ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে গোল করেন ভিনিসিয়ার জুনিয়র। এরপরেই গোটা দলকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ‘সাম্বা ডান্স’ করতে দেখা যায়। আনন্দে আত্মহারা সমর্থকরাও। এর ঠিক ৬ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ, ১৩ মিনিটে রিচার্লিসনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার।
৪-১ এ শেষ আটে লুলার দেশ, উড়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়া,
ডিসেম্বর ০৬, ২০২২
বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন রুপকথার কাহিনী লিখল ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে যে দলটা মুখ থুবড়ে পরেছিল, সেই দলটাই দক্ষিণ কোরিয়াকে কার্যত কাঁদিয়ে ছাড়ল। স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ সেলেকাওরা বুঝিয়ে দিল কেন তারা পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন। সমর্থকদের বিধ্বংসী ফুটবল উপহার দিল তারা। ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ আটের টিকিট পাকা করে ফেলল ব্রাজিল। অন্যদিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল দক্ষিণ কোরিয়া।
ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে গোল করেন ভিনিসিয়ার জুনিয়র। এরপরেই গোটা দলকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ‘সাম্বা ডান্স’ করতে দেখা যায়। আনন্দে আত্মহারা সমর্থকরাও। এর ঠিক ৬ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ, ১৩ মিনিটে রিচার্লিসনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার।
যার মাসুল দিতে হল এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়াকে। স্বাভাবিক ভাবেই পেনাল্টি পেয়ে যায় সেলেকাওরা। পেনাল্টি কিক করেন চোট সারিয়ে ফিরে আসা ব্রাজিলের তারকা নেইমার। অনবদ্য শট মারেন তিনি। যা বাঁচানোর ক্ষমতা ছিল না কোরিয়ান গোলরক্ষকের। নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করা মাত্রই সেলিব্রেশনে মাতল গোটা দল। তখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তিতের ছেলেরা। এরপর একাধিক আক্রমণে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।
কিছুক্ষণের জন্য বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল নেইমারদের। তবে গোলের সুযোগ পারছিলেন না সনরা। অন্যদিকে প্রতি আক্রমণে যায় সেলেকাওরা। ২৯ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করেন ব্রাজিলের নবাগত রিচার্লিসন। আবারও গোটা দল সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে নাচ করে। এমনকি রিচার্লিসনের সঙ্গে পা মেলাতে দেখা যায় কোচ তিতে সহ রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ফুটবলারদের। আর গ্যালারিতে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের চিৎকারে কান পাতা দায় হয় যায় কোরিয়ানদের।
তখন বেশ অসহায় লাগে কোরিয়ানদের। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৩৬ মিনিটের মাথায় লুকাস পাকুয়েতা গোল করে আরও চাপে ফেলে দেন এশিয়ার দলকে। বলাই চলে, পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যেন কাঁদিয়ে ছাড়ছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। প্রথমার্ধে গুটি কয়েকবার আক্রমণে গেলেও গোলের খাতা খুলতে ব্যর্থ তারা। প্রথমার্ধ শেষে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে ব্রাজিল। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমার্ধে ৪ টি গোল পায় সেলেকাওরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে ছিল ব্রাজিল। ৫৪ মিনিট নাগাদ গোলের সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেননি রাফিনহা। এরপর দুই দলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ৬৪ মিনিটের মাথায় ব্রাজিল গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগের অসাধারণ পারফরম্যান্স গোল করতে ব্যর্থ কোরিয়ানরা। ৭৬ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বল ক্লিয়ার করেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার। সেই বল সুন্দর ভাবে রিসিভ করে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন পাইক সিউং হো। স্বস্তি ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া শিবিরে।
এরপরেই শুরু হয় দুই দলের মধ্যে তুল্যমূল্য লড়াই। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল কেউই যেন কাউকে এক ইঞ্জিও জায়গা ছাড়তে রাজি নয়। একের পর এক আক্রমণ প্রতি আক্রমণ চলছিল মাঠের মধ্যে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল করতে পারেনি পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্কোরলাইন ৪-১। আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির। অন্যদিকে হাসি ভরা মুখ নিয়ে গ্যালারি ছাড়ল ব্রাজিলের সমর্থকরা। তাদের নিরাশ করেননি দলের ফুটবলাররা। আর একরাশ হতাশা নিয়ে গ্যালারি ছাড়তে হল কোরিয়ানদের।
We hate spam as much as you do