সব আসনেই জোরদার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল । কিন্তু বিরোধীরা আশ্চর্যভাবে বিজেপির প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্কৃয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সত্যিই কেন্দ্রীয় বাহিনী গত ছয় দফার তুলনায় যথেষ্টই সক্রিয়তা কম ছিল। তাদের সামনে বিভিন্ন অগনতান্ত্রিক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
ভুয়ো এজেন্ট থেকে গুলি, অশান্তির আবহেই রাজ্যে শেষ দফা ভোটে ৬৯.৮৯%
1জুন 2024
শনিবার লোকসভার সপ্তম তথা শেষ দফায় রাজ্যে ভোট হল, উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, দমদম, বারাসত, বসিরহাট, যাদবপুর, ডায়মন্ডহারবার, মথুরাপুর ও জয়নগরে আসনে। ভোট গ্রহন শুরুর আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে। ইভিএম জলে ফেলে দেওয়া থেকে শুরু করে গোলাগুলি, বোমা, হাতাহাতি, প্রার্থীদের ঘিরে বিক্ষোভ স্লোগান কিছুই বাদ যায়নি। এক কথায় আশান্তির আবহেই রাজ্যে চলছে ৯ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন। এদিন ৯টি কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোট হয়েছে গড়ে ৬৯.৮৯ শতাংশ।
সব আসনেই জোরদার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল । কিন্তু বিরোধীরা আশ্চর্যভাবে বিজেপির প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্কৃয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সত্যিই কেন্দ্রীয় বাহিনী গত ছয় দফার তুলনায় যথেষ্টই সক্রিয়তা কম ছিল। তাদের সামনে বিভিন্ন অগনতান্ত্রিক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে ভাঙড়ে। কারণ সেখানে নির্বাচন মানেই হিংসা সন্ত্রাস। এই নির্বাচনও বাদ গেল না। বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পরও ভোট শুরুর আগে থেকেই উত্তপ্ত হয় ভাঙড়। সেখানকার একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর আসতে থাকে। দফায় দফায় আইএসএফ এবং তৃণমূলের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। বুথে এজেন্ট বসাতে গেলে আইএসএফ-এর উপর হামলা করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা, এমনই অভিযোগ। দু’পক্ষের হাতাহাতিতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
শুরুতেই বরানগরে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যকে তৃণমূল কর্মীরা তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বুথে ঘোরার ক্ষেত্রে বিতর্ক করে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে বুথে ঢোকার ক্ষেত্রে আটানোর চেষ্টাকে অশান্তি সৃষ্টি করবার প্রক্রিয়া বলেই সকলে মনে করেছেন
এদিন সকালে ভাঙড়ের সাতুলিয়ায় গুলি চলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর মিলেছে। প্রকাশ্য রাস্তায় বেশ কয়েকটি বোমা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেগুলি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এলাকায়। আইএসএফ দাবি করেছে, তাঁদের এক কর্মীর পায়ে গুলি লেগেছে। কিন্তু তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তৃণমূল বাধা দিয়েছে।
এদিন শেষ দফার ভোট শুরুর ২০ মিনিট পরই এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কুলতলিতে। তৃণমূল ভোট দিতে যেতে দিচ্ছে না, বাধা দিচ্ছে। ক্ষুব্ধ হয়ে ইভিএম-ভিভিপ্যাট পুকুরে ফেলে দিলেন গ্রামবাসীরা! যদিও ওই এলাকায় ভোটদানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে সকাল ৮টা পর্যন্তও কুলতলির ৪০ এবং ৪১ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। নতুন ইভিএম মেশিন আনা হয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছে, ওই ইভিএম-ভিভিপ্যাট ভোট কেন্দ্র থেকে লুট হয়নি। বুথের বাইরে সেক্টর অফিসারের গাড়িতে যে রিজার্ভ ইভিএম থাকে তা বের করেই জলে ফেলা হয়েছে। তাই ভোটগ্রহণ পর্বে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
ভোট শুরু হওয়ার কিছু পরেই কাশীপুর ২৬ নং বুথে বিজেপি এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে খবর আসে। সেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। তিনি পৌছতেই তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তাপসের অভিযোগ, গতকাল রাত থেকেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিজেদের কব্জায় রাখতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা হুমকি দিয়ে এসেছেন ভোটারদের। পাশাপাশি সকালে যারা বুথে এসেছেন সেই ভোটারদের প্রভাবিত করছে তৃণমূল। বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের বক্তব্য, তৃণমূল যদি এলাকায় উন্নয়ন করে থাকে তাহলে বাধা দেওয়ার দরকার পড়ে না। সকলে শান্তিপূর্ণ ভোট চায়। কিন্তু গতকাল রাত থেকে একাধিক জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে। সকাল থেকে বেশি মাত্রায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তবে তাপস বলেন, অভিযোগ করার পরই সেখানে বাহিনী পৌঁছেছে।
তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, উত্তর কলকাতায় সুস্থভাবে ভোট হচ্ছে। তাপস রায় সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে শুধু উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে। এই আসনে বিজেপির কিছুই নেই, তাই এসব করে খবরে থাকার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ করছে বিজেপি, সেটাও অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
শনিবার সকাল সকাল ভোট দিতে বেরিয়ে পড়েন মিঠুন চক্রবর্তী। এদিন তিনি ভোট দিয়েছেন বেলগাছিয়ার একটি বুথে। সাধারণ ভোটারদের মতোই তিনি গরমে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। অনেকেই তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন এগিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি তাতে রাজি হননি। তাঁকে সামনে পেয়ে অন্যান্য ভোটাররা ভিড় জমান তাঁর আশপাশে।
এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে সিপিএমের এজেন্ট সেজে বুথে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বসেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের আটকৃষ্ণ রামপুরের ২৭১ নম্বর বুথের ঘটনা।
ওই ভুয়ো এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দেন প্রিসাইডিং অফিসার। জানা গিয়েছে, বুথের বাইরে সেই এজেন্টের সঙ্গে হাতাহাতি হয় সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর রহমানের। এরপরই মুখ লুকিয়ে পালান সেই ভুয়ো এজেন্ট। প্রতীক উরের অভিযোগ, ওই ভুয়ো এজেন্ট আদতে স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতা। বুথের ভিতরে সিপিএম (CPM) এজেন্ট হিসাবে বসেছিলেন তিনি।
এদিকে কলকাতার দক্ষিণের সিপিএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিমের নির্বাচনি এজেন্ট কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, বুথের বাইরে তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান সায়রার এজেন্ট। সেখানেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কৌস্তভের মাথায় আঘাত লাগে। যদিও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ভোট গ্রহন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে সৃজন ভট্টাচার্য। এদিন সকালে যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য বারুইপুরে যান। সেখানে একটি বুথে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
We hate spam as much as you do