হায়দ্রাবাদে ছিল এইমুহূর্তে আইএসএলে যথাক্রমে সবচেয়ে বেশী গোল করা ও গোল বাঁচানো তারকা ওগবেচে (৯টি গোল) ও লক্ষীকান্ত কাট্টিমনি (৩৩টি সেভ এই ম্যাচের আগে অব্দি)। তার উপর প্রথমার্ধেই সবুজ - মেরুন স্কোয়াডের দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ম্যাকহিউ ও আক্রমণ ভাগের স্তম্ভ, মোহনবাগান মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হুগো বুমো চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। কিন্তু তাতেও হুয়ান ফেরান্দর ছেলেরা দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিলেন। সৌজন্যে অ্যাটাকিং থার্ডের ত্রয়ী - ডেভিড উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ ও লিস্টন কোলাসো। যাদের বোঝাপড়া ও মুহুর্মুহু আক্রমণ রয় কৃষ্ণর অভাব একবারের জন্যেও বুঝতে দেয়নি।
হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় এটিকে মোহনবাগানের, এগিয়ে চলেছে পালতোলা নৌকো
কলকাতার তিন প্রধানের একটি ক্লাব এখনও আইএসএলে আসেনি । আরেকটি ক্লাব এলেও ব্যর্থতার কানাগলি থেকে বেরিয়ে এখনও সাফল্যের মুখ দেখেনি। বাকি রইল যে ক্লাবটি অর্থাৎ এটিকে মোহনবাগানই এখন কলকাতা ফুটবলের মুখ।
দুই বিদেশী খেলোয়ারের বিশ্বমানের অ্যাসিস্ট্ ও দুই স্বদেশি খেলোয়াড়ের বিশ্বমানের ফিনিস। এতেই বাজিমাত সবুজ - মেরুন ব্রিগেডের। যদিও বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া না হলে আরও ব্যবধানে জিততে পারত মেরিনার্সরা।
হায়দ্রাবাদে ছিল এইমুহূর্তে আইএসএলে যথাক্রমে সবচেয়ে বেশী গোল করা ও গোল বাঁচানো তারকা ওগবেচে (৯টি গোল) ও লক্ষীকান্ত কাট্টিমনি (৩৩টি সেভ এই ম্যাচের আগে অব্দি)। তার উপর প্রথমার্ধেই সবুজ - মেরুন স্কোয়াডের দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ম্যাকহিউ ও আক্রমণ ভাগের স্তম্ভ, মোহনবাগান মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হুগো বুমো চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। কিন্তু তাতেও হুয়ান ফেরান্দর ছেলেরা দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিলেন। সৌজন্যে অ্যাটাকিং থার্ডের ত্রয়ী - ডেভিড উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ ও লিস্টন কোলাসো। যাদের বোঝাপড়া ও মুহুর্মুহু আক্রমণ রয় কৃষ্ণর অভাব একবারের জন্যেও বুঝতে দেয়নি।
হায়দ্রাবাদ এই আইএসএলে যে ফর্মুলায় খেলে সাফল্য পেয়েছে অর্থাৎ সেই প্রেসিং ফুটবল থেকে সরে এসে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলার চেষ্টা করে। তবে তাদের সমস্ত আক্রমণ মোহনবাগান ডিফেন্সের পায়ের জঙ্গলে বার বার হারিয়ে গেছে। উল্টে নবাগানের কাউন্টার অ্যাটাক বার বার হায়দ্রাবাদ ডিফেন্সকে অবিন্যস্ত করেছে।
দ্বিতীয়ার্দ্ধে হায়দ্রাবাদ কোচ মানুয়েল রোকা দুই তরুণ তুর্কি ইয়াসির ও রোহিত দামুকে নামানোয় হায়দরাবাদ আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ে। বিশেষ করে ইয়াসিরের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলের সামনে বার বার প্রবীর দাস, তিরিদের অসহায় লেগেছে।
