Tranding

04:30 PM - 22 Mar 2026

Home / Politics / কুড়মিদের মোদির সভায় যেতে নিষেধ করলেন অজিত মাহাতো

কুড়মিদের মোদির সভায় যেতে নিষেধ করলেন অজিত মাহাতো

রবিবার পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর সমর্থনে গেঙ্গাড়ায় নির্বাচনী সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার কুড়মি সমাজের। বিজেপি ভেবেছিল, এই কুড়মিদের দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ভরিয়ে দেবে। কিন্তু সেই গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা তথা পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী অজিত প্রসাদ মাহাতো। তিনি কুড়মিদের বার্তা দিয়েছেন, ‘কোনও লোকের প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে যাওয়া উচিত নয়। উনি প্রধানমন্ত্রী বলেই কি যেতে হবে নাকি? কুড়মিদের জন্য কী করেছেন প্রধানমন্ত্রী?

কুড়মিদের মোদির সভায় যেতে নিষেধ করলেন অজিত মাহাতো

কুড়মিদের মোদির সভায় যেতে নিষেধ করলেন অজিত মাহাতো

১৮ মে ২০২৪

ভোট শুরুর আগে থেকেই বেসুরো হয়েছে জঙ্গলমহলের কুড়মি সমাজ । কার্যত গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁদের এই বেসুরো বার্তা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই কুড়মি সমাজের মাথারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা আর কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন না। পরিবর্তে তাঁরা নিজেরা প্রার্থী দেবেন। অথচ এই কুড়মি সমাজের সমর্থনের ওপর ভর দিয়েই ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে ঝড় তুলেছিল পদ্মশিবির। সেই সুর ধরে রেখেই উনিশের ভোটে জঙ্গলমহলের ৫টি লোকসভা কেন্দ্রেই ফুটেছিল পদ্মফুল। তবে একুশের ভোটে সেই সুরে ছন্দপতন ঘটে কিছুটা। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার বেশির ভাগ আসনে বিজেপি(BJP) জিতলেও, আদিবাসী মহল্লায় জমি ফিরিয়েছিল তৃণমূল। এবারেও কুড়মিরা জঙ্গলমহলের ৫টি লোকসভা কেন্দ্রেই আলাদা করে নির্দল প্রার্থী দিয়েছে বিজেপির রাতের ঘুম ছুটিয়ে। এর মাঝেই আগামিকাল পুরুলিয়ার বুকে পদ্মপ্রার্থীর হয়ে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এবার কুড়মি সমাজের প্রধান উপদেষ্টা অজিত মাহাতো কুড়মিদের বার্তা দিয়েছেন, মোদির সভায় না যেতে। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে পদ্মশিবিরের।


রবিবার পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের  বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর সমর্থনে গেঙ্গাড়ায় নির্বাচনী সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার কুড়মি সমাজের। বিজেপি ভেবেছিল, এই কুড়মিদের দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ভরিয়ে দেবে। কিন্তু সেই গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা তথা পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী অজিত প্রসাদ মাহাতো। তিনি কুড়মিদের বার্তা দিয়েছেন, ‘কোনও লোকের প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে যাওয়া উচিত নয়। উনি প্রধানমন্ত্রী বলেই কি যেতে হবে নাকি? কুড়মিদের জন্য কী করেছেন প্রধানমন্ত্রী? জঙ্গলমহল এলাকায় বিজেপির ৫জন এমপি রয়েছেন, তাঁরা কেউ একদিনের জন্যও কুড়মিদের নিয়ে কোনও কথা বলেননি। তাঁদের দলেরই তো প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের এমপি করে আমাদের কী হবে? ওঁরা শুধুমাত্র আজ্ঞাবহ হয়েই থাকবে। আমাদের গোলাম বানাবে। ওরা এখানে লোকের ক্ষতি করবে, ভালো করতে পারবে না।  অভিজাত শ্রেণির কিছু মানুষ, যারা রাজনীতিটাকে কুক্ষিগত করতে চায়, সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। এই নির্বাচনেও প্রতিবাদ করছি।’


বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে এখানেই থেমে যায়ননি অজিত। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি বলে কিছু বিজেপি নেতা বলে বেড়াচ্ছেন যে, আমি নাকি ভোট কাটতে দাঁড়িয়েছি। আমাদের কি ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার নেই? শুধুমাত্র ওদেরই কি ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার আছে? ওরাই দেশের মালিক হবে, আর আমরা তাদের গোলাম হব? ওরা আমাদের পায়ের জুতো করে রাখতে চায়। বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কুড়মিদের নিয়ে খারাপ কথা বলেছিলেন, তাঁর ঘরে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু, জেলার রাজনৈতিক নেতারা কোনও প্রতিবাদ করেননি। জঙ্গলমহলে স্বায়ত্তশাসন পরিষদের দাবি জানাচ্ছি। জঙ্গলমহলে কেউ যেন নিজের উপনিবেশ তৈরির চেষ্টা না করে।’ বস্তুত অজিতের এই বক্তব্যই এখন জঙ্গলমহলজুড়ে ঝড় তুলেছে। যদিও মুখ বাঁচাতে এখন পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিবেক রাঙা দাবি করছেন, ‘অজিতবাবুর আহ্বানে কিছুই হবে না। উনি যেমন খুশি বলতেই পারেন। কিন্তু, কুড়মি সমাজ আর বোকা নেই, যে তাঁদের যা খুশি বলে বোকা বানিয়ে রাখা যাবে। কুড়মি সমাজের বহু শিক্ষিত মানুষ দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। জ্যোতির্ময় সিং মাহাত পার্লামেন্টে কুড়মিদের দাবির বিষয়ে সরব হয়েছেন একথা গোটা জেলাবাসী জানে। তাই মিথ্যা কথা বলে রাজনীতি করা যাবে না। অজিতবাবুর ওই আহ্বান সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সভায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে।’ কিন্তু বিজেপির নেতাদের অন্তর থেকে ভয় যাচ্ছে না। কেননা শেষপর্যন্ত মোদির সভায় ভিড় না হলে তাঁদের মুখ পুড়বে। আর তাই ম্নোদির সভায় অনান্য জেলা ও ঝাড়খন্ড থেকে লোক এনে ভরাবার পরিকল্পনা নিচ্ছে পদ্মশিবির।


তবে অজিতের এহেন বক্তব্যে এবং অবস্থানে তৃণমূল বেজায় খুশি। কেননা উনিশের ভোটে জঙ্গলমহলের ৫টি লোকসভা কেন্দ্রেই বিজেপির জয়ের নেপথ্যে ছিল কুড়মি সমাজের সমর্থন। অথচ ওই ৫টি লোকসভা কেন্দ্রেই ২০১৪ সালের তুলনায় তৃণমূলের (TMC) ভোটপ্রাপ্তির হার ও সংখ্যা দুইই বেড়েছিল। তারপরেও সেইবার তৃণমূলকে জঙ্গলমহল থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল খালি হাতে। কিন্তু এবার কুড়মিরাই নিজেরা বিদ্রোহী হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁদের নির্দল প্রার্থীরা আদতে বিজেপির দিকে যাওয়া  ভোটই কাটবেন। আর সেখানে বিজেপির হাত থেকে জঙ্গলমহলের ৫টি লোকসভা কেন্দ্রই হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কার্যত অজিতের বিদ্রোহ বিরোধীদের ঝুলিতে লাভের কড়ি এনে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে। অজিত আর কুড়মিদের অবস্থানের দরুণ এখন জঙ্গলমহলে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূলের ।

Your Opinion

We hate spam as much as you do