সংক্রমণের দুটি ঢেউয়ের সংক্রমণ যাঁরা এড়িয়ে গিয়েছেন, এ বার তাঁদের সংক্রমণের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্যারা।
৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ ,দু ডোজ ভ্যাকসিনেসন মাত্র ৫% এর
চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে বেশ চিন্তিত। এরই মধ্যে উদ্বেগ মহারাষ্ট্রকে ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের গঠিত টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞদের মতে, আনলক পর্ব শুরু হতেই যে হারে জনগণের ভিড় দেখা যাচ্ছে, তাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
এদিকে এইমস এর প্রধান ডাঃ রনদীপ গুলেরিয়া NDTV কে একটি সাক্ষাতকারে জানালেন তৃতীয় ঢেউ আর ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে ভারতে আসছে , বলে খবরে প্রকাশ । দেশের সামনে এই মুহূর্তে কত বেশি সংখ্যায় মানুষকে টিকা করন করা যাবে তাই চ্যালেঞ্জ । কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে সময় বাড়িয়ে খারাপ হয়নি , বরং বেশি মানুষকে প্রথমটা দিয়ে দেওয়া জরুরি ।
এই তৃতীয় ঢেউয়ে ভাইরাসের মিউটেশনের চরিত্র বোঝার জন্য ভারতে একটা নতুন গবেষক দল তৈরি হচ্ছে । ডাঃ গুলেরিয়া ডেল্টা ভারিএন্ত থেকে নতুন ডেলটা প্লাস সম্পর্কে জানিয়েছেন । বিভিন্ন জায়গায় ভিড় বা লকদাউন তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে তীব্র উদ্বেগের কারন হিসেবে বর্ণনা করেন ।
সংক্রমণের দুটি ঢেউয়েই সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছিল মহারাষ্ট্র। তাই এ বারও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। সেই কারণেই তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনা ও তীব্রতা নিয়ে কোভিড টাস্ক ফোর্সের মতামত চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডঃ রাহুল পণ্ডিত বলেন, “যদি সময়ের আগেই তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে, তার জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের কিছু গাণীতিক মডেল অনুসরণ করে এবং তারপর বিশ্বের বাকি দেশগুলিতে সংক্রমণের ঢেউগুলি কেমন ছিল, তা যাচাই করেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি বলেন, দুটি ঢেউয়ের মাঝে ১০০ থেকে ১২০দিনের ব্যবধান থাকে। বেশ কয়েকটি দেশে ১৪-১৫ সপ্তাহ পরেও সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আবার কোনও দেশে ৮ সপ্তাহের ব্যবধানেই ফের সংক্রমণ বেড়েছে। সুতরাং আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
সংক্রমণের দুটি ঢেউয়ের সংক্রমণ যাঁরা এড়িয়ে গিয়েছেন, এ বার তাঁদের সংক্রমণের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্যারা।
শোনা যাচ্ছে সংক্রমণের এই ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগে থেকেই কিছু বলা খুব কঠিন। যাঁরা আগের দুটি ঢেউ এড়িয়ে গিয়েছেন, তাঁরা এই ঢেউয়ে আক্রান্ত হতে পারে।
এইমস এর প্রধান ডাঃ গুলেরিয়া জানিয়েছেন ,এখনো পর্যন্ত দেশে মাত্র ৫% দুটো ডোজ ভ্যাকসিনেসন সম্পন্ন হয়েছে। তাহলে কি করে এই তৃতীয় ঢেউ সামলানো সম্ভব ?
ইংল্যান্ড শুধুমাত্র Astrazenaca ( যা ভারতে কোভিশিল্ড) এর জন্য এক ডোজের নীতি নেয়নি, ফাইজারের ক্ষেত্রেও তাই নিয়েছে।
একটা ডোজের নীতি খারাপ নয় , এর ফলে দেশের বড় অংশের মানুষের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব ।
যাই হোক দ্রুত ভ্যাকসিনেসন সম্পুর্ণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
We hate spam as much as you do