কমিশনের তথ্যই বলছে, যোগীরাজ্যে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। যার মধ্যে ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত, ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটার ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট, ৮৩ লক্ষ ভোটার নিখোঁজ এবং ৯ লক্ষের সামান্য অধিক অনুপস্থিত। এত ভোটার যদি বাদ পড়েন তাহলে তা বিজেপির জন্যই অস্বস্তিকর। খোদ যোগী আদিত্যনাথ আগেই বলেছেন, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়তে চলেছে তাদের বেশিরভাগটাই বিজেপির। এত নাম যাতে বাদ না-যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশও দেন তিনি। তাতেও লাভ হয়নি। আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ৩ কোটির কাছাকাছি। এরা বাদ যাবেনই। পরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। কারণ, এখনও আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা জানা যায়নি। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এ নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। অখিলেশের মতে, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় বিজেপির গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে। যা ভোট বাদ পড়ছে, তা বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের পকেট ভোট।”
উত্তরপ্রদেশে SIRএ ৩০℅ নাম বাদ, আতঙ্কে বিজেপি অতি তৎপর
১০ জানুয়ারি ২০২৬
যে ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যোগীর রাজ্য থেকে বাদ হয়েছে ২.৮৯ কোটি ভোটার। বিশেষ করে শহারঞ্চলগুলো থেকেই ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এতেই ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটে বিপদের আঁচ পাচ্ছে বিজেপি! ড্যামেজ কন্ট্রোলে তুঙ্গে তৎপরতা। চলছে বৈঠকের পর বৈঠক। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক-সহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে জারি হয়েছে নির্দেশিকা। গো-বলয়ের সবচেয়ে বড় রাজ্যটিকে দখলে রাখতে বিষয়টিকে লঘু করে দেখতে নারাজ পদ্ম বাহিনী।
এসআইআর-এর জেরে লখনউতে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, প্রায় ৩০ শতাংশ। তালিকায় তারপরেই রয়েছে গাজিয়াবাদ, প্রায় ২৮ শতাংশ। একইভাবে, উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর, কানপুর, প্রয়াগরাজ, মীরাট, গৌতম বুদ্ধ নগর, হাপুর, সাহারানপুর এবং আগ্রার মতো প্রধান শহরগুলিতে অসংখ্য ভোটার বাদ পড়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়ও বিজেপি ভোট হারিয়েছে বলে দলীয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পর্যালোচনায় ধরা পড়েছে যে, দলটি বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় প্রায় ১০ লাখ ভোটারকে হারিয়েছে। উল্লেখযোগ্য এইসব আসনে গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২২) বিজেপি মাত্র পাঁচ থেকে ২০ হাজার ভোটে জিতেছিল।
কমিশনের তথ্যই বলছে, যোগীরাজ্যে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। যার মধ্যে ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত, ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটার ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট, ৮৩ লক্ষ ভোটার নিখোঁজ এবং ৯ লক্ষের সামান্য অধিক অনুপস্থিত। এত ভোটার যদি বাদ পড়েন তাহলে তা বিজেপির জন্যই অস্বস্তিকর। খোদ যোগী আদিত্যনাথ আগেই বলেছেন, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়তে চলেছে তাদের বেশিরভাগটাই বিজেপির। এত নাম যাতে বাদ না-যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশও দেন তিনি। তাতেও লাভ হয়নি। আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ৩ কোটির কাছাকাছি। এরা বাদ যাবেনই। পরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। কারণ, এখনও আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা জানা যায়নি। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এ নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। অখিলেশের মতে, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় বিজেপির গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে। যা ভোট বাদ পড়ছে, তা বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের পকেট ভোট।”
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। বিপদের আঁচ পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এবং অন্যান্যরা একটি ভার্চুয়াল সভা করেছেন। এতে সাংসদ, বিধায়ক, এমএলসি, মন্ত্রী, সংগঠনের নেতা এবং জেলা সভাপতি-সহ বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। দলের রাজ্য সংগঠনও বৃহস্পতিবার একটি সভা করেছে।
বৈঠকে, দলীয় বিধায়কদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে এবং বিষয়টিকে ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সাংগঠনিক নেতাদের বলা হয়েছিল যে, পদাধিকারীদের অবশ্যই বিধানসভা, মণ্ডল এবং ওয়ার্ড স্তরে ফর্ম-৬ সরবরাহ করতে হবে। এই আদেশ সমস্ত জেলা সভাপতি, বিধান পরিষদ, বিধায়ক, সাংসদ এবং মন্ত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। দলের নির্দেশ, একটি নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় সাংসদ বা বিধায়ক না থাকলে, বিধান পরিষদ এবং রাজ্যসভার সাংসদদের দায়িত্ব পালনের জন্য মোতায়েন করা উচিত।
দলীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক ক্ষতি রোধে নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা ও কর্মীদের বলেছেন যে- দল যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দৈনিক বুথ-স্তরের রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, শহরের ভোটের উপর বিশেষ মনোযোগী হওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতিদের ১০ জনের একটি দল গঠন করতে হবে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় দৈনিক অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রচারের সময়কালে সমস্ত পদাধিকারীকে বুথে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি বিস্তৃত পর্যালোচনার হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।
বিজেপি সূত্র অনুসারে, দলের হাইকমান্ড প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য ওবিসি মোর্চার সভাপতি এবং রাজ্যসভার সাংসদ কে লক্ষ্মণকে মোতায়েন করেছে।
We hate spam as much as you do