সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় রাস্তাতেই। মীনাক্ষী মুখার্জি, হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, সপ্তর্ষি দেব, দেবাঞ্জন দে‘রা সামনে থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দাবদাহকে উপেক্ষা করেই যোগ্য চাকরি প্রার্থীরা এবং যোগ্য চাকরিজীবীরা সেই মিছিলে যোগ দেন। করুণাময়ী থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষন পরপরই পুলিশ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশি বাধা পেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে কথা কাটাকাটি পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই ঘটনায় নেতৃত্ব সহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, এসএফআই-র একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বচসা চলতে থাকে পুলিশের। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মীকে পুলিশ আটক করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্রুত তাঁদের না ছাড়লে আন্দোলনের দাপট আরও বাড়বে বলে সুর চড়াতে দেখা যায় মীনাক্ষীদের। এদিকে বিধাননগর পুলিশের আধিকারিকরা সাফ জানান করুণীময়ী থেকে আর এগোনা যাবে না। কিন্তু, এসএসসি ভবন যেতে অনড় বাম কর্মীরা। তাতেই আরও তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভেঙে ফেলা হয় একের পর এক ব্যারিকেড।
মিছিল আটকাতে যোগ্য চাকরিজীবীদের এবং বাম ছাত্র যুব শিক্ষকদের ওপর বেপরোয়া লাঠি চালায় পুলিশ। পায়ে আঘাত পেয়েছেন মীনাক্ষী মুখার্জি। আন্দোলনকারিদের জোর করে গ্রেপ্তার করার সময় প্রিজেন ভ্যানের ভিতর তাদের মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারিরা।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মীনাক্ষী বলেন, “গোটা রাজ্যের সরকার অপরাধীদের বাঁচানো ছাড়া কোন কাজ করেছে? যাঁরা অযোগ্য, যাঁরা ঘুষ নিয়েছিল তাঁদের ধরতে পারে না। সেলাম ঠুকছে। যাঁরা প্রতিবাদ জানাতে এসেছিল তাঁদের নিয়ে গিয়েছে। ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে প্ররোচনা দিয়েছে। আগে ওদের ছাড়বে। তারপর আমরা আমাদের ডেপুটেশন এসএসসি-র অফিসে দেব।”
শিক্ষক নিয়োগ দূর্নীতি মামলায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছে হাইকোর্ট। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি রশিদের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন সোমবার। যাদের চাকরি বাতিল করা হলো তাদের বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী একমাসের মধ্যে সেই টাকা তাদের ১২ শতাংশ সুদ সমেত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের এই রায়ের পর শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে যোগ্যতার নিরিখে চাকরি পেয়েছেন তাদের হয়ে তারা আদালতের আইনি লড়াই লড়বেন। বৃহস্পতিবার এবিটিএ’র এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু যোগ্যতার সাথে চাকরি পাওয়া এসএসসি ২০১৬ সালে প্যানেলের শিক্ষক শিক্ষিকারা এবিটিএ ভবনে গিয়ে আইনি ফর্মপুরন করছেন।
এবিটিএ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের চাকরি কোন ভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না।
রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের দুর্নীতির কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক তাদের চাকরি হারাতে বসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে দাবি করছেন তিনি জানেন না কোন দপ্তর কি ভাবে নিয়োগ করেছে।
উল্লেখ্য এসএসসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদনে সুপার নিউমেরিক্যাল পোস্ট (অতিরিক্ত পদ) তৈরি করা হয়। সোমবার হাইকোর্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাঁরা এই পদ তৈরি করেছে তাদের প্রয়োজনে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা।
We hate spam as much as you do