ছত্তিসগড়ে তরুণ সাংবাদিক মুকেশ চন্দ্রকর বস্তার জেলার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ১২০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে খবর করেছিলেন। গঙ্গালুর থেকে হিরোলি পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছিল ৫০ কোটি টাকার। কিন্তু, পরে সেই নির্মাণ খরচ ১২০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। রাস্তা নির্মাণের ঠিকাদার সুরেশ চন্দ্রকরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
ছত্তীসগড়ে তরুণ সাংবাদিক মুকেশের নৃশংস খুনে গ্রেপ্তার ৩ আত্মীয়
6th January 2025
ছত্তীসগড়ের বস্তার জেলায় ১২০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে খবর করেছিলেন। শুক্রবার বিজাপুরের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয় তরুণ সাংবাদিক মুকেশ চন্দ্রকরের দেহ। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার রাতে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হল সাংবাদিকের আত্মীয় সুরেশ চন্দ্রকরকে। তিনিই এই খুনের মাস্টার মাইন্ড, জানাল পুলিশ।
১ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুকেশ। তাঁর দাদা যুকেশ চন্দ্রকর পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই মুকেশের ফোন সুইচড অফ ছিল। ঘটনায় আগেই তুতো ভাই রীতেশ চন্দ্রকর-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার হায়দরাবাদ থেকে সুরেশকে গ্রেফতার করা হল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন চন্দ্রকর তাঁর ভাই রীতেশ এবং মহেন্দ্র রামটেকের সঙ্গে সুরেশ চন্দ্রকরের বাড়িতে নৈশভোজ করেছিলেন। সেই সময়ে তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। রীতেশ এবং মহেন্দ্র লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করে মুকেশকে। মুকেশকে হত্যা করে একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে দেহ লুকিয়ে রেখে সিমেন্ট দিয়ে ট্যাঙ্কের মুখ জমিয়ে দেওয়া হয়।
ছত্তিসগড়ে তরুণ সাংবাদিক মুকেশ চন্দ্রকর বস্তার জেলার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ১২০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে খবর করেছিলেন। গঙ্গালুর থেকে হিরোলি পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছিল ৫০ কোটি টাকার। কিন্তু, পরে সেই নির্মাণ খরচ ১২০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। রাস্তা নির্মাণের ঠিকাদার সুরেশ চন্দ্রকরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনা সামনে আসার পরই গা ঢাকা দেন সুরেশ। হায়দরাবাদে গাড়ি চালকদের সঙ্গে একটি বাড়িতে থাকছিলেন। পুলিশ ৩০০টি মোবাইল থেকে ২০০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সুরেশকে ট্র্যাক করে। রবিবার রাতে তাঁকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সুরেশের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। বেআইনিভাবে তৈরি করা একটি বাড়িও ভেঙে ফেলা হয়েছে। সুরেশের স্ত্রীকে কাঙ্কের জেলা জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে ছত্তীসগড় পুলিশ। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে, এরই মধ্যে সামনে এসেছে সাংবাদিকের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। মাথায়, বুকে, পিঠে ও পেটে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিভার চার টুকরো হয়ে গেছিল। মাথা ১৫টা টুকরোয় ভাঙা, পাঁজরের পাঁচটা হার টুকরো টুকরো হয়ে গেছিল। হৃদপিন্ড ও গলার ভাঙা অংশ শরীর থেকে বেরিয়ে এসেছিল।
খুনের নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠছেন চিকিৎসকরাও। জানাচ্ছেন, এমন দেহ তাঁরা নিজেদের কর্মজীবনে পাননি। মনে করছেন, দুইয়ের অধিক মানুষ এই খুনের সঙ্গে জড়িত।
We hate spam as much as you do