৫০ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত হায়দ্রাবাদ। বক্সের বাইরে প্রবীর দাস দৃষ্টিকটু ভাবে ফাউল করেন ইয়াসিরকে। বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইয়াসিরের ফ্রিকিক তাঁর সতীর্থের মাথায় লেগে রোহিত দামুর কাছে চলে আসে। তাঁর দুরন্ত ভলি বারে লেগে ফিরে আসে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছিল যে বল বার পোস্টে লাগার পর গোল লাইন অতিক্রম করেছে। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় যে রেফারির সিদ্ধান্তই সঠিক।
এর পর বেশ কিছুক্ষন আর হায়দ্রাবাদকে ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে মনভীর, লিস্টনরা হায়দ্রাবাদ ডিফেন্ডারদের বেদম করে দেন। ৫৬ মিনিটে মোহনবাগানের প্রথম গোল। প্রতিআক্রমণে ওঠা ডেভিড উইলিয়ামস ডানপ্রান্ত থেকে বল ভাসিয়ে দেন লেফট ফ্ল্যাঙ্ক থেকে দুরন্তগতিতে রান নেওয়া লিস্টনকে। লিস্টন সুন্দরভাবে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে আড়াআড়ি ভাবে ঢুকে পড়েন হায়দ্রাবাদের পেনাল্টি বক্সে। বামদিকে থেকে যখন তাঁর ডানপায়ে নেওয়া চোখজোড়ানো ইনসুইঙ্গার জালে জড়াচ্ছে, হায়দ্রাবাদ ডিফেন্ডাররা তখন দর্শকের ভূমিকায় (১-০)। যত দিন যাচ্ছে লিস্টন ততই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন। অন্যান্য ম্যাচের মত এই ম্যাচেও তাঁকে রুখতে হায়দরাবাদ ডিফেন্ডারদের কালঘাম ছুটে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই খেলা বজায় রাখতে পারলে আগামী দিনে ভারতের জাতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাচের তুরূপের তাস হয়ে উঠতে পারেন লিস্টন। বাইচুং ভুটিয়া, সুনীল ছেত্রীর পর তাঁকেই এই মুহূর্তে ভারতের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনে করা হচ্ছে যিনি রোজই নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
ফিরে আসা যাক ম্যাচে, লিস্টনের গোলের দুই মিনিট পর ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মোহনবাগানের। জনি কাউকোর দুরন্ত চিপ ধরে হায়দ্রাবাদ পেনাল্টি বক্সে ডানপ্রান্ত থেকে ঢুকে পড়েন মনবীর সিংহ। গোলকিপারকে পরাস্ত করে তাঁর শট বটম কর্নার দিয়ে জালে ঢুকে যায় (২-০)। এরপর গোলশোধ করতে মরিয়া হায়দ্রাবাদ একের পর এক আক্রমণ শানায়। যার ফলস্বরূপ প্রতিআক্রমণে ৬৬ মিনিটের গোল। বাদিক থেকে ইয়াসিরের স্কোয়ার পাসে ওগবেচের ফলস গোলের সুযোগ করে দেয়। গোলমুখী শট অমরিন্দর সামনে চাপড়ে ফেলেন। ফিরতি বল গোলে ঠেলতে অসুবিধা হয়নি চিয়ানিসের (২-১)। এরপর মোহনবাগান বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরী করে। তবে লিস্টন দুটি নিশ্চিত সুযোগ মিস করে নিজেকে হ্যাট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন। প্রথমবার কিয়ানের মাইনাস থেকে পাওয়া বল তিনি ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারেননি। দ্বিতীয়বার গোলকিপারকে কাটিয়েও দুরহ কোণ থেকে তিনি বাইরে মারেন। রেফারি ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় দেন। তবে তাতে খেলার ফলাফল বদলায় নি। নর্থইস্ট ম্যাচের আগে এই জয় নিঃসন্দেহে মোহনবাগানকে অক্সিজেন যোগাবে।k
We hate spam as much as you do